অথবা, “নারীর ক্ষমতায়নে ধর্ম অন্তরায়” সংক্ষেপে আলোচনা কর ।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মীয় বাধা সম্পর্কে লিখ।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মীয় বাধাসমূহ উল্লেখ কর।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মীয় বাধাগুলো উপস্থাপন কর।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মীয় বাধাগুলো নিরূপণ কর।
উত্তরা৷ ভূমিকা : পুরুষ শাসিত সমাজে এখনো নারীকে পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছে। নারী আজ নানাভাবে নির্যাতিত, সামজের সর্বক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার মধ্যে ধর্মীয় বাধাসমূহ অন্যতম। বিভিন্ন ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে নারীকে অধস্তন করে রাখা হয়েছে।
ধর্মীয় বাধাসমূহ : নিম্নে নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মীয় বাধাসমূহ আলোচনা করা হলো :
১. ধর্মীয় আইন কানুন : নারীর ক্ষমতায়নে একটি বড় বাধা হলো পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রচলিত ধর্মীয় বিধিবিধান, রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠান। মনে করা হয় ধর্মীয় আইন কানুন পুরুষের পক্ষে সম্ভব কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ধর্ম নারীর মর্যাদা কোন অংশে খাটো করেনি বরং ধর্মের নিয়মগুলো পুরুষরা তাদের সুবিধামত ব্যবহার করে। আর এভাবেই
ধর্মীয় বিষয়াবলি নারীর মধ্যে হীনম্মন্যতার সৃষ্টি করে এবং নারীকে বঞ্চিত করে। এসকল ধর্মীয় বিধিবিধান নারীর ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করে।
২. ধর্মীয় কুসংস্কার : আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কার নারীর ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন বলা হয় রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী অংশগ্রহণ করতে পারবে না। নারীরা কেনাকাটা করতে পারবে না, নারীরা বাইরের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে না ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবে ধর্ম বলে নারী তার নিজের অবস্থানে থেকে সব কিছুই করতে পারবে। কিন্তু পিতৃতান্ত্রিক সমাজ তা মেনে না নিয়ে বরং ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে থাকে নিজেদের স্বার্থে।
৩. ফতোয়া : ফতোয়া বর্তমান সময়ে নারীর ক্ষমতায়নে বড় ধর্মীয় বাধা। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের মহিলারা এর শিকার হচ্ছে বেশি। গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে নারীদের নির্যাতন করা হয়। যেমন- বেত্রাঘাত করা, পাথর মারা, হিল্লা বিয়া ইত্যাদি ।
উপসংহার : পরিশেষে আমরা বলতে পারি, উপরের আলোচনা থেকে সহজেই বুঝা যায় ধর্মীয় দিকগুলো কিভাবে নারীকে ক্ষমতায়ন থেকে বঞ্চিত করছে। তাই নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মীয় সকল ধরনের কুসংস্কার দূর করতে হবে।

Leave a Reply