ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলাসমূহ কী?

অথবা, গ্রাম আদালতে কোনো ধরনের মামলার বিচার করা হয়?
অথবা, গ্রাম আদালতের বিচারযোগ্য মামলা উল্লেখ কর।
অথবা, গ্রাম আদালতের মামলার ধরনগুলো তুলে ধর।
অথবা, গ্রাম আদালতের বিচারযোগ্য মামলাগুলোর নাম লেখ।
অথবা, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে যে সকল মামলার বিচার করা হয় তা বর্ণনা কর।
অথবা, “গ্রাম আদালতের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়”- ব্যাখ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বিরোধ ও বিবাদ সহজ ও দ্রুত নিষ্পঞ্জি লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠন করা হয়েছে।গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলাসমূহ : ২০০৬ সালের গ্রাম আদালত আইনের ৩নং ধার মোতাবেক ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলাসমূহের নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত বিচার করতে পারে।
ফৌজদারি মামলাসমূহ :
১. দণ্ডবিধির ধারা ৩২৩ বা ৪২৬ বা ৪৪৭ মোতাবেক কোনো অপরাধ সংঘঠন করা, বে-আইনি জনসমাবেশ সাধারণ উদ্দেশ্যে হলে এবং উক্ত বেআইনি জনসমাবেশে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা দশের অধিক না হলে দণ্ডবিধির ১৪৩ ও ১৪৭ ধারা এর তৃতীয় বা চতুর্থ দফার সাথে পঠিতব্য।
২. দণ্ডবিধির ধারা ১৬০, ৩৩৪, ৩৪১, ৩৪২, ৩৫২, ৩৫৮, ৫০৪, ৫০৬, (প্রথম অংশ) ৫০৮, ৫০৯, এবং ৫১০৷
৩.দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৯, ৩৮০ ও ৩৮১ যখন সংঘটিত অপরাধটি গবাদি পশু সংক্রান্ত হয় এবং গবাদিপশুর মূল্য অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা হয়।
৪.দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৯, ৩৮০ ও ৩৮১ যখন সংঘটিত অপরাধটি গবাদি পশু ছাড়া অন্যকোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত হয় এবং উক্ত সম্পত্তির মূল্য অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা হয়।
৫. দণ্ডবিধির ধারা ৪০৩, ৪০৬, ৪১৭ ও ৪২০ যখন অপরাধ সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা হয়।
৬. দণ্ডবিধির ধারা ৪২৭, যখন সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিরমূল্য অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা হয়।
৭. দণ্ডবিধির ধারা ৪২৮ ও ৪২৯ যখন গবাদিপশুর মূল্য অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা হয় ।
৮. Cattle-Trespass Act, 1871 (Act I of 1871) এর Section 24, 26, 27
৯. উপর্যুক্ত যে কোনো অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা বা উহা সংঘটনের সহায়তা প্রদান।
দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে : যখন দাবীকৃত অর্থের পরিমাণ অথবা অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য অথবা অপরাধ সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা হয়। তখন নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত মামলা পরিচালনা করতে পারে।
১. কোনো চুক্তি, রশিদ বা অন্য কোনো দলিল মূল্যে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের জন্য মামলা।
২. কোনো অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার মূল্য আদায়ের জন্য মামলা।
৩. স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এক বৎসরের মধ্যে তার দখল পুনরুদ্ধারের মামলা।
৪. কোনো অস্থাবর সম্পত্তির জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মামলা।
৫. গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণের মামলা।
৬. কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, গ্রাম আদালতে বর্ণিত আইনের মাধ্যমে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয়বিধ মামলা পরিচালনা করতে পারলেও নিম্নোক্ত বিষয়াবলির সাথে সম্পর্কিত কোনো মামলাও গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচার্য হবে না। যদি উক্ত মামলায় কোনো নাবালকের স্বার্থ জড়িত থাকে, বিবাদের পক্ষগণের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তিতে শালিসের বা বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান থাকে এবং সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কর্তব্য পালনরত কোনো সরকারি কর্মচারী উক্ত বিবাদের কোনো পক্ষ হয়।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!