ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

কৃষক পরিশ্রম করে শস্য উৎপাদন করে, প্রার্থনা করে নয়।”- ব্যাখ্যা কর।

উৎস : আলোচ্যে অংশটুকু বুদ্ধিনিষ্ঠ প্রাবন্ধিক কাজী আবদুল ওদুদের ‘বাংলার জাগরণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে সংকলিত হয়েছে।
প্রসঙ্গ : অক্ষয়কুমার দত্ত সংস্কার আন্দোলনে জ্ঞানের প্রতি যে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন তা আলোচ্য উক্তি থেকে প্রতীয়মান হয়।
বিশ্লেষণ : ব্রাহ্মধর্মের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং প্রচারক অক্ষয়কুমার দত্ত জগতের হিতের জন্য জ্ঞান ও কর্মের উপর সব চাইতে বেশি করে জোর দিয়েছেন। জ্ঞান ও কর্মবাদের উপর তাঁর সে সুবিখ্যাত সমীকরণ বাংলার চিন্তার ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে আছে। শুধু প্রার্থনার যে কিছুমাত্র কার্যকারিতা নেই তা প্রতিপন্ন করবার জন্য তিনি লিখেছেন- কৃষক পরিশ্রম করে শস্য উৎপাদন করে, প্রার্থনা করে নয়। একেই তিনি একটি সমীকরণের রূপ দিয়েছেন এভাবে- প্রার্থনা + পরিশ্রম = শস্য পরিশ্রম = শস্য :. প্রার্থনা = 0 অক্ষয়কুমারের এ মনোভাব ব্রাহ্মসমাজের একাংশের উপর কার্যকর ছিল। পশ্চাৎপদ এবং অনগ্রসর জনসমাজে অক্ষয়কুমারের কর্মবাদের চেয়ে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অধ্যাত্মবাদের প্রভাবই বেশি কার্যকর ছিল। শেষ পর্যন্ত মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ব্রাহ্মধর্মের ব্যাখ্যাই রামমোহনের পরে ব্রাহ্মসমাজ গ্রহণ করেছিল। তবে অক্ষয়কুমারকে মেনে নিয়ে তাঁর জ্ঞান এবং কর্মবাদকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে বাংলার জাগরণ আরো ত্বরান্বিত হতো বলে আমাদের বিশ্বাস।
মন্তব্য : অক্ষয়কুমার দত্তের জ্ঞান এবং কর্মবাদ ব্রাহ্মসমাজে শেষ পর্যন্ত টিকে না থাকলেও বাঙালির সংস্কারমুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!