ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

মরমিবাদ’ হিসেবে সুফিবাদের স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

অথবা, মরমী সাধনতত্ত্ব হিসেবে সুফিবাদের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর ।
অথবা, মরমীবাদের আলোকে সুফি দর্শন বিশ্লেষণ কর।
অথবা, সুফিবাদের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
মানুষের চিন্তার ইতিহাসে পরমসত্তাকে জানার আকাঙ্ক্ষা চির নতুন। মানুষের চিন্তা এক নৈর্ব্যক্তিক খোদার ধারণায় উপনীত হয়েছে। এক নৈর্ব্যক্তিক খোদা তাঁর অন্তরের অনন্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা মিটাতে পারেনি। তাই যুগে যুগে মানুষ আপনার অন্তরের অন্তঃস্থলে আপনার প্রিয়জনকে খুঁজে বের করেছে এবং তার সাথে অন্তরের নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন করেছে। পরমসত্তাকে জানার প্রয়াসই দর্শনের ইতিহাসে মরমিবাদ নামে পরিচিত। এ মরমিবাদ মুসলিম দর্শনে সুফিবাদ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। মূলত সুফিবাদ আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও আল্লাহর ধ্যানভিত্তিক একটি অভিনব মতবাদ।
সুফি শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ : সুফি কথাটির সাথে গ্রিক ভাষা থেকে উদ্ভূত ‘মিস্টিক’ কথাটির নিকট যোগসূত্র রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় প্রচলিত মিস্টিক কথাটি আরবি, ফার্সি ও তুর্কি মুসলমানদের এ তিনটি প্রধান ভাষায় সুফি নামে পরিচিত।তবে মরমি ও সুফি এ দুটি কথা সম্পূর্ণ সমার্থক নয়। কারণ সুফি কথাটির একটি ধর্মীয় তাৎপর্য ও সীমিত ব্যবহার রয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ হতে সুফি সে মরমিবাদকেই বুঝায়, যারা ইসলামি ধর্মের অনুসারী। কেউ কেউ মনে করেন, সুফি কথাটি ‘সাফা’ শব্দ থেকে এসেছে। ‘সাফা’ শব্দটির অর্থ পবিত্রতা। তারা মনে করে যে, সুফিরা ছিল পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং সুফিরা অন্তরের পবিত্রতার উপর বিশেষ জোড় দেন। অন্যেরা মনে করেন যে, ‘সুফি’ শব্দটি ‘আহলুস সাফ্ফা’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। মদিনায় এমন প্রায় পাঁচশ লোক ছিল যাদের কোন পার্থিব আকর্ষণ বা উৎসাহ ছিল না। তাঁরা জনগণের কাছে কাঠকাটা লোক বলে পরিচিত ছিল। তাঁরা দিন এনে দিন খেতো এবং ভবিষ্যতের জন্য কোন সঞ্চয় করতেন না। তাঁরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ভক্তি ও অনুরাগ নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল। সর্বপ্রথম যিনি এ সুফি উপাধি গ্রহণ করেন তিনি ছিলেন হাশেম আসাদ বিন আহমদ।
সুফিবাদের স্বরূপ : সুফিবাদ আল্লাহর প্রেম ও ধ্যানের উপর প্রতিষ্ঠিত এক ধরনের চিন্তাধারা। সুফিবাদ হচ্ছে ইসলামের সুফি সম্প্রদায়ের মতবাদ। এ সুফিবাদ কথাটি একাধিক অর্থবোধক। তবে আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য ইসলামের যে মরমি ভাবধারার উৎপত্তি হয় তাই সুফিবাদ নামে পরিচিত। একদিকে মুতাজিলাদের বুদ্ধিবাদ এবং অন্যদিকে আশারিয়াদের গোঁড়ামি ও অন্ধ আনুষ্ঠানিকতার প্রতিবাদস্বরূপ ইসলামে সুফিবাদের আবির্ভাব ঘটে। সুফিবাদ অনুসারে খোদা প্রেমময়। তিনি আমাদের প্রেমাস্পদ। প্রেমই ধর্ম। খোদার প্রেম
লাভই মানবজীবনের পরম সম্পদ। মানুষকে শাস্তি প্রদান করাই খোদার একমাত্র উদ্দেশ্য নয় বরং তিনি সমস্ত সুষমা, সমস্ত প্রেম ও সমস্ত জ্ঞানের আধার। খোদার সাথে মানুষের এক নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। সুফি দর্শনের মূল সুর হলো খোদা। খোদাই একমাত্র পরম ও চরম সত্তা। জগতের যাবতীয় বস্তু খোদা হতে নিঃসৃত হয়েছে এবং সমস্ত বস্তুতে তাঁর মহিমা বিচ্ছুরিত হচ্ছে।
সুফিদের মতে, “মানুষ সৃষ্টির চরম কারণ নয়, কিন্তু মানুষের মধ্যে পরমসত্তার সৃষ্টি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত অভিব্যক্তি ঘটেছে।” তাই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। ঐশী চিন্তায় মানুষ প্রথম উদিত হয়েছিল এবং বিবর্তনের শেষ স্তরে তার আবির্ভাব ঘটেছিল। বিভিন্ন সুফি ও সুফিবাদের লেখকগণ বিভিন্নভাবে সুফিবাদকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন-
মারুফ আল কান্নখী বলেছেন, “সুফিবাদ ঐশী সত্তার উপলব্ধি।”
জুননুন মিসরী বলেছেন, “খোদা ছাড়া আর সব কিছু পরিবর্তন করাই সুফিবাদ।”
জুনায়েদ বাগদাদী বলেছেন, “জীবন, মৃত্যু ও অন্যসব ব্যাপারে খোদার উপর নির্ভরশীলতাই সুফিবাদ।”
আল কুশারী বলেছেন, “বাহ্য ও অন্তর জীবনের বিশুদ্ধতাই সুফিবাদ।”
আবু সাহল সালুকী বলেছেন, “আপত্তিকর বিষয় হতে দূরে সরে থাকাই সুফিবাদ।”
আবু মুহাম্মদ আজ-জারিনী বলেছেন, “সদভ্যাস গঠন এবং সমস্ত অনিষ্টকর কামনা হতে হৃদয়কে মুক্ত করাই সুফিবাদ।”
আবু আলী কাজিনী বলেছেন, “সুফিবাদ মনোরম আচরণ ছাড়া অন্য কিছুই নয়।”
আবু আবদুল্লাহ খাফিক বলেছেন, “খোদা যাকে তাঁর প্রেম দিয়ে শুদ্ধ করেছেন সে ব্যক্তি হলেন সুফি।”
শেখুল ইসলাম জাবারিয়া আনসারী বলেছেন, “সুফিবাদ মানুষের আত্মার বিশোধনের শিক্ষা দান করে। তাঁর নৈতিক জীবনকে উন্নত করে এবং স্থায়ী নিয়ামকের অধিকার অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষের ভিতর ও বাইরের জীবনকে গড়ে তোলে। এর বিষয়বস্তু হচ্ছে আত্মার পবিত্রতা বিধান এবং তার লক্ষ্য চিরন্তন সুখ শান্তি অর্জন।”
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, সুফিবাদ এমন একটি মতবাদ যার নামের সাথে একাধিক অর্থ ও বিচিত্র ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে। তবে সার্বিকভাবে বলা যায়, যে শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ পাপ কার্য হতে বিরত থেকে অন্তর বিশুদ্ধির মাধ্যমে বাহ্য ও অন্তর্জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন করে ঐশী সত্তার উপলব্ধির মাধ্যমে পরম ও চিরন্তন শান্তি লাভ করে তাকে সুফিবাদ বলে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!