ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

একটি পিতার হাত থেকে কবরের কাঁচা মাটি ঝরে পড়তে না পড়তেই আরেক পিতার বুক-শূন্য-করা গুলিবিদ্ধ সন্তানের লাশ তার নেমে যায় নীরন্ধ্র কবরে।”— ব্যাখ্যা কর।

উৎস : ব্যাখ্যেয় অংশটুকু বাংলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমান বিরচিত ‘বার বার ফিরে আসে’ শীর্ষক কবিতা থেকে চয়ন
প্রসঙ্গ : এখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অগণিত পিতার বুক খালি হওয়া সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষণ : যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে আমরা আজ বসবাস করছি এদেশটি হঠাৎ করে স্বাধীন হয়নি। কেউ বাইরে থেকে সেধে এসে আমাদেরকে স্বাধীনতা উপহার দেয়নি। ১৯৭১ সালে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। এ যুদ্ধের আগে প্রায় দুই যুগ ধরে আমরা পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদ আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি উজ্জ্বল মাইলফলক। শহীদ আসাদের রক্তাপ্লুত শার্ট আমাদেরকে শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বায়ান্ন থেকে শুরু করে একাত্তর পর্যন্ত এ দীর্ঘ সময়ে ঔপনিবেশিক শাসকেরা এদেশের লক্ষ লক্ষ মায়ের কোল খালি করেছে। যখনই আমরা আমাদের ভাষার কথা বলেছি, স্বায়ত্তশাসনের কথা বলেছি, স্বাধিকারের কথা বলেছি, স্বাধীনতার কথা বলেছি, মুক্তির কথা বলেছি তখনই আমাদের বুকে চালানো হয়েছে গুলি। স্বাধীনতা নামের এ অমূল্য রত্নটি লাভ করতে আমাদেরকে এক সাগর রক্ত ঢেলে দিতে হয়েছে। এসব আন্দোলনে একজন পিতার হাতের কবরের মাটি শুকাতে না শুকাতে আর এক পিতাকে কবর খোঁড়া শুরু করতে হয়েছে। অর্থাৎ অগণিত পিতা তার ছেলেকে স্বাধীনতার বেদীমূলে উৎসর্গ করেছেন। লক্ষ লক্ষ পুত্র তাদের পিতাদের বুকে পুত্রশোকের দাবানল জ্বেলে দিয়েছে।
মন্তব্য : রক্তে কেনা এ স্বাধীতা আমাদের পরম শ্রদ্ধার বস্তু। একে লাভ করতে লক্ষ লক্ষ পিতা পুত্রহারা হয়েছেন।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!