সমষ্টি উন্নয়ন ও সংগঠন কার্যক্রমে শিক্ষানবিশ সমাজকর্মের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, সমষ্টি উন্নয়ন ও সংগঠন কার্যক্রমের শিক্ষানবিশ সমাজকর্মের ভূমিকা বর্ণনা কর।
অথবা, সমষ্টি উন্নয়ন ও সংগঠন কার্যক্রমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
অথবা, সমষ্টি উন্নয়ন ও সংগঠন কার্যক্রমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীর ভূমিকা বর্ণনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
শহর সমাজ উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য সমষ্টি সংগঠন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। সমষ্টি সংগঠন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে সমষ্টি সংগঠন কর্মী। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সমষ্টি সংগঠন কর্মী মূলত সমাজকর্মী হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে। সমষ্টি সংগঠন কর্মী শহর সমষ্টির সমস্যা, সমষ্টির জনগণের অংশগ্রহণ, সমন্বয়সাধন, পরিবর্তন আনয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন প্রভৃতি ব্যাপারে সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী তথ্য সংগ্রহকারী, প্রশিক্ষক,পরামর্শক, মীমাংসাকারী, শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সমষ্টি উন্নয়ন ও সংগঠনে শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী/মাঠকর্মীর ভূমিকা: সমষ্টি বলতে আমরা সাধারণত শহর ও গ্রামীণ সমষ্টিকে বুঝিয়ে থাকি। তাই সমষ্টির উন্নয়ন হয় দুইভাবে। যথা : ১. শহর সমষ্টির উন্নয়ন ২. গ্রামীণ সমষ্টির উন্নয়ন। নিয়ে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
শহর সমষ্টি উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমাজকর্মীর ভূমিকা : সমষ্টি সংগঠন বহুমুখী ও গতিশীল ভূমিকা পালন করেন।নিম্নে শহর সমষ্টি উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমাজকর্মীর ভূমিকা আলোচনা করা হলো :
১. সমষ্টির সাথে পরিচিত হওয়া : সমাজকর্মীর অন্যতম কাজ হলো শহর সমষ্টির জনগণের সাথে পরিচিত হওয়া তথা তাদের জন্য কাজ করা।শহর সমষ্টির ক্ষেত্রে সমাজ নিজে সমষ্টিতে গিয়ে তাদের সমস্যার প্রয়োজন, সম্পদ, সমষ্টির জনসংখ্যা, তাদের প্রকৃতি এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের ধরন প্রভৃতির সাথে পরিচিত হন। ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার,আলাপ-আলোচনা, সভাসমিতি, লেখালেখী প্রভৃতি উপায়ে কর্মী পরিচিতি হয়ে থাকে।
২. গবেষণা করা: সমষ্টি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জানার জন্য সমাজকর্মী গবেষণাধর্মী কাজ করে থাকেন।সমষ্টির সম্পদ, সমস্যা, তাদের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক অবস্থা নির্ভুলভাবে জানার জন্য সমষ্টি জরিপ অপরিহার্য।এর ফলে সমষ্টির প্রয়োজন ও সম্পদের মধ্যে সর্বোত্তমভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যায়।
৩. দ্বন্দ্ব নিরসন করা : শহর সমষ্টির অভ্যন্তরে প্রায়ই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে।কিন্তু সে দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সমষ্টির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে তোলে। সমাজকর্মী এক্ষেত্রে সমষ্টির বিভিন্ন দলের কোন্দল দূরীকরণার্থে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেন। সমষ্টির সকল ব্যক্তি ও দল যাতে একযোগে কাজ করে এবং সমষ্টির সার্বিক কল্যাণসাধনে সক্ষম হন।এজন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
৪. সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করা : শহর সমষ্টির জনগণ অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যা এবং প্রয়োজন সম্পর্কে উদাসীন থাকেন। ফলে সমস্যা সমাধানে তারা উদ্যোগ গ্রহণ করে না। কর্মী এক্ষেত্রে সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করেন এবং সমস্যার ব্যাপকতা তাদের সামনে তুলে ধরেন। নিজে সমস্যার সমাধান দেন না বরং সমাধান কৌশল নির্ণয় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, তথ্য, উপদেশ এবং নির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করেন ।
৫. সক্ষমকারীর ভূমিকা পালন : শহর সমষ্টি যখন তাদের নিজেদের প্রচেষ্টায় তাদের অবস্থার উন্নয়নে অক্ষম বা অপারগ হয় তখনই সমাজকর্মী তাদেরকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্ষম করে তোলেন। সমষ্টির ক্ষেত্রে কর্মী তার জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা দিয়ে তা করার চেষ্টা করেন। তিনি তাদের নিজেদের সম্পর্কে চিত্তা করতে, সমস্যা ও সম্পদ সম্পর্কে জানতে,সমাধানের উপায় বের করতে, কর্মচাঞ্চল্য ও আত্মপ্রত্যয় দৃঢ়তর করতে প্রয়াসী হন। অবিরাম প্রচেষ্টায় শহর সমষ্টির জনগণকে সক্ষম করে তোলা তার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
৬. নেতৃত্ব প্রদান : শহর সমষ্টিকে পরিচালিত করার জন্য সমাজকর্মীকে যোগ্য নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। তবে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত সমষ্টির উপর চাপিয়ে দেন না এবং সরাসরি নেতৃত্ব দেন না। পর্দার অন্তরাল থেকে পরোক্ষ নেতৃত্ব প্রদান করেন। শহর সমষ্টিতে নেতৃত্বের বিকাশ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুশীলন ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ প্রদান তার কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
৭. সংযোগ রক্ষাকারীর ভূমিকা : সমাজকর্মী শহর সমষ্টির অভ্যন্তরে বিভিন্ন দল, অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান প্রভৃতির সাথে সংযোগ রক্ষা করে সমষ্টিকে গতিময় করে রাখেন। বাইরের বিভিন্ন সংস্থা তথা জাতিগঠনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংযোগ সাধনের মাধ্যমে তিনি শহর সমষ্টির জনগণের বহুমুখী চাহিদা মিটানোর চেষ্টা করেন।
৮. পরিবর্তনকারীর বাহক : লিপিট তাঁর ‘Dynamics of Planned Change’ নামক বইয়ে সমাজকর্মীকে পরিবর্তনের বাহক হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিবর্তনকারীর ভূমিকা পালন করতে গিয়ে কর্মীকে সমস্যার বিভিন্ন দিক ও ব্যাপকতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে বের করতে হয় এবং সমস্যার সমাধানকল্পে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়। এটি তার অন্যতম কাজ।
৯. প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন : সমাজকর্মী নির্দিষ্ট সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একজন। তার অধীনস্থদের নিয়ে যে প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠে তার সুষ্ঠু পরিচালনার দায়িত্ব তাকে পালন করতে হয়। অধীনস্তদের কাজের তদারক করা, পেশাগত আদেশ-নির্দেশ প্রদান করা,নথিপত্র সংরক্ষণ, বাজেট প্রণয়ন সবই তার কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
১০. সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন : শহর সমষ্টির সার্বিক কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, দল, অনুষ্ঠান,প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এমনকি জাতিগঠনমূলক কাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের জন্য সমষ্টি সমাজকর্মী কাজ করে থাকেন।এর ফলে সম্পদ ও সময়ের অপচয় রোধ করা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সহজতর হয়।
১১. দায়িত্ব ও কর্তব্য উপলব্ধিতে সহায়তাকরণ : শহরসমষ্টি উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সমষ্টির জনগণের দায়িত্ব সচেতন হওয়া অত্যাবশ্যক। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে যার যে ভূমিকা পালন নির্ধারিত সেগুলো যাতে যথাযথভাবে পালন করা হয় সেজন্য সমাজকর্মী প্রত্যেককে সচেতন করে তোলার দায়িত্ব পালন করেন।
১২. পেশার মানোন্নয়নে সচেষ্ট হওয়া : সমাজকর্মী একজন পেশাদার প্রতিনিধি। তার উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো পেশার জ্ঞান, লক্ষ্য, দর্শন, আদর্শ ও মূল্যবোধ জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং পেশার মানোন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।
১৩. সমস্যা নির্ণয়কারীর ভূমিকা : সমাজকর্মীকে শহর সমষ্টির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমষ্টির প্রয়োজন ও সমস্যা নির্ণয় করতে হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী সমস্যা নির্ণয়কারীর ভূমিকা পালন করে থাকেন।
১৪. পরিকল্পনা প্রণয়ন : শহর সমষ্টির বাস্তব তথ্য এবং অবস্থার উপর ভিত্তি করে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন সমষ্টি সমাজকর্মীর অন্যতম দায়িত্ব। সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবমুখী সমষ্টি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ব্যতীত সমষ্টির উন্নয়ন আশা করা যায় না।
১৫. নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি : সমাজকর্মীকে সমষ্টির প্রতি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে হয়। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ হতে নমষ্টি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় গ্রহণ করে কাজ শুরু করতে হয়। শহর সমষ্টির জনগণের মধ্যে প্রচলিত ধ্যানধারণা,প্রথা, মূল্যবোধ ইত্যাদির সমালোচনা বা তুলনামূলক আলোচনা হতে তাকে সর্বদা বিরত থাকতে হয়।
১৬. প্রশিক্ষণ দান : শহর সমষ্টির উন্নয়নে নিয়োজিত অধস্তন কর্মী এবং সমষ্টির নেতৃত্ব চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দান সমাজকর্মীর নিয়মিত দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
১৭, গতিশীল ভূমিকা : পেশাদার প্রতিনিধি হিসেবে সমাজকর্মীর দায়িত্ব হচ্ছে সমাজকর্ম পেশার মান উন্নয়নে ও প্রসারে সদা সচেষ্ট থাকা। কর্মীকে সমাজকর্ম পেশার দর্শন, মূল্যবোধ, আদর্শ ও নীতিমালার প্রতি সচেতন থেকে সমষ্টিত উদ্ভাবন এবং কল্যাণে বহুমুখী ও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হয়।
১৮. পর্যবেক্ষকের ভূমিকা : সমাজকর্মী শহর সমষ্টিতে নিয়োজিত হওয়ার সাথে সাথে পর্যবেক্ষক হিসেবে তার ভূমিকা শুরু হয়। কারণ সূচনালগ্নে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি সমষ্টি সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান ও ধারণা নিয়ে থাকেন।
১৯. শিক্ষকের ভূমিকা : কর্মসূচিতে নিয়োজিত কর্মী, সমষ্টিতে কর্মরত বিভিন্ন দল ও সংগঠন এবং জনগণকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কে তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানদানের মাধ্যমে সমাজকর্মী একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০. মূল্যায়ন : মূল্যায়নের মাধ্যমে কাজের সফলতা ও বিফলতা যাচাই করা যায়। নিজেদের ভূমিকার মূল্যায়ন,কর্মসূচির মূল্যায়ন, সেবার মান মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে তিনি শহর সমষ্টির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন। উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্টদের সচেতন ও উদ্যোমী করে গড়ে তোলার পরিবেশ সৃষ্টি করেন। শহর সমষ্টির সেবার মান উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক হচ্ছে মূল্যায়ন। মূল্যায়নের মাধ্যমেই সমাজকর্মী তার দায়িত্বের পূর্ণাঙ্গতা আনয়ন করেন।
গ্রামীণ সমষ্টি উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমাজকর্মীর ভূমিকা : গ্রামীণ সমষ্টিতে সমাজকর্মীকে যেসব ভূমিকা পালন করতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করা হলো :
১. পথপ্রদর্শকের ভূমিকা : গ্রামীণ সমষ্টির সত্যিকার কল্যাণের জন্য অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিতে হয়।সেই দীর্ঘ ও বন্ধুর পথে সমাজকর্মী গাইড বা পথপ্রদর্শকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কখন, কোথায়, কিভাবে গ্রামীণ সমষ্টির আর্থসামাজিক ও নৈতিক উন্নতি সম্ভবপর হবে সমষ্টি সে দিকনির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করেন।
২. পরিবর্তনের বাহক : জনসমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতিকে গ্রামীণ সমষ্টির পরিকল্পিত পরিবর্তনের বাহন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।সমষ্টি সমাজকর্মী সেই বাহনে বাহকের ভূমিকা পালন করে থাকেন। ব্যাপক আলাপ আলোচনা ও গণমাধ্যমসমূহ ব্যবহার করে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের মনমানসিকতা ও চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়নের ভূমিকা পালন করে।
৩. নেতার ভূমিকা : সমাজকর্মী সরাসরি গ্রামীণ সমষ্টির নেতা না হলেও তাকে নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।বস্তুত তিনি গোটা সমষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে থাকেন। তার নেতৃত্বেই সমষ্টির জনগণ তাদের অবস্থার পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ হন। সমষ্টির যারা নেতা তারাও তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল থেকে স্ব-স্ব ভূমিকা পালন করেন। গ্রামীণ সমষ্টির অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুশীলন ও নেতৃত্বের বিকাশ সাধন তার কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
৪. শিক্ষকের ভূমিকা : সমাজকর্মী শিক্ষকের মতো গ্রামীণ সমষ্টিতে জ্ঞান বিতরণের ভূমিকা পালন করেন।নিঃসন্দেহে তিনি একজন শিক্ষিত, অভিজ্ঞ এবং পেশাদার ব্যক্তি।পক্ষান্তরে, সমষ্টির জনগণ বেশিরভাগই অজ্ঞ, নিরক্ষর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। আধুনিক ধ্যানধারণা, উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে তারা মোটেই ওয়াকিবহাল নন। ফলে কর্মীকে নতুন ধ্যানধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞানদান তথা শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হয়।
৫. সক্ষমকারীর ভূমিকা : সমাজকর্মীকে সক্ষমকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। গ্রামীণ সমষ্টির প্রয়োজন বা সমস্যার সমাধাতা তাদের যে সম্পদ আছে তা চিহ্নিতকরণ ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে সমষ্টির জনগণ নিজেরাই নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন সাধন করতে পারে সেজন্য সহায়ক বা সক্ষমকারীর ভূমিকা পালন করেন ।
৬. সংগঠকের ভূমিকা : গ্রামীণ সমষ্টির কল্যাণ সাধনে ব্যক্তি, দল, অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা জড়িত থাকে।সংশ্লিষ্ট সকল দিক বা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কার্যত সার্বিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভবপর হয়ে উঠে। ফলে সফলতাকে নিশ্চিত করার স্বার্থে সকল অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান, সংস্থাকে সুসংগঠিত করা আবশ্যক হয়ে দেখা দেয়। সমাজকর্মী একজন যোগ্য সংগঠকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলেন।
৭. সাহায্যকারীর ভূমিকা : একজন সাহায্যকারীর ভূমিকাও কর্মীকে পালন করতে হয়। আধুনিক সমাজকর্মীগণ মানুষের সমস্যার সমাধানে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে থাকেন। এর মূল লক্ষ্য জনগণকে তাদের সমস্যার সমাধানে নিজেদের সচেষ্ট করে তোলা। সমাজকর্মী গ্রামীণ সমষ্টির সার্বিক কল্যাণসাধনে তেমনি সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করেন।
৮. বিশেষজ্ঞের ভূমিকা : সমাজকর্মী বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী। অনেকক্ষেত্রে গ্রামীণ সমষ্টির খুঁটিনাটি সকল বিষয় সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল থাকেন। ফলে সমষ্টির প্রয়োজন এবং সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন থেকে শুরু করে মূল্যায়ন পর্যন্ত তিনি একজন বিশেষজ্ঞের ভূমিকা পালন করেন।
৯. প্রশিক্ষকের ভূমিকা : কর্মসূচিকে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য নেতা, কর্মী, কর্মচারী, সদস্য, পেশাদারি প্রত্যেককে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করা অপরিহার্য।এই অপরিহার্যতার কথা বিবেচনা করেই সমষ্টি সমাজকর্মী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলেন।
১০. গবেষকের ভূমিকা : গ্রামীণ সমষ্টির লোকসংখ্যা, তাদের প্রকৃতি, জীবন ও সংস্কৃতি, সমস্যা ও প্রয়োজন, সম্পদ,আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মীকে গবেষণার আশ্রয় নিতে হয়। কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নেও তাকে গবেষণার মাধ্যমে এগুতে হয়।
১১. পরিকল্পনাকারীর ভূমিকা : গ্রামীণ সমষ্টির কল্যাণের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনার। অসীম প্রয়োজন এবং সমস্যার সাথে সসীম সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের ক্ষেত্রে পরিকল্পনাই হলো সক্ষম হাতিয়ার।পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে একজন যোগ্য পরিকল্পনাবিদের ভূমিকা পালন করেন।
১২. যোগাযোগ রক্ষাকারীর ভূমিকা : একক প্রচেষ্টায় গ্রামীণ সমষ্টির উন্নয়ন সাধন সম্ভব নয়। সেজন্য সমষ্টির সমাজকর্মীকে সমষ্টির অভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান, অনুষ্ঠান ও সংস্থার মধ্যে যেমন যোগাযোগ স্থাপন করতে হয় তেমনি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সমষ্টির প্রয়োজন ও সমস্যা নিরসনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হয়।
১৩. তত্ত্বাবধায়কের বা প্রশাসকের ভূমিকা : সমাজকর্মী কোনো না কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি।সেই সংগঠনে তার অধীনে অনেকে এবং অনেক বিভাগ কাজ করে। তাদের কাজের তদারক করা তার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে কর্মী যোগ্য প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সংস্থা বা সংগঠনকে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
১৪. দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীর ভূমিকা : একজন যোগ্য ও দক্ষ কর্মী হিসেবে তিনি সকলের অনুকরণ ও অনুসরণের পাত্র হিসেবে পরিচিত হন। তিনি হলেন একটি মডেল। তিনি তাঁর আচরণ, বেশভূষা, কাল, চিন্তা চেতনা এবং বিশ্বাস দ্বারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেন। ফলে সহজেই সকলে সমবেতভাবে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নীরব বিপ্লব সাধন করেন।
১৫. সমন্বয় সাধনকারীর ভূমিকা : সমাজকর্মী সকল ব্যক্তি, দল, সমষ্টি, কার্যক্রম, অনুষ্ঠান, সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকেন।একই কর্মসূচি যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, বিভিন্ন সংস্থার কাজের মধ্যে দ্বৈত কর্মসূচির আবির্ভাব না ঘটে সে ব্যাপারেও তিনি সচেষ্ট থাকেন। ফলে সময় ও সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়।
১৬. মটিভেটর : গ্রামীণ সমষ্টির জনগণ নানা কারণে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম থেকে সাধারণত দূরে থাকে। কাজেই তাদের মনমানসিকতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়নের জন্য সমাজকর্মী মটিভেটর হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
১৭. পরামর্শদাতা : গ্রামীণ সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জনগণের ভূমিকা ও দায়িত্বসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শদানের জন্য সমাজকর্মী একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও ভূমিকা পালন করে থাকেন।
১৮. নীতি নির্ধারক : জাতীয় নীতির সাথে সামগ্রস্যপূর্ণ সমষ্টি উন্নয়নের নীতি প্রণয়নের জন্য একজন সমাজকর্মীকে নীতি নির্ধারক বা নীতি প্রণয়নকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
১৯. মূল্যায়নকারীর ভূমিকা : সমাজকর্মী গ্রামীণ সমষ্টির কার্যক্রমের সফলতা ও ব্যর্থতাকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে থাকেন। সমষ্টির সফলতা ও ব্যর্থতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়নে জনগণকে সহায়তা করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যাপক। ফলে খুবই সতবতা, দক্ষতা ও কৌশলের সাথে তার আমীণ উন্নয়নে ভূমিকা পালন করতে হয়। কর্মীর বিচক্ষণতার অভাব বা অসতর্কর্তা গ্রামীণ সমষ্টির ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।তাই সমষ্টি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দক্ষ সমাজকর্মীর ভূমিকাই মুখ্য, যার মাধ্যমে গ্রামীণ অনুন্নত ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d/
পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079
or 01773270077

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*