বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওর শ্রেণিবিভাগ লিখ।

অথবা, বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওসমূহ কত প্রকার ও কি কি?
অথবা, বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওর ধরন আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওসমূহকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়।
উত্তর।। ভূমিকা :
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫,৭০০ এনজিও চালু রয়েছে। তবে বিবিএস পরিচালিত Voluntarism in Bangladesh 2010 নামক এক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে এনজিও’র সাধ্যো ৮২,০০০। সমীক্ষা অনুযায়ী এনজিও এবং বেসরকারি অলাভজনক সংস্থাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমীক্ষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে অলাভজ্ঞনর বেসরকারি সংস্থার সংখ্যা ৯,১৫,০০০ (নয় লক্ষ পনেরো হাজার)। এসব এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মধ্যে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে। এসব সংস্থাগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অবস্থা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের মাঠকর্ম অনুশীলনের জন্য সংস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওর শ্রেণিবিভাগ : বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওগুলোকে তাদের কর্ম পরিধি ও সেবা প্রদানের প্রকৃতি অনুযায়ী নিম্নোক্ত চারটি ভাগে শ্রেণিবিভাগ করে বর্ণনা করা যেতে পারে। এগুলো হলো :
১. স্থানীয় এনজিও (Local NGO) : বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে জনসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে যেসব এনজিও গড়ে উঠেছে তাকে স্থানীয় এনজিও (Local NGO) বলে। এসব এনজিও বিভিন্ন জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। যেমন- টাঙ্গাইলে রয়েছে ‘এস এন এন, পাবনায় গড়ে উঠেছে ‘সমতা, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় গড়ে উঠেছে ‘পরিবর্তন’, ‘জি. কে. এস’, পল্লি দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা (PDBS) ইত্যাদি। স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এসব এনজিও সরকারি অনুদান, ঋণ, সদস্যদের চাঁদা, বিদেশি সাহায্য ও অনুদানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
২. জাতীয় এনজিও (National NGO): যেসব এনজিও সারা দেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে কর্মসূচি পরিচালনা করে যাচ্ছে, সেসব এনজিওকে জাতীয় এনজিও বলে। এসব এনজিওর প্রধান কার্যালয় ১টি হলেও সারা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জেও তাদের শাখা স্থাপন করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, পরিবেশ, ক্ষুদ্রঋণ,শিশুকল্যাণ, নারী কল্যাণ ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এ ধরনের জাতীয় এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, আরডি আর এস, টিএমএসএস, নিজেরা করি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্ৰ ইত্যাদি।
৩. আন্তর্জাতিক এনজিও (International NGO) : যেসব এনজিও নিজ দেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের কর্মকাণ্ড প্রসারিত করেছে, সেসব এনজিওকে আন্তর্জাতিক এনজিও বলে। এ ধরনের এনজিওগুলো দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাংলাদেশে যেসব আন্তর্জাতিক এনজিও কাজ করছে, সেগুলোর Country office বেশিরভাগই ঢাকায় রয়েছে এবং ঢাকা থেকে তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে Area-office কিংবা Local office স্থাপন করেছে। এসব এনজিও সম্পূর্ণরূপে বিদেশি অর্থায়নে ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তারা দেশীয় লোকজন নিয়োগ করে থাকে।বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে CARE Bangladesh, Save the Children UK, Save the Children-USA, CARITAS, World Vision ইত্যাদি।
৪. দাতা এনজিও (Donor NGO) : দেশে কিছু কিছু এনজিও রয়েছে যেগুলো আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ভিত্তিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত এনজিওগুলোকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে, সেসব এনজিগুলোকে পাতা এনজিও বলা হয়। বাংলাদেশে এসব এনজিওর Country office রয়েছে। এসব এনজিওর কাজই হলো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত এনজিওগুলোর মধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া ও কারিগরি সহায়তা প্রদান। এসব এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে, FORD Foundation, CANADIAN INTERNATION DEVELOPMENT AGENCY (CIDA), DANIDA, NORAD, SIDA, THE ASIA FOUNDATION, USAID ইত্যাদি।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে । যায় যে, বাংলাদেশে এনজিওদের কর্মতৎপরতার ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দু একটা এনজিও তাদের কর্মতৎপরতা শুরু করে। এগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মসমাজ (১৮২৮) ও রামকৃষ্ণ মিশন (১৮৯৬) উল্লেখ করার মতো। তবে ভারত বিভক্তির পর এদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম এনজিওটি হচ্ছে বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা সমিতি, যা ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর এদেশে এনজিও কর্মতৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে এ তৎপরতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a4%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%95/
পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079
or 01773270077

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*