ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বিজ্ঞানে নারীর ভূমিকা আলোচনা কর ।

অথবা, বিজ্ঞানে নারীর অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
মানবজীবনের প্রথম চাহিদা ছিল খাদ্য অর্থাৎ ক্ষুধা নিবারণ করা। আর নারীর আহরিত খাদ্য দিয়েই পৃথিবীতে মানুষের ক্ষুধা প্রথম নিবারণ হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় হাতিয়ার তথা প্রযুক্তি প্রথম আবিষ্কার করে নারী। ফলমূল গাছ থেকে পাড়ার জন্য এবং খাওয়ার জন্য চাকু, ছুরি, লম্বা আগায় লাগানো ধারালো আকশি, গাছের মূল উৎপাটনের জন্য কোদাল, শাবল ও খুন্তি এবং বন্য ফসল মাড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় মই ইত্যাদি যন্ত্রপাতি নারীরা উদ্ভাবন করেছিল এবং এসব হাতিয়ার নিজ হাতে তৈরি করতো। সভ্যতার প্রথম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নারীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। নিম্নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীর অবদান বা ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :
বিজ্ঞানে নারী : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অসামান্য অবদান রেখে চলেছে, যা অনেকটা অজানা। বিশেষ করে বিজ্ঞানে নারী যে ভূমিকা রেখে গেছেন তা দ্বারা বর্তমান সভ্যতা উপকৃত হচ্ছে। বিজ্ঞানে যেসব নারী অসামান্য অবদান রেখেছেন, নিম্নে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
. হাসপাসিয়া : গ্রিক বিদূষী নারী : খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে হাসপাসিয়া নামে একজন মহিলা বৈজ্ঞানিক তাঁর অসাধারণ মেধা ও বুদ্ধিমত্তার দ্বারা পৃথিবীকে চমৎকৃত করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত অঙ্কশাস্ত্রবিদ, প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক। শৈশব থেকে তিনি প্রতিভাময়ী ছিলেন এবং তাঁর পিতা ‘থিয়ন’ তার বিদূষী কন্যাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেন যাতে তিনি ভবিষ্যতে একজন অঙ্কশাস্ত্রবিদ এবং জ্যোতির্বিদ হতে পারেন। কিন্তু তিনি শুধু অঙ্কশাস্ত্রই চর্চা করতেন না তিনি দর্শন, যন্ত্রপাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন। কিন্তু তাঁর অসামান্য অবদান লক্ষ্য করা যায় বীজগণিতে। হাসপাসিয়ার বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা সে যুগের তুলনায়, অনেক অগ্রসর ছিল। তখনকার বৈজ্ঞানিকদের ধারণা ছিল পৃথিবী চ্যাপ্টা। কিন্তু হাসপাসিয়া মনে করতেন যে, পৃথিবী গোল। এ ধরনের চিন্তাধারা তৎকালীন খ্রিস্টান সমাজে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এ কারণে হাসপাসিয়া নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতনে হাসপাসিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
২. ডা. এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল : বিশ্বের প্রথম নারী চিকিৎসক : চিকিৎসাবিজ্ঞানে যে মার্কিন নারী প্রথম অসামান্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে পুরুষ প্রধান পেশায় সুনাম অর্জন করেন তাঁর নাম এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল। চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নে জন্য তিনি ২৮টি মেডিক্যালে আবেদন করেন কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এই অভিযোগে যে, তিনি নারী হয়ে পুরুষ পেশায় যোগ দিতে চান। অবশেষে নিউইয়র্কে জেনেভা কলেজে সুযোগ পান। ১৮৪৯ সালে তিনি যখন কৃতিত্বের সাথে পাস করলেন তখন দেখা গেল তাঁর পূর্বে পৃথিবীর কোথাও কোনো নারী চিকিৎসক হিসেবে নিজ পেশায় অসাধারণ অবদান রাখতে পারেন নি। শুধু প্রথম নারী হিসেবেই নন তাঁর ক্লাসের সেরা শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি মেডিক্যাল ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৮৬৬ সালে বিশ্বের প্রথম মহিলা মেডিক্যাল কলেজ ‘New York Infarmary’ প্রতিষ্ঠা করে মেডিক্যাল শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ মহিয়সী নারী ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১০ সালের ১০ মে মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।
৩. ডা. ফ্লোরেন্স সাবিন : বিশ্বের প্রথম রক্ত সঞ্চালন ও যক্ষ্মা রোগের আবিষ্কারক : অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, একাগ্রতা, মেধা ও অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে যে নারী বিজ্ঞানের বিশেষ চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেন তিনি হচ্ছেন ফ্লোরেন্স সাবিনা। তিনি বিশেষ করে রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি এবং যক্ষ্মা রোগের নিরোধকের উপর গবেষণা করে যশস্বী হয়েছিলেন। তিনি যে সময় চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন তখন বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয় নি। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে অনে যন্ত্রপাতি আবিষ্কার ও মান উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন। তিনিই প্রথম নারী যিনি প্রথম আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বালটিমোরের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী অধ্যাপকের সম্মান লাভ করেন। তিনি ছিলেন National Academy of Science এর প্রথম নারী সদস্য। সাদা রক্ত কণিকার উপর গবেষণা করে তিনি প্রমাণ করেন যে, বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে এগুলো শরীরকে রক্ষা করে। তাঁর মেধা ও গবেষণা প্রসূত ফল জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়তা করে।
তিনি ঘাতক ব্যাধি যক্ষ্মার উপরও গবেষণা করেন। রক্ত সঞ্চালন এবং যক্ষ্মা রোগের উপর তাঁর গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রেখেছে।
৪. মার্গারেট স্যাঙ্গার : প্রথম জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির আবিষ্কারক : শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, সমগ্র বিশ্বব্যাপী যে ব্যক্তি নারীমুক্তি আন্দোলন এবং বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার লাভের জন্য সংগ্রাম করে অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি হচ্ছেন মার্গারেট স্যাঙ্গার। এমন এক সময় ছিল যখন চিকিৎসকরা তাদের নারী রোগীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে
কোনোকিছু বলতেন না। কারণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটা ছিল নিষিদ্ধ। মার্গারেট স্যাঙ্গার আমরণ প্রচার করেন যে, একট শিশু জন্মগ্রহণ করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়িত্ব মায়ের এবং কখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা হবেন, তা নির্ধারণ করার জন্মগত অধিকার তার রয়েছে। কারণ তার শরীরের উপর তারই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে জন্মনিয়ন্ত্রণের যে প্রক্রিয়া চলছে জনসংখ্যা কমানোর জন্য তার অসামান্য কৃতিত্ব হচ্ছে মার্গারেট স্যাঙ্গারের। তিনি এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেন যখন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সম্পর্কে কারো ধারণা ছিল না। তিনি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অনেক পড়াশুনা করেন এবং গবেষণা করেন । তিনি আইনসম্মতভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণকে একটি সামাজিক ও পারিবারিক আন্দোলনে পরিণত করেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি এর সাফল্য দেখে যান সচেতনতার সৃষ্টি করে শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করেন তাঁর নাম ডা. ভার্জিনিয়া আপগার। প্রসবের পর শিশুর দু’বার স্বাস্থ্য
৫. ডা. ভার্জিনিয়া আপগার : বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ : যে নারী সর্বপ্রথম শিশুর জন্মের পর শিশু স্বাস্থ্য সম্বন্ধে হৃদযন্ত্রের স্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস, স্নায়ু ও পেশীর কার্যকলাপ যদি ঠিক থাকে তাহলে শিশুটি সুস্থ। জন্মের পর ২ মিনিট ও ৫ পরীক্ষা করা হয়। একবার জন্মের পর পরই এক মিনিটের মধ্যে এবং দ্বিতীয়বার পাঁচ মিনিটের মধ্যে। জন্মের পর শিশুর
মিনিট পর যদি শিশুর এসব ঠিক থাকে, তাহলে সে সুস্থ। এ প্রক্রিয়াটি Apgar Score System নামে পরিচিত আর এর উদ্ভাবক ডা. ভার্জিনিয়া আপগার। পৃথিবীর সব হাসপাতালে এটা ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে নবজাতকের তাৎক্ষণিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ফলে তারা সুস্বাস্থ্যসম্পন্ন হয়ে দীর্ঘায়ু হয়।
৬. ডা. গারটি বেদনিজ কোরি : চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন বিজ্ঞানী : জীবকোষ থেকে মানবদেহের যুক্তরাষ্ট্রের মহিলা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান তাঁর নাম গারটি বেদনিজ কোরি। তিনি গবেষণা শক্তি কিভাবে উৎপন্ন হয় এবং তা সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রভাব বিস্তার করে তাঁর উপর গবেষণা করে প্রথম যে মার্কিন করে প্রমাণ করেন যে, জীবকোষ খাদ্য ব্যবহার করে মানবদেহে শক্তি সৃষ্টি করে, যা মানুষকে বাঁচতে সাহায্য করে। তৎকালীন সময়ে তাঁর এ আবিষ্কার ছিল অভূতপূর্ব। নোবেল পুরস্কার লাভের পরও গারটি তাঁর গবেষণা অব্যাহত রাখেন। গারটি কোরি শুধু একজন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীই ছিলেন না, তিনি অনেক তরুণ ও মেধাবী বৈজ্ঞানিককে গবেষণায সাহায্য করেন। যাদের অনেকে পরবর্তী কালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
৭. গাটরুড বেল ইলিওন : নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহিলা বিজ্ঞানী : যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত মহিলা বিজ্ঞানী গাটরুড ইলিওন ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর বিষয় ছিল জৈবরসায়ন। তিনি প্রথম মহিলা বায়োকেমিস্ট বা জৈব রসায়নবিদ, যিনি শিশুদের লিউকোমিয়ার প্রতিষেধক আবিষ্কার করেন। যে কম্পাউন্ডটি তিনি আবিষ্কার করেন তী 6-Mercappopurium (6MP) নামে পরিচিত। এ অসাধারণ গবেষণার জন্য তিনি ১৯৮৮ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার জেমস ব্লাক নামের এক ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানীর সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
৮. ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা : মহাশূন্যে বিচরণকারী প্রথম নারী নভোচারী : প্রথম যে নারী নভোচারী মহাকাশে পরিভ্রমণ করেন তিনি রুশ বংশোদ্ভূত ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা। তিনি ১৯৩৭ সালে রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ ২ বছর নভোচারী হিসেবে প্রশিক্ষণ লাভ করেন এবং সাফল্যজনকভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করে ১৯৬৩ সালে তিনি নভোযানে করে সর্বপ্রথম নারী হিসেবে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন। তাঁর নভোযানের নাম ছিল Vostok-6। তিনি সর্বমোট ৪৯ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন। ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তাঁর পূর্বে কোনো নারী দুঃসাহসিক কাজ করতে পারেন নি।
৯. ড. মেরী কুরিঃ পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী বিজ্ঞানী : নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মেরী কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করে পৃথিবীব্যাপী অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে রেডিয়াম বা তেজস্ক্রিয় ধাতব পদার্থ ব্যতিরেকে ব্যবস্থাপত্র দেয়া মোটেও সম্ভবপর নয়। তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী- যিনি উপলব্ধি করেন যে, কোনো বস্তু থেকে নিঃসৃত অ্যাটমের পরিবর্তনের ফলে রঞ্জনরশ্মির সৃষ্টি হয়। এছাড়া তিনি রেডিয়াম ও পোলেনিয়াম নামে প্রকৃতিতে বিদ্যমা রঞ্জনরশ্মির প্রক্রিয়ার প্রকৃত রূপ নির্ধারণ করতে সক্ষম হন, যা খুব সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায়। মেরী কুরির সুখ্যাতি পদার্থবিদ ও রসায়নশাস্ত্রবিদ হিসেবে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর গবেষণালব্ধ বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের জন্য নোবেল পুরস্কার কমিটি তাঁকে ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যা এবং রাসায়নশাস্ত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ১৯১১ সালে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করেন। মেরী কুরি বিজ্ঞানের প্রতি এতই নিবেদিত ছিলেন যে, কোনো প্রকার প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিয়ে দীর্ঘ ৩৯ বছর Radio Active গবেষণা করার ফলে এর তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯৩৪ সালে ৬ জুলাই এ অসামান্য বিজ্ঞানী মেরী কুরি মৃত্যুবরণ করেন।
১০. আইরিন কুরিঃ মেরী কুরির কন্যা এবং নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী : মেরী ও পিয়েরে কুরির সুযোগ্য কন্যা ছিলেন আইরিন কুরি। আইরিন তাঁর পিতামাতার মতো ১৯৩৫ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত রেডিওকেমিস্ট হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। মায়ের তত্ত্বাবধানে তাঁর বিজ্ঞানের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ জন্মে এবং মাতার গবেষণায় তিনি অংশগ্রহণ করেন। Radio Activity সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ জন্মে এবং X-ray-র প্রচারে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। অ্যাটমের মধ্যে যে দুটি বিপরীতমুখী পদার্থ Proton এবং Neutron রয়েছে তা বৈজ্ঞানিকদের জানা ছি না। তাঁরা জানতেন যে অ্যাটমে Proton এবং electron রয়েছে। আইরিন কুরী প্রথম আবিষ্কার করেন যে অ্যাটমে দুটি বিপরীতমুখী পদার্থ Proton এর Neutron আছে। ১৯৩৫ সালে রসায়নশাস্ত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। আইরিন কুরীও Radiation দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ১৯৫৫ সালের ১৭ মার্চ আটান্ন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
১১. ক্যাপ্টেন ইয়াসমীন রহমানঃ বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলট : বাংলাদেশের ইতিহাসে যে মহিলা প্রথম বিমানচালক বা পাইলটের মর্যাদা লাভ করেছেন তার নাম ক্যাপেন ইয়াসমীন রহমান। তিনি কমার্শিয়াল এয়ারলাইনস বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে প্রথম লাইসেন্সপ্রাপ্ত মহিলা। তিনি প্রথমে স্থাপত্যকলায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বিভিন্ন নারী বিজ্ঞানী সম্পর্কে জানতে পারলাম যে, যারা বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব অবদান রেখে বিজ্ঞানকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া হয়তো আরো নারী বিজ্ঞানী আছেন, যাদের কথা আমরা জানি না বা তেমনভাবে ইতিহাসে উঠে আসে নি। কারণ নারীরা ইতিহাসে সবসময়ই ছিল অবহেলিত, উপেক্ষিত। তাই অনেক মহিয়সী নারী বিজ্ঞানী হয়ত কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছেন।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!