Answer

বিশেষ / আবদ্ধ মাঠকর্ম সংস্থাপন কী? আবদ্ধ মাঠকর্ম সংস্থাপনের শর্তগুলো আলোচনা কর।

অথবা, বিশেষ / আবদ্ধ মাঠকর্ম সংস্থাপন বলতে কী বুঝ? আবদ্ধ মাঠকর্ম সংস্থাপনের শর্তসমূহ আলোচনা কর।
অথবা, বিশেষ সংস্থাপনের সংজ্ঞা দাও। বিশেষ মাঠকর্ম সংস্থাপনের শর্তসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখাও।
অথবা, আবদ্ধ মাঠকর্ম সংস্থাপনের সংজ্ঞা দাও।আবদ্ধ মাঠকর্ম সংস্থাপনের শর্তসমূহ বর্ণনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
মাঠকর্মের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োজিতকরণকে মাঠকর্ম সংস্থাপন (Field Placement) বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায় তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জনের পর একজন শিক্ষানবিস সমাজকর্মীকে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারিক জ্ঞানার্জন ও তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগের জন্য নিয়োগ করাই হলো মাঠকর্ম সংস্থাপন।
আবদ্ধ মাঠকর্ম/ বিশেষ মাঠকর্ম : আবদ্ধ বা বিশেষ মাঠকর্ম বলতে সেই মাঠকর্মকে বুঝায় যেখানে সমাজকর্মীরা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে উঠার ক্ষেত্রে জ্ঞানার্জন করেন।সাধারণ সহগামী মাঠকর্ম শেষ করার পর আবদ্ধ বা বিশেষ মাঠকর্ম অনুশীলনে প্রেরণ করা হয়। এটি মূলত কর্ম সংশ্লিষ্ট মাঠকর্ম অনুশীলন। সমাজকর্মের কোন ক্ষেত্রে প্র্যাকটিস করার জন্য বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন পড়ে। এক্ষেত্রে শিক্ষানবিস সমাজকর্মীর চাহিদা অনুযায়ী অনেক সময় এ ধরনের মাঠকর্মে প্রেরণ করা হয়। আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে গভীর জ্ঞান লাভের সুযোগ পায় এবং এটি সে তার কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে। Case Western Reserve University- এর মতে “The block placement provides for field education as a stand alone experience, separate from course work.The block placement expands the opportunities for students to have an depth learning experience in diverse setting both international & domestic, সহগামী মাঠকর্ম অনুশীলনের সাথে আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনের মধ্যে প্রধানত দুটি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।যথা :
১. আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলন অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কিন্তু সহগামী মাঠকর্ম অনুশীলন অপেক্ষাকৃত অধিক সময়ের জন্য।
২. আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলন সহগামী মাঠকর্ম অনুশীলনের মত একাডেমিক কোর্স ওয়ার্ক নয়।আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনে শিক্ষার্থীদের কেবল দেশের ভিতরেই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয় না তাদেরকে অনেক সময় দেশের বাইরেও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। এজন্য বলা হয়ে থাকে “Block placement is not only provides for a few intence field learning experience but it also allows for field placements outside.”
সুতরাং বলা যায় আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত তত্ত্বাবধায়কের কাছে আবেদন করতে হয়। আবেদনে এ ধরনের মাঠকর্ম অনুশীলনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে হয়।সাধারণত পেশাগত দক্ষতা অর্জন ও সমাজকর্ম অনুশীলনে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জনের জন্য আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনের জন্য অনুমতি দেয়া হয়।প্রতিষ্ঠানের কাজ ও শিক্ষার্থীর প্রয়োজনের ভিত্তিতে আবদ্ধ মাঠকর্ম প্রশিক্ষণ ন্যূনতম মাস থেকে ১ বছরের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
আবদ্ধ মাঠকর্ম/ বিশেষ মাঠকর্ম সংস্থাপনের শর্ত
আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনের কতগুলো শর্ত রয়েছে। নিম্নে এ শর্তগুলো উল্লেখ করা হলো :
১. ন্যূনতম মাস্টার্স ডিগ্রি : আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনের জন্য শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে হয়।(ST. Xavier’s College, Palayamkottai-627002, Tamil Nadu, India)।
২. দক্ষ পেশাগত সমাজকর্মী : একজন দক্ষ পেশাগত সমাজকর্মীর অধীনে শিক্ষার্থীদের আবদ্ধ মাঠকর্ম অনুশীলনের কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
৩. শিক্ষার্থীর চাহিদা : আবদ্ধ/ বিশেষ মাঠকর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এমন কোন প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে পারবে না যেখানে তাদের নিজস্ব লোকজন সম্পৃক্ত থাকে।
৪. অনুমতি পত্র : আবদ্ধ/ বিশেষ মাঠকর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে পেশাগত সমাজকর্ম অনুশীলনকারীদেরকে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিতে কাজ করার জন্য একটি অনুমতি পত্র গ্রহণ করতে হয়।
৫. শতভাগ উপস্থিতি : আবদ্ধ/ বিশেষ মাঠকর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে পেশাগত সমাজকর্ম অনুশীলনকারীদেরকে শতভাগ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হয়। সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নিয়মনীতি অনুযায়ী পূর্ণকালীন কর্মকর্তা যেভাবে তাদের হাজিরা নিশ্চিত করেন অনুশীলনকারীদেরকেও সেভাবে হাজিরা মেইনটেইন করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিষ্ঠানের দৈনিক হাজিরা খাতা/ হাজিরা রেজিস্টারে স্বাক্ষর করতে হয়।
৬. ড্রেস কোড : প্রশিক্ষণার্থীদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নীয়মনীতি অনুযায়ী ড্রেস কোড মেনে চলতে হয়।অর্থাৎ তাদেরকে নিদিষ্ট পেশাক পরিধান করে এজেন্সিতে যেতে হয়। তাছাড়া তাদেরকে সংশ্লিষ্ট আইডি কার্ডও সঙ্গে রাখতে হয়।
৭. পেশাগত মূল্যবোধ : প্রশিক্ষণার্থীদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির মূল্যবোধ মেনে চলার সাথে সাথে সমাজকর্মের আদর্শ,নীতিমালা ও মূল্যবোধকেও ধারণ করে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে তাদেরকে সাহায্যার্থীর মূল্যবোধ সম্পর্কেও প্রশিক্ষণার্থীকে সচেতন থাকতে হয়।
৮. দৈনন্দিন কর্ম লিখে রাখা : প্রশিক্ষণার্থীদেরকে দৈনন্দিন কর্ম লিখে রাখতে হয়।একটি ডায়েরি বা রেকর্ডিং বহিতে দৈনন্দিন কর্ম লিখে প্রশিক্ষণার্থীদেরকে স্বাক্ষর করতে হয় এবং তাতে এজেন্সি সুপারভাইজারের স্বাক্ষর নিতে হয়।
৯. রিপোর্ট প্রেরণ : প্রশিক্ষণার্থীরা দৈনন্দিন কর্ম লিখে রাখার পাশাপাশি তার একটি ফটোকপি সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান/ তত্ত্বাধায়কের নিকট প্রতি ১০ দিনে ১দিন প্রেরণ করতে হয়।এই রিপোর্টটি এজেন্সি তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক সত্যায়ন করে পাঠাতে হয়। (ST. Xavier’s College, Palayamkottai-627002, Tamil Nadu, India)
১০. চূড়ান্ত প্রতিবেদন : প্রশিক্ষণার্থীদেরকে তাদের প্রশিক্ষণ শেষে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। এই প্রতিবেদনে এজেন্সি তত্ত্বাবধায়ক ও সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান/ তত্ত্বাধায়কের স্বাক্ষর নিতে হয়।এটি কম্পিউটার কম্পোজ করে ডবল স্পেসে ১২-১৪ ফন্টে লিখতে হয়। ন্যূনতম পক্ষে ৮০ গ্রাম কাগজের এক সাইডে লেখা বাইন্ডিং করে জমা দিতে হয়।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, আবদ্ধ মাঠকর্ম/ বিশেষ মাঠকর্ম সংস্থাপনের উপরিউল্লিখিত শর্তগুলো মেনে চলতে হয় । শর্তগুলো মেনে চললে মাঠকর্ম অনুশীলন সফল হয়।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!