Answer

সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল স্থাপনে বেগম রোকেয়া কতটুকু সার্থক?

অথবা, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল স্থাপনের উদ্দেশ্য অর্জনে বেগম রোকেয়া কতটুকু সফল হয়েছেন?
উত্তর।৷ ভূমিকা :
বেগম রোকেয়া অনুধাবন করেছিলেন যে, যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজের অগ্রগতিতে যে সকল প্রতিবন্ধক পথ রুদ্ধ করেছে কেবল শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমেই যেসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা যেতে পারে। সমাজের উন্নতির জন্য তিনি পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজের উন্নতির অপরিহার্যতা রয়েছে বলে মনে করেন। এজন্য নারী শিক্ষা সম্প্রসারণকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষা সম্প্রসারণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। স্কুল স্থাপনের মাধ্যমে, লেখনীর মাধ্যমে তিনি নারী শিক্ষায় সকলকে উদ্বুদ্ধ করেন।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল স্থাপনের সফলতা : বাংলার মুসলমান নারীসমাজে শিক্ষাবিত পরের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল স্থাপন করেন। স্কুলটি পর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে এর কাজকর্ম তিনি পরিচালনা করতে পারেন নি। স্কুলটির অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য তাকে অশ্লীল
গালিগালাজ, নিন্দা-বিদ্রূপ, অপমান ও লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। দেশের বড় বড় লোক তারাও প্রাণপণে এ স্কুলের বিরুদ্ধে শত্রুতা করেছেন। শত ঝঞ্ঝা, শিলাবৃষ্টি, অত্যাচার সহ্য করেও কোম রোকেয়া সমাজের সামনে অতি উচ্চদরের এক অদ্বিতীয় আদর্শ বিদ্যালয় উপস্থিত করেছেন। স্কুলের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তাঁর অসীম অধ্যবসায় ও আন্তরিক অনুপ্রেরণার ফলস্বরূপ ১৯৩০ সালে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। অবরোধবন্দিনী মুসলমান মেয়েদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করার মত প্রেরণা দান মোটেও সামান্য কাজ নয়।
এ স্কুলের মাধ্যমে তিনি গৃহবন্দি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তাদের ঘরের বাইরের জগতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন এবং অনেকক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন। গৃহপ্রাচীরের অন্তরালে অবরুদ্ধ নারীকে বাইরের জাতে আনা খুব সহজ। ব্যাপার নয়, যা কোম রোকেয়া স্কুলের মাধ্যমে করতে সক্ষম হয়েছেন। স্ত্রীশিক্ষা যে সমাজে ছিল একেবারে নিষিদ্ধ, সে কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অন্ধকার স্ত্রীশিক্ষা বিরোধী সমাজে স্ত্রীশিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করেছেন এ স্কুলের মাধ্যমে। বেগম রোকেয়া স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সমাজের পশ্চাৎপদ মুসলমান নারীদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে টেনে বের করে এনেছেন আলোর জগতে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি অনেক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করেও এত মহান কাজে ব্রতী হয়েছেন। স্ত্রীশিক্ষাবিরোধী সমাজে স্কুল স্থাপন করে তিনি কুসংস্কারাছন্ন মুসলমান সমাজের বিবেককে কিছুটা হলেও সাড়া জাগাতে পেড়েছেন।
উপসংহার : নারী জাগরণের অগ্রদূত পুণ্যময়ী বেগম রোকেয়ার ইহলোক ত্যাগের অর্ধশতাব্দীকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এদেশের নারী জাগরণ তথা দেশ ও জাতির ইতিহাসে তাঁর অবদান অমলিন হয়ে আছে। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের নাম আজও স্মরণীয়। এ স্কুলই প্রথম মুসলমান নারীদের শিক্ষার পক্ষে পরিচালিত করে। তাই মুসলমান নারীসমাজের শিক্ষার আলোর দিশারী হিসেবে সাখাওয়াত মেমেরিয়াল স্কুলের নাম সবার আগে স্মরণীয়। এ স্কুলের অবদান অনস্বীকার্য। তাই বলা যায়, বেগম রোকেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য অনেকাংশে সার্থক।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!