আমাদের সমাজে যৌতুকের কারণ আলোচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশে যৌতুকের কারণ বর্ণনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
যৌতুক একটি ঘৃণ্য সামাজিক প্রথা। অতি প্রাচীনকাল থেকে এ প্রথা মেনে চলা হচ্ছে। কখনো নারী কোন পুরুষকে বিবাহ করার জন্য পণ পেতো, আবার কখনো কোন পুরুষ নারীকে বিবাহ করার জন্য পণ বা টাকা বা অন্য কোন সম্পদ গ্রহণ করে। এ প্রথাই সমাজে যৌতুক প্রথা নামে অভিহিত।
যৌতুকের কারণ : যদিও সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে যৌতুক ব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলার জন্য নানাবিধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তবুও এ প্রথা থেকে সমাজকে মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। নিম্নে এর কারণগুলো তুলে ধরা হলো :
১. দারিদ্র্য : আর্থিক ও মানসিক দারিদ্র্য আমাদের সমাজে যৌতুক প্রথার একটি বড় কারণ। দরিদ্র পরিবারগুলো সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিবাহকালে যৌতুক দাবি ও গ্রহণ করে।
২. বেকারত্ব : কর্ম ও কর্মক্ষেত্রের অভাব হেতু পুরুষেরা বিবাহ কালে যৌতুক দাবি করে যাতে সে নিজের মতো করে কোন কর্মকান্ড বা ব্যবসায় বাণিজ্য করে উপার্জন বৃদ্ধি করতে পারে।
৩. ছেলেদেরকে অধিকমূল্যবান মনে করা : আমাদের সমাজে ছেলেদেরকে অধিক মূল্যবান মনে করা হয়। পিতামাতা বিবাহকালে ছেলেকে বড়ো করতে যা ব্যয় করেছেন তা আদায় করে নিতে চান। ফলে দেখা যায় যে ছেলে যত শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত তার যৌতুকের দাবিও তত বেশি।
৪. অশিক্ষা : শিক্ষা-দীক্ষার স্বল্পতা যৌতুক প্রথা টিকে থাকার অন্যতম কারণ। যে প্রথাটি আইনে নিষিদ্ধ, ধর্মীয়ভাবে বর্জনীয়, সামাজিকভাবে ঘৃণ্য সে প্রথা এড়িয়ে চলার জন্য যে শিক্ষাদীক্ষা থাকা দরকার তা আমাদের সমাজে নেই।
৫. অন্যান্য : ‘বিবাহের ব্যয় মেটানো, আপ্যায়ন খরচ, নতুন ঘর বা আবাসন তৈরি, সা বা চাকরি লাভের জন্য ঘুস বা অন্যান্য বিষয় মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে যৌতুক একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, নানাবিধ কারণে আমাদের সমাজে যৌতুক প্রথা টিকে আছে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াস এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল এ প্রথা দূর করা সম্ভব।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%85/
পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079
or 01773270077

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*