ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

লোকসাহিত্য হিসেবে বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় দাও।

অথবা, বাউলগানের বিকাশের ধারায় যেসকল সাধকদের পরিচয় পাওয়া যায় তা সংক্ষেপে লিখ।
অথবা, বাউল সাধক সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা কর।
অথবা, বাউল দর্শনের ক্রমবিকাশে যে কয়েকজন সাধক অবদান রেখেছেন তাদের সম্পর্কে আলোচনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
বাউল দর্শন বাঙালির জাতীয় দর্শন, বাঙালির চিন্তা ও মননে প্রস্ফুটিত ও বাংলার মাটিতে,বাংলার আবহে বিকশিত বাঙালির নিজের দর্শন, আপন দর্শনই হচ্ছে বাউল দর্শন,বাঙালির জীবন ও জগৎ সম্পর্কে বাস্তবমুখী নিজস্ব চিন্তাধারার সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় বাউল দর্শনে। আর এই বাস্তবমুখী জীবনবোধ বা দর্শনকে গড়ে উঠা একটি সংগীত আশ্রয়ী সম্প্রদায়ই হচ্ছে বাউল সম্প্রদায়। সংগীতই হচ্ছে এদের প্রাণ। আর এই সংগীত আশ্রয়ী সম্প্রদায়ের সদস্যরাই আমাদের নিকট বাউল নামে সুপরিচিত।
লোকসাহিত্য হিসেবে বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় : বিভিন্ন বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যে লালন ফকির, কালুশাহ, পাঞ্জুশাহ, পাগলা কানাই, মোহনদত্ত, গুরুচাদ, হাসন রাজা, মদন বাউল,হরিদাস, গোপীনাথ উল্লেখযোগ্য। নিম্নে কয়েকজনের পরিচয় দেওয়া হল :
লালন শাহ্ : লালন শাহ্ ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার ভাঁড়রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রবাদ আছে, এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এক সময় তিনি বাউল দলের সাথে গানে যান। পথে বসন্ত রোগাক্রান্তা হলে সঙ্গীরা তাঁকে নদীর তীরে ফেলে যান। সিরাজ সাঁই নামক জনৈক মুসলমান বাউল সাধক তাকে সেবা দিয়ে ভালো করেন। লালন তার শিষ্য হন এবং মরমি সাধনায় আত্মনিয়োগ করে। লালনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পর্কে কোনো কিছু জানা যায়নি। লালন শাহ্ একাধারে সাধক, দার্শনিক, কবি, গীতিকার ও সুরকার। রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক সর্বপ্রথম লালনের ২৯৮টি গান সংগ্রহ এবং ২০টি গান তৎকালীন ‘প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমেই লালন ফকির আধুনিক সমাজে পরিচিতি লাভ করে। লালন ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী। লালন বাংলার হিন্দু মুসলমান উভয় সমাজের কাছে সমান জনপ্রিয় ছিল। লালন শাহ্ ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
পাঞ্জুশাহ : মরমি কবি পাঞ্জুশাহ ১২৫৮ বঙ্গাব্দে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। তিনি মরমি সাধক হিরাজুতুলাহ খন্দকারের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি অসংখ্য ভাবসংগীত রচনা করেন। ১২৯৭ তিনি ‘ছহি ইস্কি ছাদেকী গওহোর’ নামে একখানা সুফিতত্ত্বমূলক কাব্য রচনা করেন। মরমি সংগীতের ক্ষেত্রে পাঞ্জুশাহ লালনশাহের ভাবশিষ্য ছিলেন। এই স্বনামধন্য মরমি কবি ১৩২১ বঙ্গাব্দে ২৮শে শ্রাবণ দেহত্যাগ করেন।
কালু শাহ্ : কালু শাহ্ পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা) উলাপাড়ার নিকটবর্তী কালীগঞ্জে ১৮১০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কালু শাহের বাল্যনাম ছিল অছিমুদ্দিন। গায়ের রং কালো হওয়ায় মা তাকে আদর করে কালু নামে ডাকতেন। আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন পরবর্তীকালে তিনি কালু শাহ নামে পরিচিত হন। তার রচিত প্রায় দু’হাজার গানের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচশত গান উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর উদ্ধারকৃত গানগুলো ‘বাউল সাধক কালু শাহ’ তাঁর গান গ্রন্থে
প্রকাশিত হয়েছে। কালুশাহ ১৯০৬ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাসন রাজা : ১৮৫৪ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মরমি কবি সাধক ও জমিদার। তিনি বহু ‘আধ্যাত্মিক গানের রচয়িতা। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত এই গানগুলো তাঁর ‘হাসন উদাস’ গ্রন্থে মুদ্রিত। তাঁর গানে প্রেম, বৈরাগ্যময় মরমি চেতনার প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। এইসব গানে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষঙ্গগুলো পাশাপাশি বিদ্যমান। ১৯২২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পাগলা কানাই : পাগলা কানাই ঝিনাইদহ জেলার লেবুতলা গ্রামে ১৮০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জারি ও ধুয়াগান রচয়িতা। তিনি ছিলেন স্বভাবকবি তিনি মুখে মুখে গান রচনা করতেন। তার রচিত ২০৪টি গান ডঃ মযহারুল ইসলাম কর্তৃক রচিত “কবি পাগলা কানাই” গ্রন্থে সংকলিত। তিনি ১৮৮৯ মৃত্যুবরণ করেন।
মনোমোহন দত্ত : মনোমোহন দত্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতমোড়া গ্রামে ১২২৪ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। আধ্যাত্মিক সাধনার রীতিনীতি পালনের পর অবসর সময়ে সংগীত ও কবিতা এবং তত্ত্বমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। মলয়া, পথিক, পাথেয় ময়না ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৩১৬ বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, বাউল গান কোনো জাতি ধর্ম মানে না। তবে তারা সমাজ সচেতন। তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাধক ও দার্শনিকদের কণ্ঠের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে সাম্য ও প্রেমের বাণী শুনিয়েছেন যুগে যুগে ।বাউলগান বা বাউল সাহিত্য প্রাচীনকাল থেকেই লোকের মুখে মুখে প্রচলিত হতে হতে আজকের এই সভ্য সমাজের দ্বারপ্রান্তে এসেও থেমে নেই। সাহিত্য সর্বদা চলমান। হয়তো সময়ের বা সুযোগের অভাবে তাকে কখনো নীরবে চলতে হয়। কিন্তু তারপরও তার সুপ্ত বিকাশ একদিন না একদিন ঘটবেই।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!