ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বাউল দর্শনের পরমতত্ত্ব সংক্ষেপে আলোচনা কর।

অথবা, বাউল দর্শনের পরমতত্ত্ব ব্যাখ্যা কর।
অথবা, বাউল পরমতত্ত্ব কী?
অথবা, বাউল পরমতত্ত্ব তুলে ধর।
অথবা, বাউল পরমতত্ত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর।। ভূমিকা :
মধ্যযুগের বাঙালির নিজস্ব মনন ও আবহে বিকশিত বাঙালির একেবারে নিজস্ব ধর্ম ও দর্শনের নাম বাউলবাদ । তাই বাউলবাদকে বলা হয় বাংলার ধর্ম বাঙালির ধর্মী একান্তভাবে বাঙালির মানস ফসল। বাউলদের সকল চিন্তাধারা ও সাধন ক্রিয়ার মূল কেন্দ্রভূমি হচ্ছে দেহ। দেহকে কর্ষণ করেই বাউলরা এর মধ্যে পরমাত্মা বা পরম তত্ত্বকে খুঁজে বেড়ান। কেননা তাঁরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন মানবদেহের মধ্যেই মূলতত্ত্ব, আত্মা, পরমাত্মা, পরমগুরু ও পরম তত্ত্বের বাস।
পরমতত্ত্ব : বাউল সাধনা প্রধান দেহভিত্তিক। কিন্তু তাঁদের এ দেহ সাধনার মূল লক্ষ্য বা নিগূঢ় উদ্দেশ্য কি? এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করলে দেখা যায় পরমতত্ত্ব বা পরমাত্মার অন্বেষণই বাউলদের দেহ সাধনার নিগূঢ় লক্ষ্য। বাউলদের দেহ সাধনা রস-রতি বা রজোঃ বীজের সাধনা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানবাত্মা, পরমাত্মা বা পরম তত্ত্বের উপলব্ধির সাধনা। অর্থাৎ সংক্ষেপে বলা যায়, মানবদেহস্থিত পরমতত্ত্বের সাধনাই বাউল সাধনা। আর সাধনার পদ্ধতি বিচার করলে বাউলদের মোটামুটিভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা : মুসলমান বাউল বা ফকির সম্প্রদায় এবং হিন্দু বাউল বা বৈষ্ণব বাউল। কিন্তু ড. ভট্টাচার্য মনে করেন, মুসলমান ফকির ও হিন্দু বাউল বা রসিক বৈষ্ণব সকলেই একতত্ত্বের উপাসক, সাধনার পদ্ধতিও এক এবং সাধনসংক্রান্ত আচার-ব্যবহার সমান।’ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গুরু ও সম্প্রদায় ভেদে বাউল সাধনার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। যেমন- মুসলমান বাউলদের মধ্যে পরকীয়া ও মৈথুনাত্মক সাধনা দুর্লক্ষ্য, তারা যৌগিক ক্রিয়ার শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণকেই প্রাধান্য দেয়।মুসলমান বাউলদের পরমতত্ত্ব নানা স্থানে বিভিন্নরূপে বিভিন্ন মোকাম, মঞ্জিল, দায়রা, দল পদ্মচক্রে নানাভাবে
প্রকাশিত হয়। তাঁরা মনে করেন,জীবাত্মার মধ্যেই পরমাত্মার স্থিতি। কাজেই আপন আত্মার পরিশুদ্ধিই খোদা প্রাপ্তির উপায়। তাই আত্মার স্বরূপ উপলব্ধির সাধনাই এদের প্রাথমিক ব্রত নিজকে জানার মধ্য দিয়ে তাঁরা পরম তত্ত্ব বা খোদাকে জানে। লালনের ভাষায়, “আত্মতত্ত্বে ফাজিল যে জনা, জানতে পায় সে নিগূঢ় কারখানা, ‘আর’ খোদাকে চিনলে খোদা চিনে, খোদা বলেছে তেমনি, মান আরফা নফসহ বাণী বোঝ তার কি মানে। যে বোলায় রে আমি আমি, সেই আমি কি আমি আমি, লালন বলে, কেবা আমি, আমায় আমি চিনি নে।” মুসলমান বাউলদের সাধনায় দেহস্থিত আত্মারূপী পরমাত্মা বিভিন্নভাবে উপলব্ধিত হয়ে জীবন সীমা অতিক্রম করে ঊর্ধ্ব সীমায় পৌঁছে। এভাবে দেহাত্ম সাধনা ক্রমে ক্রমে পরম তত্ত্বের আধ্যাত্ম সাধনায় পরিণত হয়। হিন্দু বাউলদের পরম সত্য এক অন্বয় মহানন্দ সহজ স্বরূপ। এই অদ্বয় তত্ত্বের দুটি ধারা একটি কৃষ্ণতত্ত্ব এবং অপরটি রাধাতত্ত্ব। এই উভয় ধারার প্রেমমিলন বা যুগল মিলনই প্রেমতত্ত্ব। বৌদ্ধ সহজিয়াদের প্রজ্ঞা উপায় মিলনজনিত মহাসুখ, হিন্দু তন্ত্রে শিব শক্তির সামস্যজনিত যে কেবলানন্দ উপলব্ধি, বৈষ্ণব সহজিয়াদের পুরুষ প্রকৃতি মিলনজাত যে মহাভাব, তাই বাউলদের মতে, দেহের সার তত্ত্ব বা পিতৃধনের নাম বিন্দু বা বীর্ষ। এই বিন্দু রক্ষাই হিন্দু বাউল সাধনার মাধ্যমেই তাঁরা পরমাত্মা বা পরম তত্ত্বের সন্ধান করেন।
উপসংহার : অতএব, দেখা যাচ্ছে বাউলদের দেহকেন্দ্রিক সাধনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে পরমাত্মা বা পরম তত্ত্বের উপলব্ধি। পরম তত্ত্ব উপলব্ধি বা প্রাপ্তির তারই বাউল তাঁর সমগ্র সাধন ক্রিয়াকে নিবেদন করে। যদিও এই সাধন প্রক্রিয়ায় মুসলমান ও হিন্দু বাউলদের মধ্যে পার্থক্য আছে তথাপি তাঁদের মূল লক্ষ্য এক।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!