ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

“সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবন প্রণালীর ধরনের পরিবর্তন”- ব্যাখ্যা কর

অথবা, “সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবন প্রণালীর ধরনের পরিবর্তন”-তুমি কী এই বক্তব্যের সাথে একমত? আলোচনা কর।
অথবা, সামাজিক পরিবর্তনের সংজ্ঞা দাও। “সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবন প্রণালীর ধরনের পরিবর্তন” স্যামুয়েল কোস্লেনিগের বক্তব্যটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
সমাজ পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তনশীলতার হার সময় ও সমাজভেদে ভিন্নতর হতে পারে। অর্থাৎ কোনো সমাজই স্থবির নয়। মানুষের ক্রিয়াকর্ম, ব্যক্তিগত জীবনধারা ও আচরণ পদ্ধতি প্রভৃতি কারণে সমাজে অনিবার্যভাবে পরিবর্তনের ছোয়া লাগে। অনুরূপভাবে বাংলাদেশের বৃহত্তর গ্রামীণ সমাজে রদবদল বা পরিবর্তন বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সমাজের এ আবশ্যিক পরিবর্তনে মানুষ ক্রমশ উন্নততর পর্যায়ে বা সভ্য অবস্থায় উপনীত হয়েছে। পাশাপাশি মানুষ তার নিজস্ব সমাজ সংস্কৃতির অনেকটাই পরিবর্তনের ধাক্কায় হারিয়ে ফেলছে।
সমাজ পরিবর্তন (Social change): সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠান যেমন- অর্থনৈতিক, সামাজিক,রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইত্যাদির মধ্যে রদবদল, সমাজস্থ মানুষের সামাজিক সম্পর্ক তথ্য সমাজকাঠামোর মধ্যকার সার্বিক রদবদল বা পরিবর্তনই সমাজ পরিবর্তন।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও সমাজবিজ্ঞানী সমাজ পরিবর্তনকে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস পেয়েছেন। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো:
সমাজবিজ্ঞানী স্যামুয়েল কোয়েনিগ বলেন, “সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবন প্রণালীর ধরনের পরিবর্তন।”
কিংসলে ডেভিস বলেন, “সমাজের সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তনকে সামাজিক পরিবর্তন বলে।”
রোর্জাস বলেন, “সামাজিক পরিবর্তন বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে যার মাধ্যমে সামাজিক ব্যবস্থায় কাঠামো এবং ক্রিয়ার পরিবর্তন হয়।”
উপরিউক্ত সংজ্ঞাসমূহের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে মানব সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ও মূল্যমানগত কাঠামোতে পরিবর্তন। অর্থাৎ সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনধারার প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থা, বৈষয়িক আচরণ ও ধরনসমূহের পরিবর্তন।
“সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের জীবন প্রণালীর ধরনের পরিবর্তন” : মানুষের সৃষ্টির সময় হতেই কৃষি কাজ চালু হয় এবং বৃহৎ গ্রাম সম্প্রদায় গড়ে উঠে। গত তিন দশকে সারা বিশ্বেই সমাজজীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা।
১. অর্থনৈতিক পরিবর্তন : সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন সাধিত হয়। প্রতিনিয়তই সমাজের প্রত্যেকটি উপাদানের পরিবর্তন, পরিবর্ধন সাধিত হচ্ছে। তবু অর্থনৈতিক পরিবর্তন বেশি মাত্রায় সমাজকে পরিবর্তনশীল করে তুলছে। অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো :
ভূমি সম্পর্ক : বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর পরিবার প্রতি কৃষিজমির পরিমাণ প্রথমে ১০০ বিঘা এবং পরে ৭৫ বিঘারও কমে ৬০ বিঘায় সিলিং করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক পেশা : উদারহণস্বরূপ বাংলাদেশীদের গড় পড়তা আয় ১২৭ ডলার থেকে ১৩৪৮ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১৯৮৭-৮৮ থেকে ১৯৯৯-২০০০ নাগাদ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৩.২ শতাংশ।
জীবনযাত্রার মান : বর্তমানে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। মেয়েরা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে। কৃষি ক্ষেত্রে মজুরের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. সামাজিক পরিবর্তন : সমাজে সামাজিকতারও বেশ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। গ্রামে ও শহরে উভয় স্থানে এ পরিবর্তন সহজেই দৃশ্যমান। কিছু উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরা হলো :
যৌথ পরিবারের ভাঙ্গন : গ্রামের মানুষ শহরে আসতে পছন্দ করছে। যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রাম ও শহরের মানুষ বেশি সন্তান নিতে আগ্রহী নয়।
পারিবারিক আদালত : পারিবারিক ও ধর্মীয় আদালত স্থাপিত হওয়ার পরে গ্রামের মেয়েরা তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে।
বিবাহের ক্ষেত্রে পরিবর্তন : আগের সমাজে বাবা-মা তাদের সন্তানকে বিবাহ দিতেন কিন্তু বর্তমানে ছেলে/মেয়েরা নিজে নিজেই বিবাহ করতে পছন্দ করছে। বর্তমানে বহুবিবাহ কমে যাচ্ছে কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ বেড়েই চলেছে। এছাড়া বর্তমানে যৌতুক প্রথা কমে গেছে।
৩. রাজনৈতিক অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন : বিংশ শতকের শুরু থেকেই রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ নিম্নে কতিপয় তুলে ধরা হলো :
শিক্ষিত শ্রেণির আর্বিভাব : বর্তমানে গ্রামে ও শহরে শিক্ষিত তরুণরা সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আগে নেতৃত্ব দিতো হামের মোড়ল, জমিদার বা অভিজাতরা।
অধিকার সচেতনতা : উন্নত বিশ্ব থেকে শুরু করে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল বিশ্বের সবাই এখন অধিকার সচেতন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বেশ সচেতন সাধারণ লোকজন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তন : আগের দিনে জমিদারের সন্তান কিংবা বড় কোনো রাজনৈতিক নেতার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করতো কিন্তু বর্তমান পরিবর্তনশীল সমাজে সমাজের সর্বস্তরের ছেলে বা মেয়েরা সবাই কমবেশি শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে।
3. সাংস্কৃতিক পরিবর্তন : সমাজে ব্যাপকভাবে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়-আগের দিনে গ্রামাঞ্চলে মাটি দিয়ে বিভিন্ন বস্তু যেমন— তৈজসপত্র, খেলনা তৈরি হতো কিন্তু বর্তমানে সকল কিছু চিনা মাটির খেলনা, তৈজসপত্র তৈরি হচ্ছে। এছাড়া চিত্র বিনোদন যেন আগের দিনে জারি, সারি, ভাটির গান চলতো কিন্তু এখন রক, হিপ হপ, ব্যান্ড, রপ সংগীত চলে। এছাড়া ধর্ম এ মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। উপরোক্ত পরিবর্তন ছাড়াও কৃষিতে, মূল্যবোধ, মানসিকতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গণমাধ্যম ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থা,বাণিজ্য উন্নয়ন প্রচেষ্টাসহ খাবার দ্রব্য, পোশাক পরিচ্ছদ সমিত সকল কিছুর পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
উপসংহার : উপরোক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, সামাজিক পরিবর্তনে সমাজের বহু উপাদান একসে কাজ করে। এসব উপাদানের কোনো একটির পরিবর্তনের ফলে সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। সমাজের সামগ্রিক কাঠামোর পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মানুষের জীবন কাঠামো থেকে শুরু করে নগর,বন্দর, শহর, দেশ সকল কিছুর পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে এবং সমাজ ব্যবস্থা ধাবিত হচ্ছে আধুনিকতার নতুন জগতে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!