ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে নারীকে কিভাবে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়? আলোচনা কর।

অথবা, নারীকে গণমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার উপায়গুলো বর্ণনা কর।
অথবা, নারীকে গণমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার উপায়সমূহ আলোচনা কর।
অথবা, নারীকে গণমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?আলোচনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
আজকের বিশ্বে গণমাধ্যম একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই গণমাধ্যম এবং নারীর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম ও নারী বিষয়ক আলোচনায় দু’টি বিষয় অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকে। একটি হল গণমাধ্যমে নারীর রূপায়ণ অর্থাৎ কিভাবে নারীকে উপস্থাপন করা হচ্ছে এটা এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে মিডিয়ায় নারীর
অংশগ্রহণ। মিডিয়ায় নারীর রূপায়ণ ও অংশগ্রহণের বিষয়টি একটি দেশের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। কারণ মিডিয়া বা গণমাধ্যম হল সমাজেরই একটি প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ কারণে সমাজ নারীকে যে দৃষ্টিতে দেখে, গণমাধ্যমে নারীর সে রকম চিত্র দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গণমাধ্যম গণমাধ্যমে নারীকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে :
কিভাবে নারীর ভাবমূর্তিকে তুলে ধরছে, কিভাবেই বা গণমাধ্যম আরও ফলপ্রসূভাবে নারীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে
পারে, এ নিয়ে ১৯৭৫ (আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ) সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা, গবেষণা
পরিচালিত হচ্ছে। এরও দু’দশক পরে ১৯৯৫ সালের চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে নারী উন্নয়নের পথে যে ১২টি বাধা শনাক্ত করা
হয়, গণমাধ্যম তার মধ্যে একটি। সে প্রথম আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ থেকে নারী ও গণমাধ্যম বিষয়ে আমাদের সচেতনতার পর অনেক বছর কেটে গেছে। এর মধ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণীত হয়েছে, কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সুপারিশমালা দেওয়া হয়েছে, সভা-সমিতি-সেমিনার হয়েছে। তারপরেও গণমাধ্যমে নারী প্রতিমার খুব বেশি পরিবর্তন হয় নি এ দীর্ঘ সময়ে । বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালে যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে তার ‘গণমাধ্যম ও নারী’ বিষয়ক অংশে নিম্নলিখিত বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে- গণমাধ্যমে নারীর সঠিক ভূমিকা প্রচার, প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং অংশগ্রহণে বৈষম্য দূর করা; গণমাধ্যমে নারী ও মেয়ে শিশুর অংশগ্রহণ ও মতামত প্রকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নারী ও মেয়ে শিশুর ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটানো;
১.নারীর প্রতি অবমাননাকর, নেতিবাচক, সনাতনী প্রতিফলন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে প্রচার ব্যবস্থা করা;
৩. বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা ও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে নারীর জন্য সমান সুযোগ রাখা;

  1. প্রচার মাধ্যমের নীতিমালায় জেন্ডার প্রেক্ষিত যুক্ত করা;
    ৫.উপরিউক্ত বিষয়সমূহের আলোকে আইন, প্রচারনীতি, নিয়ন্ত্রণবিধি এবং আচরণবিধি প্রণয়ন করা। প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন বা পিএফএ পরবর্তী বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নারী ও গণমাধ্যমে-
    ক. গণমাধ্যমে বিভিন্ন নারী ইস্যুতে সচেতনতামূলক তথ্য ও অনুষ্ঠান প্রচার।
    খ.তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারীর অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
    গ.নারী ইস্যু তথা নারী অধিকারসংক্রান্ত সচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণ তৈরি ও প্রচার।
    ঘ.নারীর অবমাননাকর, গত্বাঁধা ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি বন্ধ করার সরকারি সার্কুলার জারি ।
    ঙ.সংবাদপত্রে নির্যাতিতা নারীর ছবি ও নাম প্রকাশ নিষিদ্ধকরণ।
    চ.নারীর গত্বাঁধা ভূমিকা তুলে ধরার প্রবণতা পরিহার করার জন্য গণমাধ্যমকে জেন্ডার সংবেদনশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ।
    ছ.ভাবমূর্তির বদলে নারীর ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ ।
    জ.গণমাধ্যম কর্মকর্তাদের জেন্ডার ট্রেনিং।
    ঝ. প্রেস ইনস্টিটিউট কর্তৃক গণমাধ্যম কর্মী বা কর্মকর্তাদের জন্য জেন্ডার ট্রেনিং প্রদান।
    ঞ. মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্লাজ প্রকল্প কর্তৃক বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং জেন্ডার পরিপ্রেক্ষিতে রেডিও ও টেলিভিশনের স্ক্রিনিং নামক দু’টি গবেষণা তথ্য প্রকাশ।
    ট.নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারী ও গণমাধ্যম বিষয়ে সমীক্ষা সমাপ্ত করে রেডিও ও টেলিভিশনের জন্য এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদান।
    উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, গণমাধ্যমে নারীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্য উপরে যেসব পদক্ষেপের কথা আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে গণমাধ্যমে নারীকে বিকৃত ও খণ্ডিতরূপে নয় পূর্ণাঙ্গ এবং ইতিবাচক রূপে দেখতে পাব বলে আশা করা যায়। উপরের পদক্ষেপগুলো
    বাস্তবায়িত হলে সব গণমাধ্যমের সবাই জেণ্ডার সংবেদনশীল হবে এবং গণমাধ্যমে নারী ও পুরুষের প্রকৃত উপস্থাপন দেখতে পাব। গণমাধ্যমে যা দেখানো হয় তা সমাজে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। তাই গণমাধ্যমে নারীর ইতিবাচক ইমেজ তুলে ধরলে তা সমাজেও প্রভাব ফেলবে, মানুষের মনে নারীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন হবে এবং সমাজও জেন্ডার সংবেদনশীল হবে।
পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!