অথবা, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতিতে মাঠকর্ম অনুশীলনের পরিধিসমূহ বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ আলোচনা কর।
উত্তর।। ভূমিকা : বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিকল্পিত পরিবার গঠন,মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মা ও শিশুদের অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষার জন্য বহুমুখী কার্যাবলি পরিচালনা করে যাচ্ছে।সংগঠনটিতে মাঠকর্ম অনুশীলনকারী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতিতে মাঠকর্ম অনুশীলন/ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ৪টি ক্ষেত্র : নিম্নে এগুলো বর্ণনা করা হলো :
১. ক্লিনিক্যাল ও নন ক্লিনিক্যাল সেবা : বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে সমগ্র দেশে ৪৩টি স্থায়ী ক্লিনিক রয়েছে। এই বিভাগের অধীনে ১৯৫৩ সালে সমিতির প্রতিষ্ঠালগ্নেই পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি চালু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত করে Clinic ভিত্তিক এ কর্মসূচি চালু হয়। বর্তমানে দেশের ২০টি জেলায় এ ধরনের ২০টি ক্লিনিক রয়েছে। এ ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান, সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং স্বল্প কিংবা বিনামূল্যে ওষুধপত্র সরবরাহ করা হয়।মাঠকর্ম অনুশীলনকারী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীরা ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা,টিকাদান, সাধারণ রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে নারী ও পুরুষ উভয়কেই সচেতন করে তুলতে পারে।
২. পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি : বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি জন্ম নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। জন্ম নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মসূচিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : i. Clinical Method and ii. Non-Clinical Method. Clinical Method কে আবার স্থায়ী পদ্ধতি ও অস্থায়ী পদ্ধতি এ দু’ভাগে ভাগ করা যায়। স্থায়ী পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে পুরুষদের জন্য ভ্যাসেকটমি এবং মহিলাদের জন্য টিউবেকটমি। অস্থায়ী পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে IUD, নরপ্লাট, ইনঞ্জেকশন ইত্যাদি।অন্যদিকে, Non-Clinical Method এর মধ্যে রয়েছে কনডম, খাবার বড়ি, ফেনাবড়ি, জেলি ইত্যাদি। মাঠকর্ম অনুশীলনকারী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্রে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তারা এসব পদ্ধতি ব্যবহারে অনেকের মধ্যে যে কুসংস্কার থাকে সে কুসংস্কার দূরীকরণেও ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করতে পারে।
৩. বস্তি এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা : শহরের জনগণ বিশেষত বস্তিবাসীদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা ও ছোট পরিবার গঠনের মনোভাবের উন্নয়ন এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। এ প্রকল্পের অধীনে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় জরিপ চালোনো হয়। মাঠকর্ম অনুশীলনকারী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীরা এ জরিপ কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে।
৪. প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি : ১৯৭২ সাল থেকে মিল ও ফ্যাক্টরিসমূহে এবং ১৯৮০ সাল থেকে Motor Driver Association এর সাথে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে লক্ষ্যভুক্ত জনসমষ্টির মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাকে উন্নয়নে সংগঠিত দল ব্যবহার করা এবং পরিবার পরিকল্পনাকে তাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট করা। মাঠকর্ম অনুশীলনকারী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীরা এক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. পুরুষদের সচেতনায়ন : ক্যানভাসারদের ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ছোট পরিবার গঠন ও পরিকল্পনার ধারণার উন্নয়ন ঘটানো এ প্রকল্পে উদ্দেশ্য। ১৯৮৩ সালে এ প্রকল্প চালু হয়। বর্তমানে ২৩১ জন ক্যানভাসারের মাধ্যমে ১১টি শাখায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেও মাঠকর্ম অনুশীলনকারী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীরা ভূমিকা রাখতে পারে। তারা ক্যানভাসারদের সাথে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে পারে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতিতে উপর্যুক্ত কার্যাবলি ছাড়াও জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মাঠকর্ম অনুশীলনকারী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীরা গবেষণা ও জরিপ কার্যাবলি পরিচালনা করতে পারে। তাছাড়া লক্ষ্য দলভুক্তদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়াও জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করতেও তারা অবদান রাখতে পারে। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সমিতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেও তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারে।

Leave a Reply