ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক বাধাসমূহ কী কী?

অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা বলতে কী বুঝ?
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক বাধাসমূহ উল্লেখ কর।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক বাধা সম্পর্কে লিখ।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক বাধা সম্পর্কে বর্ণনা দাও।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক বাধাসমূহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
নারীর ক্ষমতায়ন একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অঙ্গনে নারীর পদচারণা দুর্বল। অথচ অর্থনৈতিক শক্তিই হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নের প্রধান উৎস। কিন্তু আজ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীরা অনেক পিছিয়ে। এর পিছনে বহুবিধ সমস্যা জড়িত। নিম্নে নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক বাধাসমূহ আলোচনা করা হলো :
১. সম্পত্তির মালিকানার অভাব : নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হলো সম্পত্তির মালিকানার অভাব। কেননা আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীদের কোন ব্যক্তিগত সম্পদের মালিকানা নেই। এখানে সম্পদের মালিকানায় থাকে পুরুষরা। সম্পদের উত্তরাধিকার হয় পুরুষরা। উত্তরাধিকার সূত্রে নারীরা কিছু সম্পদ পেলেও তা পুরুষরা নিয়ন্ত্রণ করে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্মেই নারীরা সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়। একমাত্র ইসলাম ধর্মে মেয়েদের সম্পদের মালিকানার অধিকার দেয়া হয়। এভাবে সম্পদের সকল মালিকানা পুরুষদের হাতে থাকায় পুরুষরা সর্বময়।ক্ষমতার অধিকারী এবং এ সুবাধে পুরোপুরি নারীর উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে।
২. কর্মসংস্থানের অভাব : নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হলো নারীর কর্মসংস্থানের অভাব। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে নারীদের কোন কর্মসংস্থান লক্ষ্য করা যায় না। এর কারণ হলো নারীরা উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত। নারীদের অর্থনৈতিক কার্যাবলি ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নারীরা ঘরে সীমিত আকারে হাঁস-মুরগি পালন, হস্তশিল্প, কুটির শিল্প ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকলেও তাদের সে শ্রমের কোন মূল্য দেয়া হয় না। বর্তমানে নারী শিক্ষার হার কিছুটা বাড়লেও সে অনুসারে কর্মসংস্থান বাড়েনি। কর্মসংস্থানের অভাব নারীকে ক্ষমতা শূন্য করে রেখেছে।
৩. দারিদ্র্য : বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এক্ষেত্রে নারীদের অবস্থা আরো শোচনীয়। কারণ আমাদের দেশে নারীদের নেই কোন সম্পদের মালিকানা, নেই কোন কর্মসংস্থান, নেই কোন নিজস্ব পুঁজি বা মূলধন। এ কারণে নারীরা অর্থের মুখ দেখতে পারে না। ফলে তারা দারিদ্র্যের অথৈ গহ্বরে নিমজ্জিত।
উপসংহার : পরিশেষে আমরা বলতে পারি, উপরের আলোচনায় নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে যেসব বাধাসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে তা যদি সমাধান করা যায় তাহলে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!