অথবা, উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মীর ভূমিকাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
অথবা, উন্নয়ন সংস্থার মাঠকর্মীর ভূমিকাসমূহ উল্লেখ কর।
অথবা, উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মীর ভূমিকাসমূহ তুলে ধর।
উত্তর।৷ ভূমিকা : উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মীরা শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।এজন্য শিক্ষার্থীরা সংস্থায় নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে। এসব এজেন্সিতে মাঠকর্মীরা সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মীর ভূমিকা/ দায়িত্ব/ কার্যাবলি : নিম্নে উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মীর ভূমিকা উল্লেখ করা হলো :
১. সংস্থার সাথে পরিচিত হওয়া : মাঠকর্ম সম্পাদন করতে গিয়ে সংস্থায় যোগদান করে মাঠকর্মীর প্রথম কাজই হলো সংস্থার সাথে পরিচিত হওয়া। অর্থাৎ সংস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা মাঠকর্মীর অন্যতম দায়িত্ব। সংস্থার যেসব দিক সম্পর্কে মাঠকর্মীকে জানতে হয় সেগুলো হলো সংস্থার ইতিহাস, মিশন-ভিশন, কাঠামো প্রভৃতি। এসব দিক সম্পর্কে প্রথমেই মাঠকর্মী বা শিক্ষার্থীরা পরিচিত হয়ে থাকে।
২. সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে জানা : মাঠকর্মীর ২য় দায়িত্ব হলো সংস্থার কার্যক্রম না কর্মসূচি সম্পর্কে জানা সংস্থার নির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কর্মসূচি থাকে। এসব কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হয়েই মূলত মাঠকর্মী তার মাঠ সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে মাঠকর্মী সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করেন।
৩. সাহায্যার্থী শনাক্তকরণ : সংস্থার মাঠকর্মী বা শিক্ষানবিশ সমাজকর্মীর আরো একটি দায়িত্ব হলো প্রকৃষ সাহাযার্থী চিহ্নিত করা। তিনি মাঠ থেকে সাহায্যার্থী খুঁজে বের করে তাদের সাথে আলোচনা করেন। তিনি তাদের প্রকৃত সমস্যা বের করে তাদের সেবার ব্যবস্থা করেন।
৪. কর্মসূচির সমন্বয়সাধন : উন্নয়ন সংস্থায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি থাকতে পারে। সমন্বয়ের অভাবে সংস্থার অরে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় মাঠকর্মী নিয়োজিত সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন। ফলে,সংস্থার কার্যক্রম ফলপ্রসু হয়।
৫. কর্মসূচির কার্যকারিতা যাচাইকরণ : উন্নয়ন সংস্থার সকল কর্মসূচি মাঠকর্মীরা যাচাই করে থাকে। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে যেয়ে মাঠকর্মীরা লক্ষ্যভুক্তদের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণপূর্বক কর্মসূচি কতটুকু সফল হয় তা যাচাই করে থাকে।
৬. ঘাটতি চিহ্নিত করা : এজেপিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে শূন্যতা থাকতে পারে। এ ধরনের ঘাটতি সংস্থার উন্নয়নকে ব্যাহত করে। মাঠকর্মীরা সংস্থার এসব ঘাটতি দূর করার প্রচেষ্টা চালায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের গতি চলমান থাকে।
৭. ঘটনা অনুখ্যান করা : শিক্ষানবিশ সমাজকর্মীরা সেবাদানকারী সংস্থা ও সেবাভোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। সেবাভোগীরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তারা কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এসব তথ্য কেস স্টাডির মাধ্যমে জানা যায়। এছাড়া তাদের মনোসামাজিক অনুধ্যানও করে থাকে। এক্ষেত্রে মাঠকর্মীরা ধনণ, পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার প্রভৃতি কৌশল গ্রহণ করে থাকে।
৮. তত্ত্বাবধান করা : উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মী কর্মসূচি তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে তার ভূমিকা পালন করে। এ অবস্থায় মাঠকর্মী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানে প্রেরিত হবার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে থাকে। এ লক্ষ্যে মাঠকর্মীরা সংস্থার কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করছে তার পরিবীক্ষণকে বুঝায়।
৯. শ্রেষণা প্রদান : উন্নয়ন সংস্থার কাজ এদেশের অজ্ঞ নিরক্ষর গ্রামীণ মানুষেরা অনেকেই ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। অর্থাৎ সংস্থার কার্যক্রমকে নেতিবাচক হিসেবে দেখে। এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য প্রেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাঠকর্মীরা এক্ষেত্রে প্রেষণা সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করে থাকে।
১০. মুল্যায়ন করা : উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মীদের সর্বশেষ দায়িত্ব হলো মূল্যায়ন করা। অর্থাৎ সংস্থার কর্মসূচির সফলতা ও ব্যর্থতা যাচাই করা। এক্ষেত্রে সংস্থার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা বা কর্মসূচি সফল হয়েছে কিনা তা মাঠকর্মী বা শিক্ষানবিশ সমাজকর্মীরা যাচাই করে থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়ন কর্মীদের জন্য মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, উন্নয়ন সংস্থায় মাঠকর্মীর গুরুত্ব অত্যধিক। সমাজকর্মের ছাত্রছাত্রীরা সংস্থায় সংস্থাপিত হবার পর থেকে মাঠকর্ম সম্পাদন করার পূর্ব পর্যন্ত তৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করে লক্ষ্যভুক্ত মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে।

Leave a Reply