বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদান আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যাবলি বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক কী ভূমিকা পালন করছে?
পর্যালোচনা কর। রাজনৈতিক দলের ভূমিকা একান্ত অপরিসীম। বর্তমানে বাংলাদেশে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলিত। আর বহুদলীয়
উত্তর৷ ভূমিকা :
পৃথিবীর যে কোনো দেশের জন্য তার আর্থসামাজিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য শাসনব্যবস্থার প্রাণ হচ্ছে রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলো |বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আজ পর্যন্ত তাদের অন্যন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা : বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশটির আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলো প্রভূত ভূমিকা রেখে চলেছে। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো
১. সামাজিক স্থিতিশীলতা : একটি দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা আনয়নের ক্ষেত্রে সচেতন রাজনৈতিক দলের বিকল্প নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা আনয়ন করতে দেশের সরকার ও বিরোধী দলগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশের নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অতুলনীয়।
২. সামাজিক সংস্কার : উপমহাদেশের বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে সামাজিক উন্নয়নের প্রধান বাধা হলো বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার। আর এ কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে জ্ঞানের আলোতে আনতে হলে সর্বপ্রথম সামাজিক সংস্কার প্রয়োজন। এ সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বামপন্থি দলগুলো সর্বদা জনগণকে সে সাথে সরকারকেও প্রভাবিত করে ।
৩. সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি : একটি রাষ্ট্রের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটান। দেশের সরকার এমন ধরনের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেন, যেগুলো জনকল্যাণমুখী। এতে করে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দলের বিকল্প নেই ।
৪. সামাজিক বৈষম্য দূর করতে : বাংলাদেশের প্রাগ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে যুগে যুগে দেশের সামাজিক বৈষম্য দূর করতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। ১৯৭১ সালের পূর্বে এবং ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশে যে সামাজিক বৈষম্য উদ্ভূত হয়, তার দূরীকরণে রাজনৈতিক দলগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
৫. সমস্যা নির্বাচন : যে কোনো রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যে কোনো সমস্যা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সাহায্য করে থাকে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে শাসনকার্য পরিচালনা করতে হয়। সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলোই সমস্যা নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করে তোলে।
৬. সমস্যা সমাধান : রাজনৈতিক দলগুলো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো বাছাই করে এবং সাথে সাথে সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে সুচিন্তিত নীতি ও কর্মপন্থার নির্দেশ দেয়। সরকার অথবা বিরোধী দলগুলো এসব সমস্যা নির্ধারণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে।
৮. অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন : একটি দেশের রাজনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আর অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাকে একেবারেই অস্বীকার করার উপায় নেই। সেজন্য দেশের উন্নয়নে সরকারি দল অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
৯. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন : দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন জরুরি। সেক্ষেত্রে দেশের সরকারি দল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে তাদের কর্মসূচি প্রণয়ন করে। বর্তমান সরকারি দল তথা জোট সরকার দেশের অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছে।
১০. অর্থনৈতিক গতিশীলতা : যে দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা নেই সে দেশ বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে পারে না। এদিক থেকে বাংলাদেশে সরকারি ও বিরোধী দলগুলো খুবই সজাগ। কেননা, বাংলাদেশের অর্থনেতিক গতিশীলতা মূলত নির্ভর করে সরকারি ও বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচির উপর।
১১. বাজেট প্রণয়ন : বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো প্রভূত ভূমিকা পালন করে। কাজেই প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারি দল মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও বিরোধী দলগুলোও অনেক পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সরকারি দলের বাজেট যদি জনমুখী না হয়, তখন বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেগুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলে।
১২. অর্থনৈতিক ভারসাম্য : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অর্থনৈতিক ভারসাম্য অর্জন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য অর্জনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো অশেষ ভূমিকা রেখেছে।
১৩. সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা : বর্তমানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা রক্ষার্থে রাজনৈতিক দলগুলো প্রভূত সাহায্য ও সহযোগিতা করে থাকে। নির্বাচনের জন্য দরিদ্র ও যোগ্য প্রার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার্ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন মূলত রাজনৈতিক দলের হাতে কেন্দ্রীভূত। সুতরাং বলা যায় যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের সামাজিক স্থিতিবস্থা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিঃসন্দেহে অপরিহার্য।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079
or 01773270077

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*