ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

যৌবনকে রাজটিকা প্রদানের পক্ষে প্রমথ চৌধুরী যেসব যুক্তির অবতারণা করেছেন তা নিজের ভাষায় লিখ।

অথবা, “এ মানসিক যৌবনকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য” – এ উদ্ধৃতির অনুসরণে লেখকের যৌবন সম্বন্ধীয় বক্তব্য বিবৃত কর।
অথবা, “প্ৰাণাৰেগ তথা মানসিক যৌবনের প্রতিষ্ঠাই প্রমথ চৌধুরীর ‘যৌবনে দাও রাজটিকা প্রবন্ধের সারকথা”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
অথবা, যৌবন ও বার্ধক্যের মধ্যে যে প্রভেদ তা প্রমথ চৌধুরীর ‘যৌবনে দাও রাজটিকা’ প্রবন্ধ অনুসরণে আলোচনা কর।
অথবা, সমাজে কীভাবে মানসিক যৌবন প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা প্রমথ চৌধুরীর ‘যৌবনে দাও রাজটিকা’ প্রবন্ধ অনুসরণে লিখ।
অথবা, সমাজে মানসিক যৌবন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘যৌবনে দাও রাজটিকা’ প্রবন্ধে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
‘সবুজপত্রের’ খ্যাতিমান সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী প্রজ্ঞালব্ধ সচেতনতার আলো ফেলে সমাজকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আধুনিক প্রাণপ্রাচুর্য ও বৈভবে তাঁর খ্যাতি ও প্রতিভার শীর্ষস্থানীয় শিল্পকীর্তি প্রবন্ধসাহিত্য। ‘যৌবনে দাও রাজটিকা’ লেখকের যৌবনবন্দনার শ্রেষ্ঠ নির্মাণ। এ প্রবন্ধে লেখক যৌবনকে রাজটিকা পরাবার প্রস্তাব করেছেন। তিনি তাঁর প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো যুক্তির অবতারণা করেছেন। মানসিক যৌবন অর্থাৎ প্রাণাবেগ দ্বারা অভিষিক্ত যে যৌবন তাকে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাবন্ধিক।
যৌবন কী : যৌবন মানুষের জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সোনালি সময়। সে কারণে আমাদের সমাজে বয়সের মাপকাঠিতে যৌবনকালকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে প্রবেশ করে যে মানুষ তাকে বলা হয় যুবক আর যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে পদার্পণ করার সাথে সাথে তাকে বলা হয় বৃদ্ধ। তবে যৌবন ও বার্ধক্যের এ আখ্যা ঠিক নয়। দৈহিক বয়সের মধ্যে যৌবনের রাজত্ব সীমাবদ্ধ নয়। যার মনে সাহস আছে, ইচ্ছা আছে, উদ্যম আছে বয়সে প্রবীণ হলেও তিনি যুবক। আর যার মনে সাহস নেই, ইচ্ছে নেই, উদ্যম নেই, বয়সে নবীন হলেও সে বৃদ্ধ।
মানসিক যৌবন: দেহের যৌবনের সাথে মানসিক যৌবনের একটা যোগসূত্র থাকলেও দৈহিক যৌবন ও মানসিক যৌবন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। দেহ সংকীর্ণ ও পরিচ্ছন্ন আর মন উদার ও ব্যাপক। দেহের যৌবনে ক্লেদ আছে, ভোগস্পৃহা আছে, আছে ক্ষয়। আর মানসিক যৌবনে আছে বৃদ্ধি, ঋদ্ধি ও লাবণ্য। একের দেহের যৌবন অন্যের দেহে প্রবেশ করানো যায় না। কিন্তু এক মনের যৌবন লক্ষ লক্ষ মনে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায়। মানুষের মানসিক যৌবনের প্রধান উপাদান হচ্ছে প্রাণাবেগ। যার প্রাণ নেই সে বৃদ্ধ, আর যার প্রাণ আছে সে যৌবনের পূজারী। সমাজে এ মানসিক যৌবন তথা প্রাণাবেগ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। প্রাবন্ধিক মানসিক যৌবন প্রতিষ্ঠার কথাই আলোচ্য প্রবন্ধে বিভিন্ন যুক্তির মাধ্যমে বলার চেষ্টা করেছেন।
বার্ধক্য ও যৌবনের পার্থক্য : পুরাতনকে আঁকড়ে থাকাই বার্ধক্য অর্থাৎ জড়তা। বার্ধক্য কিছু অর্জন করতে পারে না বলেই কিছু বর্জন করতেও পারে না। কিন্তু যৌবন অর্জন বর্জন দুই-ই করতে পারে। যৌবন জীবনের সর্বোত্তম উপাদান। যৌবন সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যায়, জড়তা থেকে মুক্তি দেয়। যে সমাজে যৌবন নেই সে সমাজ অন্ধকারাচ্ছন্ন জরাগ্রস্ত। যৌবন সমাজ দেহে গতির সঞ্চার করে তাকে প্রগতির দিকে নিয়ে যায়।
যৌবনকে রাজটিকা : মাসিক ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত যৌবনকে রাজটিকা পরানোর প্রস্তাব করেছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর এক বন্ধু সমালোচক সত্যেন্দ্রনাথ বাবুর বক্তব্যের সমালোচনা করে একটি লেখা লিখেছিলেন। এ দুটি পড়ে প্রাবন্ধিক যৌবনকে রাজটিকা পরাবার প্রস্তাব সমর্থন করেন। এ রাজটিকা রাজদণ্ডের শাসন নয়- যৌবনকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহ প্রদান মাত্র। মনের যৌবনই প্রকৃত যৌবন। যে সমাজের মানুষের মনে যৌবন নেই সে সমাজে অগণন যুবক থাকলেও স্রোতহীন নদীর মতো সে সমাজ গতিহারা। যে সমাজের মানুষের মনে যৌবন আছে সে সমাজ দরিদ্র হলেও বিত্তশালী, গতিশীল। যে যৌবন সমাজকে গতিশীল করে, মানুষকে প্রাণাবেগে উজ্জীবিত করে সে যৌবনকেই রাজটিকা পরাতে হবে।
রাজটিকা পরাবার কারণ : যে সমাজে যৌবন নেই সে সমাজ স্থবির জড় পদার্থের তুল্য। যৌবনশক্তিই সমাজের প্রাণ। এ কারণে সমাজের বুকে যৌবনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। মানুষের মধ্যে যৌবন না থাকলে সমাজ নির্জীব হয়ে পড়ে। আর সমাজে যৌবন থাকলে সমাজের মানুষ প্রাণচাঞ্চল্যে জীবন্ত হয়ে উঠে। যৌবনকে উৎসাহিত করা না হলে সমাজ জরা ব্যাধি ও জড়তায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সমাজকে সজীব, সচল ও সজাগ রাখার জন্য প্রাবন্ধিক যৌবনকে রাজটিকা পরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। যৌবনকে রাজটিকা পরালে অর্থাৎ মনের যৌবনের স্বীকৃতি দিলেই সমাজ গতিশীল থাকবে।
সমাজে প্রাণাবেগ : প্রাণাবেগ মানসিক যৌবনের প্রধান উপকরণ। যেখানে প্রাণ নেই সেখানে চৈতন্য জড় হয়ে পড়ে। প্রাণই আমাদের দেহ ও মনের মধ্যস্থতা করছে। প্রাণের পায়ের নিচে হচ্ছে জড় জগৎ আর মাথার উপর মনোজগৎ। প্রাণের ধর্ম জীবন প্রবাহ রক্ষা করা । সুতরাং প্রাণাবেগ সম্বলিত যে যৌবন তাকে বাঁচিয়ে রাখাই আমাদের কর্তব্য।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যৌবনকে অস্বীকার করলে বা অবহেলা করলে সমাজ গতিহীন হয়ে পড়ে। তাই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর যৌবনকে রাজটিকা পরিয়ে সচল করে তুলতে হবে। সমাজে মানসিক যৌবন প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রাবন্ধিক তাই সকলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!