Answer

নেতৃত্বের কার্যাবলি আলোচনা কর।

অথবা, নেতৃত্বের কর্মকাণ্ড এবং পদক্ষেপগুলো বর্ণনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
একটি জাতির সুষ্ঠু বিকাশের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন নেতৃত্ব। যোগ্য নেতৃত্ব যেমন একটি জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, ঠিক তেমনি যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে একটি জাতি ধ্বংসের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে। সমাজ জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পন্থা ও মাধ্যম হলো নেতৃত্ব। সুতরাং, সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে

যেমন— সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে নেতৃত্বের রয়েছে মহান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা।
নেতৃত্বের কার্যাবলি : নেতৃত্বের কার্যাবলি সম্পর্কে নিম্নে আলোকপাত করা হলো :
১. নীতিনির্ধারণ (Policy making) : নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই কোন গোষ্ঠী তার অভীষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারে। আর নেতার দায়িত্ব হলো দেশ ও জনগণের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে সুষ্ঠু নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়া। অর্থাৎ, নীতিনির্ধারণ নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
২. সমন্বয় সাধন (Co-ordinating) : গোষ্ঠীর ক্রিয়াকলাপের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গোষ্ঠীর লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে না পারলেও গোষ্ঠীর লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য যাতে বাস্তবে রূপান্তরিত হয় তার দায়িত্ব অবশ্যই নেতাকে গ্রহণ করতে হয়।
৩. পরিকল্পনা প্রণয়ন (Planning) : গোষ্ঠীর লক্ষ্য ও কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং তার সঠিক বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন। অনেক সময় এ পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব নেতাকেই গ্রহণ করতে হয়। গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যরা হয়তো এর কিছু কিছু অংশ সম্পর্কে জ্ঞাত থাকে, আবার পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা কিছু নাও জানতে পারে।
৪. গোষ্ঠী ঐক্যের প্রতীকরূপে কাজ করা (Symbolising group unity) : গোষ্ঠীর সভ্যগণ কিছু কিছু উপাদানের কারণে গোষ্ঠীর ঐক্যের দিকটিকে বড় করে দেখেন। গোষ্ঠীর প্রতীক হিসেবে পরিচয় জ্ঞাপক চিহ্ন, পোশাক, ঐক্যবোধকে চিহ্নিত করে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে ইংল্যান্ডের রাণীর নাম, যিনি একটি গোষ্ঠীর প্রতীকরূপে কাজ করেন।
৫. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ (Expert advising) : বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরামর্শ দেয়া নেতার অন্যতম কাজ। অনেক সময় দেখা যায় বিশিষ্ট জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার জন্যই কোন ব্যক্তিকে দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। যেমন- দেখা যায় যে, ক্রীড়া সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হওয়াতে কোন ক্রীড়াবিদ দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। তেমনিভাবে বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে নিজেদের গোষ্ঠীর উপর নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
৬. অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ (Controlling internal relationship) : নেতার অন্যতম কাজ হলো গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা। সোষ্ঠীর খুঁটিনাটি সকল বিষয়ের প্রতি নেতাকেই দৃষ্টি রাখতে হয় এবং তাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
৭. গোষ্ঠীর পিতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করা (To act as father figure) : গোষ্ঠীর সভ্যরা নেতাকে তাদের পিতার সমান মর্যাদাসম্পন্ন মনে করে। নেতা হলেন ব্যক্তির আবেগ ও অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু। কোন কোন নেতা শুধুমাত্র সভ্যদের সাথে তার সুসম্পর্কের কারণে গোষ্ঠীর প্রতি প্রবল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, নেতৃত্ব হলো এক ধরনের সামাজিক গুণ। সুষ্ঠু নেতৃত্ব ছাড়া কোন গোষ্ঠী, সমাজ বা রাষ্ট্রই উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে পারে না, বরং অযোগ্য নেতৃত্বের কবলে পড়ে একটি জাতি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণের কথা ভেবেই নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর নেতৃত্বকে কখনই মেনে নেওয়া উচিত নয়। সঠিক পথ প্রদর্শন এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে উন্নতির চূড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হতে হবে নেতৃত্বের একমাত্র লক্ষ্য । জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় সংহতি সংরক্ষণে যোগ্য নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!