মাঠকর্মে শিক্ষার্থীদের কার্য সম্পাদনের প্রকৃতি লিখ।

অথবা, মাঠ কর্মে শিক্ষার্থীদের কার্য সম্পাদনের প্রকৃতি আলোচনা কর।
অথবা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণার্থীর কার্যসম্পাদনের প্রকৃতি বর্ণনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
শিক্ষার্থীদের কর্ম সম্পাদনের মধ্য দিয়ে মাঠকর্ম সম্পন্ন করতে হয়। ফলে কর্ম সম্পাদন মাঠকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কতিপয় নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। কখনো এককভাবে আবার কখনো দলগতভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে। কতকগুলো বিষয়ের উপর কর্ম সম্পাদনের প্রকৃতি নির্ভর করে।
মাঠকর্মে শিক্ষার্থীদের কার্য সম্পাদনের প্রকৃতি : মাঠকর্মে শিক্ষার্থীদের কার্য সম্পাদন কতকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নিম্নে এসব বিষয়গুলো বর্ণনা করা হলো :
১. কাজের জবাবদিহিতা : কর্ম সম্পাদনের অন্যতম দিক হলো কাজের জবাবদিহিতা। শিক্ষার্থীদের এজেন্সিতে সংস্থাপিত হবার পর কতকগুলো দায়িত্ব পালন করতে হয়। তত্ত্বাবধায়ক তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়কের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হয়।
২. আনুগত্য প্রকাশ : কর্ম সম্পাদনের আর একটি দিক হলো তত্ত্বাবধায়কের প্রতি শিক্ষার্থীদের আনুগত্য প্রকাশ করা।এক্ষেত্রে বিভাগীয় ও সংস্থার নিদের্শনার প্রতি অনুগত থাকতে হবে।কেননা মাঠকর্মে তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করতে হয়।
৩. একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি : মাঠকর্মে শিক্ষার্থীদের একাডেমি মনোভাব থাকা অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে একাডেমিক শিক্ষণীয় বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা মাঠকর্মে প্রয়োগ করে থাকে। একাডেমিক বিষয় ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের মানসিকতা থাকতে হয়।
৪. সৃজনশীলতা : শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা মাঠকর্মে একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। সমস্যা সমাধানে নিজের সৃজনশীলতাকে প্রয়োগ করতে হয়। এর মাধ্যমে নতুন কৌশল উদ্ভাবিত হয়। যা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
৫. আগ্রহ ও ধৈর্য : মাঠকর্মে শিক্ষার্থীদের উৎসাহবোধ ও ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা এর অভাবে কর্ম সম্পাদনে বিঘ্নিত হতে পারে। নিয়মিত উপস্থিতি থেকে ৬০ কর্ম দিবসে মাঠকর্ম সম্পাদন করতে হলে আগ্রহ ও ধৈর্য উভয়ের উপস্থিতি অপরিহার্য।
৬. সততার সাথে দায়িত্ব সম্পাদন : সততার সাথে কর্ম সম্পাদন করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অত্যাবশ্যক।সততা থাকলে নৈতিক আদর্শও অটুট থাকবে। ছাত্র-ছাত্রীদের তাই সততা ও আগ্রহ নিয়ে মাঠকর্মে কর্ম সম্পাদন করতে হয়।
৭. উদ্ভাবনমুখী : ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী হিসাবে উদ্ভাবনমুখী বা আবিষ্কারমুখী কাজের দিকে মনোযোগী হতে হয়। কেস স্টাডি, নথিভুক্তকরণ ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে ।
৮. দ্বিমুখী কর্ম সম্পাদন : দ্বিমুখী কর্ম সম্পাদন বলতে শিক্ষার্থীদের ২টি কাজের দিকে মনোযোগী হতে হয়। একটি হলো মাঠকর্মী হিসেবে এবং অপরটি শিক্ষানুরাগী হিসেবে। এতে করে কার্যকর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।
৯. অফিসিয়াল নিয়মকানুন : শিক্ষার্থীদের কর্ম সম্পাদনের একটি বিশেষ দিক হলো সংস্থার অধীনে অফিসিয়াল আচরণের ভিত্তিতে কর্মসম্পাদন করা। সংস্থার নিয়মকানুন মেনে চলার মাধ্যমে কর্মে সফলতা সম্ভব।
১০. সমাজকর্মীর আচরণ : শিক্ষার্থী একজন শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী হিসেবে মাঠকর্ম সম্পাদন করার সময় শুধু অফিসিয়াল কাজ নয় সমাজকর্মী হিসেবেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনগত দিক ঠিক রেখে সমাজকর্মের কাজগুলো তিনি সম্পাদন করবেন।
১১. সমস্যার সমাধান : শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী হিসেবে শিক্ষার্থীকে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হয়। সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তত্ত্বাবধায়কের পরামর্শ নিয়ে থাকে। সমস্যা সমাধানে কাজ করা শিক্ষার্থীদের কর্ম সম্পাদনেরই অংশ বিশেষ।
১২. প্রতিবেদন প্রস্তুত করা : মাঠকর্ম শিক্ষার্থীদের কার্যসম্পাদনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিবেদন প্রস্তুত করা।লিপিবদ্ধকৃত ঘটনাসহ সকল কাজকর্ম এজন্য পূর্বেই লিখে রাখতে হয়। প্রতিবেদন তৈরির পর তা যথাসময়ে জমা দিতে হয়।প্রতিবেদন প্রস্তুত ও জমাদানের মাধ্যমে মাঠকর্মের কাজের সমাপ্তি ঘটে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, মাঠকর্মে ছাত্রছাত্রীদের কর্মসম্পাদনের প্রকৃতিতে উপর্যুক্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।এসব বিষয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ফলপ্রসূ মাঠকর্ম সম্পন্ন হয়ে থাকে।এসব বিষয়ের কোনটির অনুপস্থিতি মাঠকর্ম সম্পাদনে বিঘ্ন ঘটায় ।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d/
পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079
or 01773270077

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*