Answer

‘হুন্ডিই রেমিট্যান্সের প্রধান শত্রু’ আলোচনা কর ।

অথবা, ‘হুন্ডিই রেমিট্যান্সের প্রধান শত্রু’ বিশ্লেষণ কর।
অথবা, ‘হুন্ডিই রেমিট্যলের প্রধান শত্রু’ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরা৷ ভূমিকা :
হুন্ডি ব্যবসায় এ উপমহাদেশে একটি অত্যন্ত পুরনো অবৈধ ব্যবসায়। এ ব্যবসায় যদিও অবৈধ কিন্তু অবাধে চলছে যুগ যুগ ধরে। বিদেশে কর্মরত ব্যক্তি তার কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ চ্যানেলে নিজ দেশে আত্মীয়স্বজন পরিবার পরিজনের নিকট প্রেরণ করে থাকেন। কিন্তু হুন্ডি ব্যবসায়ী বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার এ কষ্টার্জিত
বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ চ্যানেলে প্রেরণে বিরত করে এবং কিছুটা বেশি রেট দিয়ে উক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করে। দেশীয় মুদ্রার বেনিফিশিয়ারিকে পরিশোধ করে।বিদেশ থেকে টেলিফোনের মাধ্যমেই বেশি এ বিবেক বর্জিত অর্থাৎ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসে না। সাধারণ ভাষায় লেনদেন হয় এ হুন্ডির টাকা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অর্থাৎ হুন্ডি ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। বিনা পরিশ্রমে কোনো রকম পুঁজি না খাটিয়ে তারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন।
এটাই হুন্ডি অনেকেই প্রবাসে অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা চাকরির পাশাপাশি হুন্ডি ব্যবসায়কে সাইড বিজনেস হিসেবে নিয়েছে। হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানকার চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে তা বিদেশি মাফিয়া চক্রের
মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও হংকং পৌছে দিচ্ছেন। হুন্ডির মাধ্যমে অর্জিত এ সমস্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিভিন্ন অবৈধভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিদেশে কর্মরত হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্তৃক অর্জিত কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা থেকে। হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এরাই প্রবাসীদেরকে প্রভাবিত করে অবৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণে উদ্বুদ্ধ করে থাকে । প্রবাসে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রধানত নিম্নলিখিত কারণসমূহের জন্য অবৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ করে থাকেন।
১. ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে স্বল্পতম সময়ে প্রাপকের বাড়িতে গিয়ে টাকা পৌঁছে দেয়া হয়।
২. বিদেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে জটিলতা, বিশেষ করে এক সাথে বেশি পরিমাণ অর্থ প্রেরণ করতে হলে অনেক ফরমালিটিজ প্রতিপালন করতে হয়। ফলে রেমিটার হুন্ডির আশ্রয় নেয়।
৩. বিনা ফি এবং অনেক সময় বাকিতে অর্থ প্রেরণের সুযোগ প্রদান করা হয়।
৪. ব্যাংকিং চ্যানেলে অফিসিয়াল রেটের চেয়ে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থের পরিমাণ কিছুটা বেশি দেয়া হয় ।
৫. বিদেশে যে সমস্ত স্থানে অফিসিয়াল চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের সুযোগ সুবিধা নেই সেখানে হুন্ডির আশ্রয় নেয়া হয়।
কিন্তু এতদসত্ত্বেও অবৈধভাবে টাকা প্রেরণের কোনো নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা থাকে না। অফিসিয়াল চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে এর অফিসিয়াল রেকর্ড থাকে। দেশে সহায় সম্পত্তি কেনার সময় তা আয়কর মুক্ত থাকে। অপরদিকে, অবৈধভাবে টাকা পাঠালে কোন কাস্টমার কপি দেয়া হয় না এবং পুরো ব্যাপারটাই থাকে অনিশ্চয়তায় ভরা। সর্বোপরি
দেশ ও জাতির স্বার্থই বিবেচ্য বিষয়। বৈদেশিক মুদ্রা যদি সঠিক পথে দেশে আসতো তাহলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা আরো ভালো থাকতো । যখন একদিকে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ কমে যায়, অপরদিকে রপ্তানি বাণিজ্য হ্রাস পায়। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে সরকার রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রেমিট্যান্সের প্রবাহ সহজ করা হয়। প্রতিটি ব্যাংকে ফরেন রেমিট্যান্স মনিটরিং সেল খোলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করে। এছাড়া ২০০২ সালে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন’ পাস করা হয়। মানি লন্ডারিং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চোরাচালানী ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন বিভাগ। সরকার কর্তৃক এ সমস্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক সফলতা এসেছে। ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি আমদানি ব্যয় মিটানোর পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ড
পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। রেমিট্যান্সের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে হুন্ডি প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, হুন্ডিই রেমিট্যান্সের প্রধান শত্রু । তাই এই অবৈধ হুন্ডির ব্যবসায় অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!