Answer

নারী শিক্ষার অনগ্রসরতার কারণ ও তা দূর করার উপায় আলোচনা কর ।

অথবা, কিভাবে নারী শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়? পদক্ষেপগুলো বর্ণনা কর।
অথবা, নারী শিক্ষার অনগ্রসরতার উপায়সমূহ সমাধানসহ আলোচনা কর।
অথবা, কিভাবে নারী শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়? পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর।
অথবা, নারী শিক্ষার অনগ্রসরতা কারণ উল্লেখপূর্বক কিভাবে এ সমস্যা সমাধান করা যায়? বর্ণনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা
: প্রকৃত মুক্তিই সম্ভব নারী শিক্ষার মাধ্যমে। শিক্ষার মাধ্যমে লোকে নিষ্ক্রিয়তার পরিবর্তে অংশগ্রহণ এবং প্রতিবিধানের নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও অভ্যাস গড়ে তুলতে শিখে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারীকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক কারণে পুরুষদের উপর নির্ভর করতে হয়। এ নির্ভরশীলতাই তাদের
পরাধীন করে তুলে। তাদেরকে এ পরাধীনতা থেকে মুক্ত করতে পারে একমাত্র শিক্ষা। দেশের সুষম আর্থসামাজিক বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদেরও সমহারে অংশগ্রহণ একান্ত আবশ্যক। এ অংশগ্রহণ তখনই সম্ভব যখন তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়। আর এ সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই প্রয়োজন শিক্ষার। তাই পরিবার, দেশ ও জাতির উন্নয়নে নারী শিক্ষার ভূমিকা অপরিহার্য।|
নারী শিক্ষার অনগ্রসরতার কারণ : সংবিধানের ২৮ (২)নং ধারা জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী পুরুষে সমানাধিকার নিশ্চিতকরণের অধিকার দেয়। নারীর সমঅধিকারের এ দৃষ্টিতেই নাগরিক হিসেবে নারীর নাগরিক ও মানবাধিকারের প্রাপ্তি দাবি করে। ন্যূনতম চাহিদার প্রেক্ষিতেও নারী সমতার দাবিদার। তাই শিক্ষার মৌলিক প্রশ্নে প্রয়োজন। নিম্নে নারী শিক্ষার অনগ্রসরতার কারণগুলো আলোচনা করা হলো :
১. সামাজিক কারণ : আমাদের সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক। এ সমাজে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে তেমন স্কুলে যে শিক্ষা দেয়া হয় তা গৃহকর্মের মাধ্যমে অর্জিত ব্যবহারিক জ্ঞানের স্থান নিতে পারে না। কাজেই তারা যদি স্কুলে কোনো চাপ নেই। জনমনে ব্যাপক বিশ্বাস যে, সুমাতা ও সুগৃহিণী হওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন নেই যায় তাহলে এটা কেবল সময়ের অপব্যয় মাত্র। কন্যা শিশু কৈশোরে পা দিতেই তাকে পর্দার অন্তরালে আড়াল করা হয়, স্কুলে যেতে দেয়া হয় না। বাইরের সমাজে তাকে
২. ধর্মীয় অপব্যাখ্যা : এ মনোভাবের সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় মনোভাব, যা মেয়েদের স্কুল ত্যাগের একটি কারণ। মিশতে দেয়া হয় না। সেখানে নারী শিক্ষার বিকাশ ঘটবে কিভাবে? আবার মেয়েদের পড়াশুনার জন্য ব্যয় একটা বাড়তি খরচ বলে অনেকেই মনে করেন।
৩. অর্থনৈতিক কারণ : অর্থনৈতিক কারণ নারী শিক্ষার একটা বড় অন্তরায়। কেননা যেখানে অর্থ নেই সেখানে নারীদের জন্য মাসিক ব্যয় মাত্র ২৭% এবং পুরুষদের জন্য ৭৩%। তাহলে দেখা যাচ্ছে, মহিলাদের জন্য শিক্ষাখরচ পুরুষের অর্ধেকেরও কম।
৪. বাল্যবিবাহ : আমাদের দেশের আবহাওয়ার দরুন অতি অল্প বয়সেই মেয়েরা যৌবনপ্রাপ্ত হয়। সেহেতু মেয়েদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় যে সংসারই তার আসল কর্মক্ষেত্র। আর এজন্যই অল্প বয়সেই তাদের বিবাহ দেয়া হয়। তাই বাল্যবিবাহ নারী শিক্ষার পশ্চাৎপদতার একটি বিরাট কারণ।
৫. স্কুলের সংখ্যা স্বল্পতা : সহশিক্ষাব্যবস্থা আজকের এ যুগেও আমাদের সমাজ কমই মেনে নেয়। আর আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য খুব বেশি সংখ্যক পৃথক স্কুল নেই যেখানে তাদের মা বাবারা তাদেরকে পাঠাতে রাজি হবেন । –
৬. যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নতি : স্কুল কলেজের দূরত্ব মেয়েদের জন্য যতটা বেশি তাৎপর্যপূর্ণ সে তুলনায় এটাযাওয়ার অনুমতি পায় না।
সমাধান : সমস্যার অস্তিত্বকে মেনে নেয়া সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের নারী শিক্ষার সমস্যার সমাধান তেমন কোনো দুরূহ ব্যাপার নয়। একক প্রচেষ্টায় কোনো সমস্যার সমাধান যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। অবশ্য সেজন্য আমাদেরকে অপেক্ষাও করতে হবে। এবার কী কী উপায়ে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব সেদিকে দৃষ্টি দেয়া যাক।
১. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন : প্রথমেই নারী শিক্ষা সম্পর্কে সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বলা হয়েছে নারীর উচ্চশিক্ষা কতকগুলো সামাজিক উপযোগ সৃষ্টি করে। যেমন-
ক. সন্তানের শিক্ষাগত ও সামাজিক প্রস্তুতির মান।
খ.ছেলেমেয়েদের অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে বিয়ে দেয়ার উপলব্ধি ।
গ. মহিলা সমাজের মর্যাদা উন্নয়ন।
ঘ. ঘরের বাইরে উৎপাদনমুখী কর্মে অংশগ্রহণে নারীর যোগ্যতা।
২. সামাজিক নিরাপত্তা : সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য অধ্যয়নরত ছাত্রীরা যেন স্কুলত্যাগ না করে সেজন্য সামাজিক নিরাপত্তাসহ অর্থনৈতিক সম্পদের সুষম বণ্টন প্রয়োজন।
৩. সরকারি তৎপরতা : বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে বিবিধ বৃত্তি, উপবৃত্তি, বেতন মওকুফ, বই, খাতা, পেন্সিল প্রদান, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা প্রভৃতি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাছাড়া ব্র্যাক এবং অন্যান্য NGOগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আমাদের নারী শিক্ষার হার বাড়াতে সাহায্য করছে।
৪. মহিলা সংগঠনগুলোর ভূমিকা : এ জটিল সমস্যা সমাধানে দেশের মহিলা সংগঠনগুলোর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এগুলো শহরকেন্দ্রিক। সম্প্রতি এর বিভিন্ন শাখা গ্রামাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সংস্থার শাখা খোলার প্রস্তাবাধীন আছে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে আমরা সারা বিশ্বের বাস্তবতার আলোকে বলতে পারি কোনো দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে নারী পুরুষ উভয়কেই শিক্ষিত করে তুলতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ভাষায়, “নারী ও নর উভয়ে একই বস্তুর অঙ্গবিশেষ। যেমন— একজনের দুটি হাত কিংবা কোনো শকটের দুটি চক্র। সুতরাং উভয়ে সমতুল্য। অথবা উভয়ে মিলে একই বস্তু হয়। তাই একটিকে ছাড়িয়ে অপরটি সম্পূর্ণ উন্নতি লাভ করতে পারবে না। এক চক্ষুবিশিষ্ট ব্যক্তিকে লোকে কানা বলে।” সর্বোপরি সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে মহিলাদের আত্মিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে তাদের উন্নয়ন আবশ্যক। আর তা কেবলমাত্র উপযুক্ত নারী শিক্ষাবিস্তারের মাধ্যমেই সম্ভব।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!