ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান উন্নয়নের জন্য কী কী নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন? আলোচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশে নারীর অবস্থান উন্নয়নের সুপারিশমালা আলোচনা কর। এ বাস্তবায়নের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে?
অথবা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের নিমিত্তে কী কী নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তুমি মনে কর? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
অথবা, বাংলাদেশের নারীর উন্নয়নের সুপারিশমালা বর্ণনা কর এবং এ সুপারিশমালা বাস্তবায়নের উপায় বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান উন্নয়নের জন্য কী নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে? বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের নারীর অবস্থান উন্নয়নের জন্য কী নীতিমালা গ্রহণ করা প্রয়োজন? আলোচনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমাদের দেশে প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থা ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতার পাশাপাশি প্রশাসন ও সরকারের স্তরে নারীর অংশগ্রহণ না থাকায় পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবক্ষেত্রেই জনসংখ্যার এ অর্ধেক অংশ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ধনী, গরিব, উত্তর-দক্ষিণের মত এখানে রয়েছে নারী ও পুরুষদের মধ্যে এক বিশাল বৈষম্য। আর নারী-পুরুষের এ বৈষম্যই নারী অধস্তনতার অন্যতম কারণ। আর নারীদের অবস্থান উন্নয়নের জন্য কিছু বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে আমরা নারীর অবস্থান উন্নয়নের সুপারিশমালা আলোকপাত করব।
নারীর অবস্থান উন্নয়নের সুপারিশমালা : বাংলাদেশে নারীর অবস্থান উন্নয়নের জন্য নিম্নোক্ত সুপারিশমালা গ্রহণ করা প্রয়োজন :
সামাজিক ক্ষেত্রে সুপারিশসমূহ : নারীর সামাজিক অবস্থান উন্নয়নের সুপারিশমালা নিম্নরূপ :
১.জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা।
২.নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক কম শিক্ষিত। তাদেরকে অশিক্ষিত রেখে তো আর সমাজ উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে নেপোলিয়নের কথা স্মরণীয়। তিনি বলেছেন, “Give me a good mother, I will give you a good nation.” নারীর সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা উপযুক্ত আশ্রয় ও গৃহায়ন ব্যবস্থায় নারীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা। গণমাধ্যমে নারী ও মেয়ে শিশু সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তুলে ধরা। বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েদের মতামতের মূল্যায়ন করতে হবে। বিবাহবিচ্ছেদে সমান অধিকার। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সংস্কার।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুপারিশসমূহ : অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান উন্নয়নের জন্য সুপারিশসমূহ নিম্নরূপঃ
১.অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বিরাজমান পার্থক্য দূর করা।
২. অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
৩.সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায়ে নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া।
৪.দরিদ্র নারীকে উৎপাদনশীল কর্মে ও অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করা।
৫.নারী উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণ করা।
৬.একই শ্রমে নারী ও পুরুষ সমান মজুরি প্রদান ।
সর্বোপরি নারীর অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে জরুরি বিষয়াদি, যথা : স্বাস্থ্য, সম্পদ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা, অর্থ উপার্জনের সুযোগ, উত্তরাধিকার, ঋণপ্রদান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীর প্রতি সমান সুযোগ প্রদান ও তা নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই সাথে এসব ক্ষেত্রে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন ।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সুপারিশসমূহ : এক্ষেত্রে একটি কথা উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি লোক বাস করে। এ ১৬ কোটির মধ্যে অর্ধেকই হল নারী। সুতরাং, এ অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে কী উন্নয়ন সম্ভব?
আমরা জাতীয় সংসদের দিকে তাকাই, দেখি সেখানে মাত্র ৭ জন নারী (৩০০ জনের মধ্যে)। অর্থাৎ, ৮ কোটি নারীর জন্ ৭ জন প্রতিনিধি। প্রতি কোটিতে ১ জন করে। তাহলে উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে। যাহোক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সুপারিশগুলো নিম্নরূপ :
১.: রাজনীতিতে অধিকহারে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রচার মাধ্যমসহ রাজনৈতিক দলসমূহকে সর্বাত্মক
প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।
২.নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে Nomination দেয়ার সময় নারী ও পুরুষের অনুপাত সমান করতে হবে।
৩.নারীর রাজনৈতিক অধিকার অর্জন ও প্রয়োগ এবং এর সুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
৪.রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণে তাগিদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নারী সংগঠনসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রচার অভিযান গ্রহণ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।
৫.স্থানীয় সরকার পদ্ধতিতে সকল পর্যায়ে বর্ধিত সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
৬.জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত রেখে সেখানে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
৭. সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ স্তর মন্ত্রিপরিষদে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নিয়োগ করা।
আলোচ্য সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে। যথা :
১. নারী উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন : নারীর সমতা, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জাতীয় অবকাঠামো যেমন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জাতীয় মহিলা সংস্থা ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।
২. জাতীয় মহিলা উন্নয়ন পরিষদের কার্যাবলিকে প্রসার : নারী উন্নয়ন নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্য ৪৪ সদস্যবিশিষ্ট যে জাতীয় মহিলা উন্নয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে, তার কার্যপরিধি নিম্নরূপে হতে পারে
ক. আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রমের সমস্বয় সাধন।
খ. মহিলাদের আইনগত অধিকার এবং মহিলাদের নির্যাতন প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি সম্বন্ধে নীতি প্রণয়ন।
গ. সকল প্রকার কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের স্বার্থসংরক্ষণ, অংশগ্রহণ ও তাদের ভাগ্য উন্নয়ন সম্পর্কে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
৩. সংসদীয় কমিটি : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক নারী উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থানীয় কমিটি গঠন করতে হবে, যা নারী উন্নয়ন কর্মসূচির পর্যালোচনা করে নারী অগ্রগতির লক্ষ্যে সরকারকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ প্রদান করবে।
৪. থানা ও জেলা পর্যায় : নারীর অগ্রগতি এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ও এনজিওদের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন ও নারী উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
৫. তৃণমূল পর্যায় : তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম ও ইউনিয়নের নারীকে স্বাবলম্বী দল হিসেবে সংগঠিত করতে হবে। এ দলসমূহকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আওতায় নিবন্ধনকৃত সংগঠন হিসেবে রূপ দেয়া যেতে পারে।
৬. নারী উন্নয়নে NGO ও সামাজিক সংগঠনের সাথে সহযোগিতা প্রকৃত নারী উন্নয়ন একটি ব্যাপক কাজ। সরকারের একার পক্ষে এ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা কার্যত অসম্ভব। তাই এ কাজে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় ঘটানোর প্রয়াস নেয়া যেতে পারে।
৭. নারী ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক গবেষণা : নারী উন্নয়ন ও সমতা বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা পরিচালনার জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিতে হবে। সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং নারী শিশুদের অধিকার সম্পর্কিত গবেষণা উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
৮. নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান: ঢাকায় নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ বিভাগ, থানা ও জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়।
৯. সামাজিক সচেতনতা : নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
১০. নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠিন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন : নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কর্মসূচির উপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এ উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে নির্যাতন বন্ধের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরনের নারী নির্যাতনকারীদের জন্য বাংলাদেশের শাস্তির বিধান বেশ কঠিন থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আইনকে আরও কঠোর করতে হবে এবং প্রয়োজনে উন্মুক্ত ময়দানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান প্রচলন করতে হবে।
১১. আর্থিক ব্যবস্থা : তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ ও জেলা পরিষদে নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। বাজেটে নারী উন্নয়নের খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১২. সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা : নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।
উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, যুগে যুগে নারীরা অবহেলিত হয়েছে। নারীরা পুরুষের ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে তাদেরকে অনেকটা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রেই অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য বিলোপের লক্ষ্যে প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রয়াস কেবল তখনই সফলতা অর্জন করবে যখন সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষ জাতিসংঘ গৃহীত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদের (CEDAW) সবকয়টি এবং ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনে তা বাস্তবায়িত করবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!