ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

জেন্ডার উন্নয়নের কৌশলসমূহ আলোচনা কর।

অথবা, লিঙ্গ উন্নয়নের টেকনিকসমূহ বর্ণনা কর।
অথবা, জেন্ডার উন্নয়ন কী? জেন্ডার উন্নয়নের কৌশলসমূহের বিবরণ দাও।
অথবা, জেন্ডার ও উন্নয়ন কাকে বলে? জেন্ডার বা লিঙ্গ উন্নয়নের টেকনিকসমূহ সম্পর্কে যা জান লিখ।
উত্তর৷ ভূমিকা :
জেন্ডার সব সময়ের একটি বহুল আলোচিত ও চর্চিত প্রত্যয় বা ধারণা। বিংশ শতাব্দীর ৭০ এর দশকে নারীবাদী চিন্তাবিদদের দ্বারা ‘জেন্ডার’ ধারণাটি বিকশিত হয়। তবে সর্বপ্রথম মনোবিজ্ঞানীগণ ‘জেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেন। উন্নয়ন সাহিত্য ও গবেষণায় জেন্ডার প্রত্যয়টি সাম্প্রতিককালে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জেন্ডার ও উন্নয়ন : ১৯৮০ এর দশকের উন্নয়নে নারী এবং উন্নয়ন নীতিমালার সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষিতে জেন্ডার এবং উন্নয়ন (Gender and Development বা সংক্ষেপে গ্যাড (GAD) নামক নারী উন্নয়ন নীতিমালার উদ্ভব ঘটেছে। মূলত সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ এর ভিত্তি। জেন্ডার এবং উন্নয়ন একমাত্র নারী উন্নয়ন নীতিমালা যা নারীর জীবনের সব দিককে সামনে নিয়ে আসে। নারী কর্তৃক সম্পাদিত উৎপাদনমূলক বা পুনঃউৎপাদনমূলক, ব্যক্তিগত বা সামাজিক সকল ধরনের কাজের উপর মনোযোগ স্থাপন করে এবং পারিবারিক ও সাংসারিক কাজকে মূল্য দেয়। এই নীতিমালা কেবল নারীর উপরই নয়, জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্কের উপরই আলোকপাত করে । জেন্ডার ও উন্নয়ন মধ্যকার নানা সামাজিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এই জেন্ডার এবং উন্নয়ন বা গ্যাড নীতিমালার উদ্ভব ঘটেছে। নারী ও পুরুষের মধ্যকার এই সম্পর্কে হতে পারে আরোপিত। যেমন- জন্মগত ও বৈবাহিক সূত্রে, জাতির

গোষ্ঠীগতভাবে নারী ও পুরুষের সম্পর্ক। আর কতকগুলো সম্পর্কিত সম্পর্ক হলো অর্জিত সম্পর্ক। যেমন- একজন নারী তার দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে জড়িত হওয়ার ভিত্তিতে যে সম্পর্ক গড়ে তোলে। গ্যাড নীতিমালা নারীকে উন্নয়নের পরোক্ষ উপকারভোগী নয় বরং সক্রিয় চালিকাশক্তি রূপে বিবেচনা করে। যদিও এখানে এখনো ধরে নেয়া হয় না যে, নারীরা তাদের সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত ‘জেন্ডার ও উন্নয়ন’
নীতিমালা হচ্ছে একমাত্র নীতিমালা, যা নারীর জীবনের সকল দিককে ধারণ করে। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষ উভয়ের ভূমিকাকে এখানে সমভাবে দেখা হয়। এ নীতিমালার তাত্ত্বিকগণ মনে করেন, নারী-পুরুষ সকলের কাজ সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্রমবিভাজন লিঙ্গের ভিত্তিতে না হয়ে সামর্থ্যের ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে। তাই এ নীতিমালা শুধু নারী নয় পাশাপাশি পুরুষকেও উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার দাবি জানায়। GAD নীতিমালা নারী- পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর হচ্ছে কি তা পরীক্ষা করে দেখে। এটি এমন একটি সমাজ গঠনের কথা বলে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলেই সমতার মানদণ্ডে বিবেচিত হবে। জেন্ডার ও উন্নয়ন নীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন। তাদের এমন স্তরে উন্নীত করা যেখান থেকে তারা নিজেদের অধিকার, পছন্দ, অগ্রাধিকারের লক্ষ্যে লড়াই করতে সক্ষম। এই নীতিমালা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলে যেখানে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলেই সমতার ভিত্তিতে বিবেচিত। আর তা এমন একটি সমাজ হবে যেখানে নারী ও পুরুষ সাম্যতার ভিত্তিতে কাজ করে। একজনের কাজকে অন্যজনের কাজের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় এবং যেখানে শ্রম বিভাগ লিঙ্গীয় নয়, সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।
জেন্ডার উন্নয়নের কৌশলসমূহ : নিম্নে জেন্ডার উন্নয়নের কৌশলসমূহ দেয়া হলো :
১. নিছক নারী উন্নয়ন নয়, নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে;
২.পুরুষের সাথে সমতার ভিত্তিতে নারীকে উন্নয়নে সম্পৃক্ত করে;
৩.নারীকে সমস্যা নয়, সমাধানের কারণ রূপে দেখে;
৪.সমস্যার উপসর্গ বা লক্ষণ নয়, ৫.কারণগুলোকে চিহ্নিত করে;
৬.নারী ও পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান অসম বা বৈষম্যমূলক সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের দাবি জানায়।
৭.নারীর অধস্তনতার ভিত্তি রূপে বিরাজমান পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে তার অবসান চায়।
৮.নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রচলিত কাজের বরাদ্দ, দায়দায়িত্ব অর্থাৎ সমাজ কর্তৃক আরোপিত জেন্ডারভিত্তিক
শ্রমবিভাজনের বিলুপ্তি দাবি করে।
৯.পরিবার ও পরিবারের বাইরে নারীর সকল পারিশ্রমিকবিহীন কাজ ও অবদানের যথাযথ মূল্য ও স্বীকৃতি দেয়; মূলত নারীকেই সম্বোধন করলেও নারীর বৃহত্তর স্বার্থের প্রয়োজনে পুরুষকে সম্পর্কিত করে। নারী উন্নয়ন ও জেন্ডার সমতা অর্জনের লক্ষ্যে সহায়ক সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।
১০. অনেকাংশে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা দৃঢ় অঙ্গীকার দাবি করে। জেন্ডার ও উন্নয়ন নীতিমালা তিন ধরনের ভূমিকাকেই পুনঃউৎপাদনমূলক, উৎপাদনমূলক এবং সামাজিক ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয় এবং এদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে তৎপর হয়। এমনকি নারীর একটি ভূমিকার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার ক্ষেত্রেও নারীর বাদবাকি ভূমিকার কথা বিবেচনা করে পরিকল্পিত হস্তক্ষেপ করা হয়। নারীর বাস্তবমুখী ও
কৌশলগত উভয় ধরনের জেন্ডার এবং উন্নয়ন বা গ্যাড নীতিমালা।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, জেন্ডার এবং উন্নয়নই প্রথম নারী উন্নয়ন নীতিমালা যা দারিদ্র্যের নারীমুখীনতাকে উপলব্ধি করে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট সময়ে টেকসই দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্য অর্জনের কথা ঘোষণা করে। একটি অধিকতর ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাধর্মী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রচলিত ধ্যানধারণা, মনোভাব ও কর্মকাণ্ড পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে জড়িত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়াটায় হলো জেন্ডার এবং উন্নয়ন নীতিমালার মূল কথা।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!