ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয়করণ ঘটার কারণ কী?

অথবা, উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ যথাযথভাবে সম্পাদিত হচ্ছে না কেন?
অথবা, উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের সমস্যাবলি উল্লেখ কর।
অথবা, উপজেলা পর্যায়ে কেন কেন্দ্রীয়করণ হচ্ছে?
অথবা, উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের সমস্যাগুলো কী কী?
অথবা, উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীয়করণের অন্তরায়গুলো লেখ।
অথবা, উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীয়করণের অসুবিধাগুলো বর্ণনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বিকেন্দ্রীকরণ রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা বন্টনের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ সরকারের উচ্চতম পর্যায় থেকে নিম্নতম পর্যায়ে আইনপ্রণয়ন, বিচার সংক্রান্ত ও প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে শাসন ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। প্রকৃত পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসঙ্গতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বণ্টনই বিকেন্দ্রীকরণের মূল কথা।
উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ যথাযথভাবে সম্পাদিত না হওয়ার কারণ : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থায় নিদিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। এ ধরনের ব্যবস্থায় জনগণের একাত্মতা সৃষ্টি হয়, কারণ জনগণ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে শক্তিসম্পন্ন বলে মনে করে। উপজেলা পরিষদ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত একটি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন কারণে এ সংস্থাতে বিকেন্দ্রীকরণ যথাযথভাবে সংগঠিত হয়নি। প্রধাণত : নিম্নলিখিত কারণে উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয়করণ ঘটে। কারণ তিনটি নিম্নরূপ :
ক. সরকারি কার্যক্রমের কেন্দ্রীয়করণ : স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের প্রয়োজনীয় সেবার পরিমাণ ও বিভিন্নতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়দায়িত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় একে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। এর পরেও সরকারি কার্যক্রমের বিকেন্দ্রীকরণ যথাযথভাবে ঘটছে না।
খ. কার্যগত বিভক্তি : সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে কাজ তথা সেবার যে বিভক্তি ঘটে তা এক ধরনের কার্যগত বিভক্তি; কিন্তু অর্থগত অর্থে কোনো বিভক্তি বা বিভাজন নয়। স্থানীয় সরকার নিজেই আবার কেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে। এটা স্থানীয় সরকারের একটি বিশেষ প্রবণতা। এ প্রবণতাকে অধ্যাপক ইয়ং ‘স্থানীয় রাজনীতির অস্থায়ীকরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ প্রবণতার তিনটি বিশেষ দিক রয়েছে :
১. স্থানীয় সরকার যারা পরিচালনা করেন তাদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন;

২:স্থানীয় রাজনীতির বিস্তার;
৩. স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে জাতীয় সংঘ ও সমিতির উদ্ভব
একথা স্বীকৃত যে, উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে উপজেলায় সরকারি অনুদান বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি ও স্থানীয় পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে এবং জনগণের অধিকতর অংশ গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদ আহরণ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা আংশিকভাবে ফলদায়ক হলেও সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা সম্ভবপর হয়নি। বিশেষ করে সকল উপজেলার সমস্যা ও সম্পদের পরিমাণও এক নয়। প্রশাসনিক দিক হতে দেখা যায় যে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও কলহ দেখা দেয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশে সকল সরকার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার গঠনের প্রাক্কালে বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিলে ও কার্যক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়করণ ও আমলাতন্ত্রায়নের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সংস্থা উপজেলা পরিষদের রাজনীতিকরণ হয়েছে ও আমলাতন্ত্রের শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!