ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার সম্পর্ক আলোচনা কর।

অথবা, স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার মধ্যকার সম্পর্ক বর্ণনা কর।
অথবা, স্থানীয় সরকার এবং পরিকল্পনার মধ্যে যে সু-সম্পর্ক বিদ্যমান তা আলোচনা কর।
অথবা, “স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনা একে অপরের পরিপূরক” -ব্যাখ্যা কর।
অথবা, স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার মধ্যে মিল বা সম্বন্ধ নিরূপণ কর।
অথবা, স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার মধ্যে যে সামঞ্জস্যপূর্ণ মিল বা সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। তা আলোচনা কর।
অথবা, স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার মধ্যে যে সুদৃঢ় মিল রয়েছে তা বর্ণনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা বলতে এমন একটি পরিকল্পনাকে বুঝি যার সাহায্যে স্থানীয় পর্যায়ের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব। স্থানীয় সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যই হচ্ছে জাতীয় জনগণের সামগ্রিক উন্নয়ন ও কল্যাণসাধন। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য স্থানীয় সরকার তার সকল পরিকল্পনা একই সময়ে সম্পাদন করতে পারে না।
স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার সম্পর্ক : স্থানীয় পর্যায়ের নানাবিধ সমস্যার সমাধান, উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং নীতিনির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি পালনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য পরিকল্পনা অপরিহার্য। উন্নয়নের গতিকে বেগবান করে দেশে ভারসাম্য অবস্থা বজায় রাখতে পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পনা ব্যতীত স্থানীয় সরকারের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে না। তাই স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। নিম্নে স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার সম্পর্ক আলোচনা করা হলো :
১. সম্পদের যথার্থ ব্যবহার : একমাত্র পরিকল্পনার মাধ্যমেই সম্ভব স্বল্প এবং সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার। স্থানীয় সরকার সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু বিন্যাস ও বণ্টনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। সমাজের সামগ্রিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে দুষ্প্রাপ্য সম্পদের সুষ্ঠু এবং কাম্য সম্পদ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
২. ভারসাম্য উন্নয়ন : উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার স্থানীয় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নানা ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর ফলে একদিকে যেমন— স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ঘটে তেমনি সঠিকভাবে জাতীয় উন্নয়ন সাধিত হয়। এছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পায়।
৩. আয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি : আয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে উন্নয়নের গতি দ্রুততর হয়ে থাকে। স্থানীয় সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ের আয়ের উৎস সন্ধান ও নতুন নতুন আয়ের সৃষ্টি করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে থাকে। এর ফলে দেশের উৎপাদন শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পায় ।
৪. সামাজিক ন্যায়বিচার : সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হয়। সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যতীত পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব নয় এবং পরিকল্পনা ছাড়া যথার্থ উন্নয়ন অসম্ভব। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকলে স্থানীয় সরকারের পক্ষে পরিকল্পনা গ্রহণও সহজতর হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করার মাধ্যমে সমাজের অসমতা ও অবিচার দূর করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়।
৫. কৃষি উন্নয়ন : বিশ্বের যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃষিই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার। কৃষি উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক এবং সুসম পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়নশীল দেশের কৃষি উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি আধুনিকীকরণ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ করে জনগণের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। আর এক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যাবশ্যক যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দ্বারা সম্ভব ।
৬. মানব সম্পদ উন্নয়ন : জনশক্তি যে কোনো দেশের জন্য প্রাণ। জনসম্পদকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। এজন্য যথোপযুক্ত পরিকল্পনার প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী পরিকল্পনা যেমন— প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করে জনশক্তি গড়ে তোলে।
৭. জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি : স্থানীয় সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তোলে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কাজে জনগণের প্রত্যক্ষ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণে জনগণকে প্রশাসনিক কাজকর্মে দক্ষতা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে তারা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনায় নিজেদের মতামত বা পরামর্শ প্রদান করতে পারে।
৮. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা : যে কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও ইতিবাচক না হলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করে উৎপাদন, আয়, বিনিয়োগ ও নিয়োগ বৃদ্ধি করে থাকে। ফলে বেকারত্ব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৯. উন্নয়নের গতি দ্রুতকরণ : স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনা এ দু’য়ের সুষ্ঠু সমন্বয়ের দ্বারা সার্বিক উন্নয়নের গতি দ্রুততর হয়। কেননা পরিকল্পনা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠান সফল হতে পারে না। আর একটি সুগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থানীয় সরকারের পরিকল্পনা আবশ্যক।
১০. নারীদের অংশগ্রহণ : নারী-পুরুষের সমন্বিত উদ্যোগ ব্যতীত কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাতে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকায় স্থানীয় সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করে সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনার যৌথ সমন্বয়ে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয় এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!