ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

মার্গারেট থ্যাচারের জীবনী ও তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আলোচনা কর।

অথবা, নারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে মার্গারেট থ্যাচারের উপর মন্তব্য পেশ কর।
অথবা, ম্যাচারের জীবনী লিখ। তার রাজনৈতিক জীবনের বিবরণ দাও।
অথবা, লৌহ মানবী মার্গারেট থ্যাচারের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে যা জান উল্লেখ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
ব্রিটিশ জনগণের কাছে ‘লৌহমানবী’ নামে খ্যাত মার্গারেট থ্যাচার ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। উত্তরাধিকার ছাড়াও যে নারীরা দেশ শাসনের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে তাঁর বাস্তব প্রমাণ তিনি নিজেই। তিনি তাঁর নিজ যোগ্যতার বলেই এ ক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছেন। পূর্বেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বেশ কয়েকজন মহিলা রাজসিংহাসনে রাণির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু তারা কেউ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আসেন নি। মার্গারেট থ্যাচারই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হওয়া ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। কেবলমাত্র ব্রিটেন নয়, গোটা ইউরোপে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হবার গৌরবও তিনিই অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ রক্ষণশীল দল (Conservative Party) থেকে নির্বাচিত প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী । তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিচক্ষণতা ও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
পরিচয়/জীবনী : ১৯২৫ সালের ১৩ অক্টোবর লন্ডন থেকে ১৬০ কি. মি. উত্তরে লিংকনশায়ার প্রদেশের বাণিজ্যিক শহর গ্রানথামে মার্গারেট থ্যাচার জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মূল নাম মার্গারেট হিলোভা থ্যাচার। তাঁর পিতার নাম আলফ্রেড রবার্টস। তিনি ছিলেন মুদি দোকানের মালিক। তাঁর এ মুদি দোকান ছিল নিজ বাড়ির নিচ তলাতেই। ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। থ্যাচার ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত চটপটে ও মেধাবী ছিলেন। তিনি স্কুল জীবন শেষ করেন কেস্টেভেন এবং গ্র্যানথাম গার্লস হাই স্কুল থেকে। স্কুলের পড়া শেষ করে তিনি ভর্তি হন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সামারভিল কলেজে। ১৯৪৬ সালে এখান থেকেই তিনি বি.এ. পাস করার পর আবার ১৯৪৯ সালে রসায়ন ও এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি নিয়ে বি.এস.সি পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে এম.এ. পাস করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজারভেটিভ এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ২০ বছর বয়স থেকে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে মার্গারেট থ্যাচার ডার্টফোর্ডের রক্ষণশীল দলের অন্যতম প্রভাবশালী তরুণ নেতা ও ধনী ব্যবসায়ী ডেনিশ থ্যাচারকে বিয়ে করেন। তাঁর স্বামী বার্মা-ক্যাস্ট্রল তেল কোম্পানির পরিচালকও হয়েছিলেন। তারা দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক-জননী। বাকিংহাম ইউনিভার্সিটি এবং উইলিয়াম ও মেরী কলেজের চ্যান্সেলর ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার।
মার্গারেট থ্যাচারের রাজনৈতিক জীবন এবং তাঁর বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ড : ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসের কৃতি মহিলা মার্গারেট থ্যাচার শুধু মহিলা হিসেবেই প্রশংসার পাত্রী নয় তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতাও প্রশংসনীয়। তিনি দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। নিম্নে তাঁর রাজনৈতিক জীবনসহ এ সম্পর্কে আলোচনা উপস্থাপন করা হলো :
১. রক্ষণশীল দলের স্থানীয় শাখার সভানেত্রী হিসেবে মনোনয়ন : কেন্ট প্রদেশের ডার্টফোর্টের রক্ষণশীল দলের স্থানীয় শাখার সভানেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৪৯ সালে মনোনীত হন। তিনি সর্বপ্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ
নিয়েছিলেন ১৯৫০ সালে টোরি দলের প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শ্রমিকদের সমর্থন বেশি থাকায় তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালের উপনির্বাচনেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এবারও তিনি পরাজিত হন।
২. ১৯৫৯ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ : লন্ডনের উচ্চ মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত অঞ্চলের নির্বাচনী এলাকা থেকে ১৯৫৯ সালে তিনি আবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। এ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন।
৩. পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন : ১৯৬১ সালে তিনি পেনশন এবং ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী হ্যারাল্ড ম্যাকমিলান কর্তৃক। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। শ্রমিক দল ১৯৬৪ সালে ক্ষমতায় এলে বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হন মার্গারেট থ্যাচার ।
৪. শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন : রক্ষণশীল দল আবার ক্ষমতায় আসে ১৯৭০ সালে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন করলেন মার্গারেট থ্যাচারকে।
৫. দলের সভানেত্রী হিসেবে মনোনয়ন : দলের নেতা নির্বাচনের ভোটাভুটিতে মার্গারেট থ্যাচার এডওয়ার্ড হিথকে ১৯৭৫ সালে পরাজিত করতে সক্ষম হন এবং রক্ষণশীল দলের সভানেত্রী হিসেবে তিনি মনোনীত হন।
৬. প্রধানমন্ত্রিত্ব অর্জন : মার্গারেট থ্যাচারের নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে রক্ষণশীল দল। তখন মার্গারেট থ্যাচার প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হন। তিনি ১৯৭৫-১৯৯০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
৭. শিক্ষাক্ষেত্রে : শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তার বেশিরভাগ প্রশংসা অর্জন করলেও অনেক পদক্ষেপ আবার সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। যেমন- স্কুলে সাত থেকে এগারো বছরের বাচ্চাদের জন্য বিনামূল্যে দুধ এবং হ্রাসকৃত মূল্যে টিফিন সরবরাহ করা হতো। তিনি ক্ষমতায় এসে দেশের দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে বিনামূল্যে দুধের পরিবর্তে হ্রাসকৃত মূল্যে দুধ সরবরাহ ও টিফিনের দাম এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করেন। ফলে বেশ সমালোচনার সম্মুখীন হন।
৮. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে : ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মন্দাভাব দেখা দেয়। এটা কাটিয়ে উঠার জন্য তিনি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন- স্বাস্থ্য, গৃহায়ন, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত মালিকানাকে বেশি উৎসাহ প্রদান করতেন।
৯. প্রশাসনিক ক্ষেত্রে : কোনো রকম অনিয়ম তাঁর পছন্দ নয়। তাই তাঁর অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি ছিল প্রশাসনিক নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষার প্রতি ৷ ‘লৌহমানবী’ খ্যাতিটি শাসন ক্ষমতায় দৃঢ়তার জন্যই তিনি ব্রিটিশ জনগণের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, মার্গারেট থ্যাচার ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণেই পুরুষশাসিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রায় হাজার বছরের ইতিহাস ভঙ্গ করে ১৯৭৯ সালে সর্বপ্রথম দেশটির মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনিই ছিলেন ব্রিটেনে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯০ তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ রলেও বর্তমান পর্যন্ত তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি ইউরোপের সকল দেশের সর্বাপেক্ষা খ্যাতিমান রাজনীতিবিদদের অন্যতম যা সমগ্র বিশ্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!