অথবা, জাতীয় উন্নয়নে ইউসেপ বাংলাদেশের অবদান আলোচনা কর।
অথবা, ইউসেপ বাংলাদেশের অবদানসমূহ বর্ণনা কর।
অথবা, ইউসেপ বাংলাদেশের ভূমিকাগুলো উল্লেখ কর।
উত্তর।। ভূমিকা : ইউসেপ বাংলাদেশ জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখে চলেছে। এ সংস্থাটি জন্মলগ্ন থেকেই মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে।
জাতীয় উন্নয়নে ইউসেপ বাংলাদেশ এর ভূমিকা : নিম্নে জাতীয় উন্নয়নে ইউসেপ বাংলাদেশ এর ভূমিকা আলোচনা করা হলো :
১. শিক্ষা কার্যক্রম : ইউসেপ বাংলাদেশ জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে ভূমিকা রেখে চলেছে। ২০০২ সালের তথ্যানুযায়ী, ইউসেপ বাংলাদেশ ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামে ৩০টি সাধারণ স্কুল পরিচালনা করছে।৩০টি স্কুলে প্রতি সেশনে গড়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২১,১৮৩ জন।স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীর অনুপাত ৫৯ঃ৫১।
২. টেকনিক্যাল ট্রেনিং কার্যক্রম : ২০০২ সালের তথ্যানুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ইউসেপের ৩টি টেকনিক্যাল স্কুল রয়েছে। স্কুলগুলোতে প্রতি সেশনে গড়ে ১,৪৯৩ জন ছাত্রছাত্রী টেকনিক্যাল ট্রেনিং এর সুবিধা পাচ্ছে। টেকনিক্যাল স্কুলগুলোতে ১৫টি ট্রেড চালু রয়েছে। এসব ট্রেড থেকে শিক্ষা নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।এতে এটা স্বল্প পরিমাণে হলেও দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করছে। বর্তমানে (২০০২) টেকনিক্যাল স্কুলগুলোতে ১৫টি ট্রেড চালু রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- অটোমেকানিক, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ম্যাচিনিস্ট,ইলেকট্রনিক্স, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, অফসেট প্রিন্টিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল উড ওয়ার্কিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্যুইং অপারেটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল উলনিটিং অপারেটিং, গার্মেন্টস ফিনিশিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গার্মেন্টস মেশিন মেকানিক, টেক্সটাইল স্পিনিং, টেক্সটাইল ওয়েল্ডিং, টেক্সটাইল নিটিং ও অফসেট প্রিন্টিং।
৩. প্যারা ট্রেড প্রশিক্ষণ : ইউসেপ বাংলাদেশ এর ৩টি প্যারা ট্রেড সেন্টার রয়েছে। প্যারা ট্রেড প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫টি কোর্সে তার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এগুলো হলো : ১. ইলেকট্রিক হাউজ ওয়্যারিং অ্যান্ড ডেকোরেশন, ২.এমব্রয়ডারি অ্যান্ড চুমকি ফিটিং, ৩. সাইনবোর্ড অ্যান্ড ব্যানার রাইটিং, ৪ স্কিন প্রিন্টিং অ্যান্ড টেইলরিং। উল্লেখ্য ইউসেপ বাংলাদেশ এর এসব প্যারা ট্রেড কোর্সগুলো দেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব প্যারা ট্রেড কেন্দ্রের সংখ্যা এখনো কম; তাই ভবিষ্যতে এ সেন্টারের সংখ্যা ও সেন্টারগুলোতে প্রশিক্ষণকারীর ভর্তির সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে।এতে দেশও জাতি উপকৃত হবে।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি : ইউসেপ বাংলাদেশ সাধারণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছেলেমেয়েদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য একটি বহুমুখী কর্মসংস্থান কার্যক্রম গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন অফিস, আদালত, শিল্পকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া। এটি ইউসেপ বাংলাদেশ এর একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস। এর মাধ্যমে অনেক ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হতে পারে। ইউসেপ বাংলাদেশ এর এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াসে অনেক শিক্ষণীয় ব্যাপার আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এ ধরনের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করতে পারে।
৫. ইউসেপ ট্রেনিং সেল : ১৯৯০ সালের অক্টোবর থেকে এ সেল স্থাপনের মাধ্যমে ইউসেপ বাংলাদেশ তার কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। এতে দক্ষতার উন্নয়ন ঘটছে।
৬. শিশু অধিকার বিষয়ক কার্যক্রম : আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বড় হয়ে দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে।তাই শিশুদের অধিকার রক্ষা করা জরুরি। ইউসেপ বাংলাদেশ শিশুদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত কাজ ছাড়াও ইউসেপ বাংলাদেশে পথ নাটক প্রদর্শনী ও র্যালির আয়োজন করে।এতে এটি একদিকে যেমন সাংস্কৃতিক প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে; অপরদিকে, শিশুদের অধিকার রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে।

Leave a Reply