ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বাঙালি দর্শনে প্রভাব বিস্তারকারী তন্ত্রবাদ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।

অথবা, বাঙালি দর্শনে তন্ত্রবাদের প্রভাব লিখ।
অথবা, তন্ত্রবাদ কিভাবে বাঙালি দর্শনকে প্রভাবিত করেছে?
অথবা, ‘বাঙালি দর্শনে তন্ত্রবাদের প্রভাব রয়েছে’ – সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, বাঙালি দর্শনৈ তন্ত্রবাদের প্রভাব কিরূপ?
অথবা, বাঙালি দর্শন ও তন্ত্রবাদ প্রত্যয়টি সংক্ষেপে আলোচনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি দর্শন বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বাঙালি দর্শনে যেসব উপাদান প্রভাব বিস্তার করেছে, বিশেষকরে প্রাচীন বাঙালি দর্শনে, সেগুলোকে বৈদিক উপাদান ও অবৈদিক উপাদান এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বেদ বহির্ভূত উপাদানই হলো অবৈদিক উপাদান। অবৈদিক উপাদানের মধ্যে তন্ত্রবাদ, শাক্ত মতবাদ ও শৈব মতবাদ অন্যতম।
তন্ত্রবাদ : সাধারণত যে শাস্ত্র অনুযায়ী সাধন করলে জীবের মোক্ষ লাভ বা মুক্তি লাভ হয় তাকেই তন্ত্র বলে । তন্ত্রে তত্ত্ব ও মন্ত্রের সমন্বয়সাধন করা হয়। বেদের বহু পূর্বেই তন্ত্রের উৎপত্তি ঘটেছে। আর্যপূর্ব দ্রাবিড় জাতির মধ্যে তন্ত্রের ব্যবহার ছিল বলে জানা যায়। এ সময় তন্ত্রকে স্মৃতিতে ধরে রাখা হতো এবং মুখে মুখে লোক পরম্পরায় তন্ত্র গীত হতো। প্রাচীনকাল থেকেই তন্ত্র জনপ্রিয় ছিল। সম্প্রদায় ভেদে তন্ত্রবাদ বা তন্ত্র সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. হিন্দু তন্ত্র এবং ২. বৌদ্ধ তন্ত্র।
১. হিন্দু তন্ত্র : আনুমানিক সপ্তম শতকের পূর্বে হিন্দু তন্ত্র রচিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। হিন্দু তন্ত্রকেই প্রাচীন তন্ত্র বলা হয়। বাঙালি সমাজে হিন্দু তন্ত্রকে শিবোক্ত শাস্ত্র নামেও অভিহিত করা হয়। হিন্দু তন্ত্রকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথা : শৈব তন্ত্র, শাক্ত তন্ত্র ও বৈষ্ণবীয় তন্ত্র। হিন্দু তন্ত্রের সংখ্যা অসংখ্য। এর মধ্যে আয়দালিতক, যোগিনী তন্ত্র,বারাহী তন্ত্র, বিশ্বসার তন্ত্র, সরস্বতী তন্ত্র, কামাখ্যা তন্ত্র প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এগুলো সংস্কৃত ভাষায় রচিত হলেও বাঙালি দর্শনে সক্রিয় প্রভাব বিস্তার করেছে।
২. বৌদ্ধ তন্ত্র : বাংলায় বৌদ্ধধর্মের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা বৌদ্ধ তন্ত্রের প্রবর্তন করেন। বৌদ্ধ সহজযান সম্প্রদায়ের প্রবর্তক বাঙালি কবি লুইপা বা সিদ্ধাচার্য বাংলা ভাষাতে অনেক দোহাগান রচনা করেন। বৌদ্ধতন্ত্রের উপর রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো ‘গুহ্য সমাজতন্ত্র’। বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদেও বৌদ্ধতন্ত্রের প্রভাব লক্ষ করা যায়। বাংলায় বৌদ্ধধর্মের মন্ত্রযান, বজ্রযান, সহজযান ও কালচক্রযান নামক সম্প্রদায়ের মূলভিত্তি হলো বৌদ্ধ তান্ত্রিকতাবাদ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বাঙালি দর্শনচিন্তায় অবৈদিক তন্ত্র সাহিত্যের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা থেকে বাঙালি সমাজ ধর্ম ও দর্শন ভাবনায় প্রভাব বিস্তারকারী অবৈদিক উপাদান সম্পর্কে জানা যায়। এমনকি বৈদিক উপাদানেও অবৈদিক আর্য পূর্ব চিন্তাধারার প্রভাব পাওয়া যায়। আর্য পরবর্তী যুগে তন্ত্র সাহিত্য শক্তিশালী রূপে বৈদিক সাহিত্যের পাশাপাশি বাঙালি দর্শনকে প্রভাবিত করেছে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!