ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের জীবনী, রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আলোচনা কর

অথবা, ষাট দশকে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের উত্থানপর্ব ও রাজনৈতিক অবদান আলোচনা কর।
অথবা, বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী শ্রীমাভোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধর। রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শ্রীমাভোর অবদান সবিস্তারে লিখ।
অথবা, শ্রীমাভো বন্দরনায়েক কে? রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তার কি কোনোও অবদান আছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কার নয়, সারা বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তিনি হলেন শ্রীমাভো রাতওয়াত্তে দিয়াস বন্দরনায়েকে (Srimavo Ratwatte Dias Bandarnaike)। তিনি তিনবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হবার গৌরব অর্জন করেন। তিনি শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রিত্বের আসনে আসীন হওয়ার পর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও অভিনন্দন জানায়। কারণ একজন নারী শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রিত্বে আসীন হওয়ায় তারা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশরা অবশ্য শ্রীমাভোর দ্বারা তাঁদের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যাপারে ছিল উদ্বিগ্ন। কারণ, শ্রীমাভো বাম দলের আদর্শে লালিত ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তিকামী। শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তাঁর অসামান্য অবদান লক্ষ্য করা যায়।
সংক্ষিপ্ত জীবনী : ১৯১৬ সালের ১৭ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার রত্নপুরা জেলার বালাঙ্গোলা শহরের এক ধনী ও অভিজাত পরিবারে জন্ম হয়েছিল শ্রীমাভোর। তাঁর পুরো নাম শ্রীমাভো রাতওয়াত্তে দিয়াস বন্দরনায়েকে। তাঁর পিতার নাম বারনেস রাতওয়াত্তে এবং মায়ের নাম মাহাওয়ালাতেন রাতওয়াত্তে। তাঁর পিতা রত্নপুরা জেলার একজন ভূস্বামী ছিলেন। তাছাড়া তিনি সিংহলো জাতীয় সংসদের সদস্যও ছিলেন। পিতামাতার ছয় সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন শ্রীমাভো। রত্নপুরা জেলার এক খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি কলম্বোয় সেন্ট ব্রিজেস কনভেন্ট স্কুলে ভর্তি হন । শ্রীলঙ্কার তৎকালীন তরুণ রাজনীতিবিদ এবং শ্রীলঙ্কা সরকারের স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী
এস.ডব্লিড.আর. বন্দরনায়েকের সাথে শ্রীমাভো ১৯৪০ সালের ৩ অক্টোবর ২৪ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শ্রীমাভো তিন সন্তানের মাতা ছিলেন। স্বামী জীবিত থাকাকালীন তিনি রাজনীতিতে নামেন নি। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি স্বামীকে সবসময় সহায়তা করতেন এবং নিজে জড়িত ছিলেন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে।শ্রীলঙ্কার ফ্রিডম পার্টির নেতা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা, সে দেশের সরকার প্রধান শ্রীমাভোর স্বামী সলোমান বন্দর নায়েককে ১৯৫৯ সালে হত্যা করা হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্রীমাভো রাজনীতিতে আসেন এবং ১৯৬০ সালে শ্রীলংকার ফ্রিডম পার্টির চেয়ারপার্সন নিযুক্ত হন। প্রথম দফায় তিনি ১৯৬০-৬৫ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়বার ১৯৭০-৭৭ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তৃতীয়বারের জন্য ১৯৯৪ সালে আবারও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে অবসর গ্রহণ এবং ঐ বছরের অক্টোবরে কলোম্বোতে পরলোকগমন করেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের অবদান : সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে। এ গৌরব তাঁর পূর্বে কেউ অর্জন করতে পারে নি। নারী নেতৃত্ব হিসেবে রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান অসামান্য। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়সাধন : সারাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়সাধন এবং একই মর্যাদায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদেশি সংস্থা (NGO) পরিচালিত, খ্রিস্টান মিশনারি পরিচালিত স্কুলগুলোকে সরকারের তত্ত্বাবধানে আনা হয়।
২. শান্তি প্রতিষ্ঠা : শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন। জাতিসংঘে ভারত-মহাসাগরকে পরমাণুমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করার জন্য তিনি প্রস্তাব রেখেছিলেন। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন রাষ্ট্র তাঁর এ
প্রস্তাবকে সমর্থন করে।
৩. দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ইংরেজি চালু : ১৯৬১ সালের জানুয়ারি মাসে সিংহলি ভাষার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিকেও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কারণ তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, কেবলমাত্র দেশাত্মবোধের টানে আঞ্চলিকতা নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না। তাই তিনি একাত্মতা ঘোষণা করেন তাদের আধুনিকতার সাথে। এ পদক্ষেপটা তাঁর জন্য ছিল ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তামিলদের দাবি ছিল সিংহলের পাশাপাশি তামিল ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হোক। কিন্তু তা না করে যখন ইংরেজিকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হলো তখন তামিলদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য এবং জনগণের ভুল ভাঙাবার জন্য তিনি অবশ্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ঘোষণা করেছিলেন।
৪. শ্রীলঙ্কাকে স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ ঘোষণা : সে সময় পর্যন্ত দেশটি ছিল ব্রিটিশ রাজশক্তির উপনিবেশ। যদিও দেশটি সীমিত অর্থে স্বাধীনতা ভোগ করতো, কিন্তু তখনো দেশটিতে বহাল ছিলেন ব্রিটিশ গভর্নর। রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন মূলত তিনিই। তাই ১৯৬১ সালে শ্রীমাভো দেশের পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন ও দেশকে একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ বলে ঘোষণা, করার জন্য বিল পাস করান। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে ব্রিটিশ সরকার শ্রীলঙ্কায় পূর্ণ স্বাধীনতা মেনে নিয়ে গভর্নর প্রত্যাহার করে।
৫. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে : ১৯৭০ সালে ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের বৃহৎ শিল্পগুলো জাতীয়করণ করেন। তাঁর সরকার মৌলিক অর্থনৈতিক প্রকল্প যেমন- ব্যাংক পদ্ধতি জাতীয়করণ এবং আবশ্যকীয় দ্রব্যের আমদানি বাণিজ্যের ঘোষণা করেন।
৬. সংবিধান প্রণয়ন : United Front (UF) সরকার একটি নতুন সংবিধান তৈরি করে ১৯৬০ সালে। এ সংবিধান পাস হয় Constituent Assembly কর্তৃক। সংবিধানটি যথাযথভাবে পাস হয় ২২ মে, ১৯৭২ সালে। এ সংবিধান মূলত শ্রীমাভোর প্রচেষ্টায় প্রণীত হয়। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ সংবিধান প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে সৃষ্টি হয় একটি প্রজাতন্ত্রের।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, শ্রীমাভো রাজনৈতিক জীবনে তাঁর স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন। সফলতা ও ব্যর্থতা সবার জীবনেই থাকে। সবকিছুর পরেও আমরা বলতে পারি যে, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ। অসামান্য ব্যক্তিত্ববান এ মহিয়সীর নাম বিশ্বের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় আজীবন স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা থাকবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!