ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা কতটুকু? আলোচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায়? আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা কতটুকু? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।
অথবা, “নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা” বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্ণনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিপূর্ণ সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে অধিক সংখ্যায় মহিলা সদস্যের নির্বাচনের মধ্যে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে মহিলা সদস্যের সংখ্যা প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে উন্নত করতে হবে। সাধারণ আসন ছাড়া, সাধারণ আসনের বাইরে অতিরিক্ত মহিলা সংরক্ষিত আসন নারীকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারবে না। পরোক্ষ নির্বাচন যে কার্যকর নয়, ত ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণ আসন ভিন্ন, অতিরিক্ত মহিলা সংরক্ষিত আসনের অভিজ্ঞতা ইউনিয়ন পরিষদে আশাব্যঞ্জক হয় নি। জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি ফলপ্রসূ হবে না।
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা : বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিপূর্ণ সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে অধিক সংখ্যায় মহিলা সদস্যের নির্বাচনের মধ্যে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্ভাবনা নিহি রয়েছে। জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে মহিলা সদস্যের সংখ্যা প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে উন্নীত করতে হবে। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা কতটুকু সে সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো :
১. নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি : সাধারণ আসনে কতজন মহিলা সদস্য থাকলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে সে সম্পর্কে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের একটি সংগঠন UN Division for Advancement of Women কর্তৃক সম্পাদিত সমীক্ষার উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়। উক্ত সমীক্ষায় UNDAW সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, সরকার রাজনৈতিক দল ও
জাতীয় সংসদে নারীর অংশগ্রহণ ৩০ হতে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলে নারীর সমস্যা ও অগ্রগণ্যতা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যথাযোগ্য গুরুত্ব, বিবেচনা ও গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে। অর্থাৎ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সকল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
২. সাধারণ আসনের এক তৃতীয়াংশ : বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ সাধারণ আসনের এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১০০ আসনে মহিলা সদস্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধন করে বিধান জারি করতে হবে যে, জাতীয় সংসদের ১০০টি আসনে কেবল মহিলা প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, পুরুষ প্রার্থী ঐ আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না।
৩. নারী অনুপাতে আসন বণ্টন : বাংলাদেশের জনসংখ্যায় নারীর অনুপাতের সাথে সঙ্গতি রেখে জাতীয় সংসদে আসন বণ্টন করলে মহিলা সদস্যের সংখ্যা মোট আসনের অর্ধেক অর্থাৎ, ১৫০ হওয়ার কথা। কাজেই ১০০টি আসন মহিলা প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট করার পরেও নারী-পুরুষ সমতার নিরিখে অবশিষ্ট ২০০ আসনের ৫০টি আসন নারী সদস্যের
প্রাপ্য । বলাবাহুল্য, এ ২০০ আসনে পুরুষ প্রার্থীর সাথে নারী প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
৪. একই নিয়ম ও পদ্ধতিতে নির্বাচন : জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের সবগুলোতে একই নিয়ম ও পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার। নারী ও পুরুষ আসনের নির্বাচনি এলাকা ও নির্বাচকমণ্ডলীর আয়তন একসমান হবে, ছোটবড় হবে না। একই সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল আসনে নির্বাচন করতে হবে। তবে উল্লেখ থাকবে যে ১০০টি চিহ্নিত আসনে কেবল মহিলা প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
৫. লটারির মাধ্যমে আসন চিহ্নিত : বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, প্রতি নির্বাচনে লটারির মাধ্যমে আসনগুলো চিহ্নিত করা হবে। যেহেতু আসনগুলো চিরতরে নির্দিষ্ট থাকবে না, বরং প্রতি নির্বাচনে হেরফের হবে, কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩০০ আসনের সবগুলোতে মহিলা প্রার্থী গড়ে তুলতে হবে।
. সম্ভাব্য নারী ও সম্ভাব্য পুরুষ প্রার্থী : দেশের সর্বত্র সকল রাজনৈতিক দলে পুরুষ ও নারী সদস্যের অনুরূপভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো আর নারী রাজনীতিবিদকে এক পাশে ঠেলে দিতে পারবে না। দলের কেন্দ্রে নিয়ে তাদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো জেন্ডার বৈষম্য কাটিয়ে উঠতে বাধ্য হবে। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার জন্য একাধারে সম্ভাব্য ও সম্ভাব্য মহিলা প্রার্থী তৈরি করতে বাধ্য হবে।
৭. পর্যায়ক্রমে অল্পসংখ্যক আসন দিয়ে শুরু : শত শত বছরের বঞ্চনার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোতে ১০০ আসনের মূল লক্ষ্য অর্জন করা যাবে। লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক দল, নারী আন্দোলন ও সুশীল সমাজ একযোগে সমন্বিত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করলে উপযুক্ত পরিবেশ অবশ্যই গড়ে উঠবে।
৮. সংবিধান সংশোধন : রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও যোগ্য মহিলা সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ পরিবেশ গড়ে উঠবে। অপরদিকে, তেমনি ক্রমান্বয়ে সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী নির্বাচনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে অঙ্গীকার পূরণের প্রতিজ্ঞায় অবিচল থাকার স্বার্থে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে ১০০টি আসনে নারী সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের
সুনির্দিষ্ট সাল ও তারিখ সংবিধান সংশোধন করে আগাম নির্ধারণ করা জরুরি।
৯. ৩৩টি আসন দিয়ে প্রক্রিয়া চালু : বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করতে হবে এবং ৩৩টি আসন দিয়ে এ প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। ১০০টি আসন সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট তারিখের নিরিখে অন্তর্বর্তীকালের জন্য পর্যায়ক্রমে ৩৩, ৬৬ এব চূড়ান্ত ১০০ আসনে নারী প্রার্থী নির্বাচনের মধ্যবর্তীকালীন সময়সূচি সংবিধান সংশোধন করে এখনই বেঁধে দিতে হবে।
১০. নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ : প্রস্তাবিত সংবিধানের বিধানাবলি সঠিকভাবে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং স্ব-স্ব দলে ক্ষমতায় উচ্চ শিখরে আরোহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। গ্রামের তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজধানীর উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত মহিলাদের রাজনৈতিক দলে উৎসাহিত করতে হবে।
১১. নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীকে সম্পৃক্ত : রাজনৈতিক দল মহিলাদের দলভুক্তির বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দলীয় মহিলাদের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত করবে এবং দলের সকল শাখা, পরিষদ, কমিটি কাউন্সিল সংখ্যানুপাতিক মহিলা প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এছাড়া নতুন ব্যবস্থায় সাফল্য অর্জনের জন্য নারী আন্দোলন ও সুশীল সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য। নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মত করানোর দায়িত্ব নারী আন্দোলনের উপর বর্তায়।
মূল্যায়ন : বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিপূর্ণ সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে অধিক সংখ্যায় মহিলা সদস্যের নির্বাচনের মধ্যে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। একে মূল্যায়ন করা যায় এভাবে— প্রথমত, জাতীয় সংসদে সাধারণ আসন ৩০০। ইতঃপূর্বে মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত ৩০টি আসনের ব্যবস্থা ছিল সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ বা ৮০ করা হলে মোট আসন সংখ্যা বেড়ে যাবে বটে, কিন্তু মহিলা সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনি এলাকার আয়তন ও জনসংখ্যা সাধারণ আসনের চেয়ে বড় বেশি থেকে যাবে, সমান হবে না। দ্বিতীয়ত, সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনি এলাকা বড় হলে নির্বাচনি ব্যয়ও বেশি হবে। উপরন্তু সাধারণ আসনের এলাক ক্ষুদ্রতর থাকবে বিধায় ব্যয় কম হবে। ফলে নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও জেন্ডার বৈষম্য সৃষ্টি হবে তৃতীয়ত, ১০০টি আসন মহিলা প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট করার পরেও নারী-পুরুষ সমতার নিরিখে অবশিষ্ট ২০০ আসনে ৫০টি আসন নারী সদস্যের প্রাপ্ত। বলাবাহুল্য, এ ২০০ আসনে পুরুষ প্রার্থীর সাথে নারী প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিপূর্ণ সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে অধিক সংখ্যায় মহিলা সদস্যের নির্বাচনের মধ্যে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে মহিলা সদস্যের সংখ্যা প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে উন্নীত করতে হবে। তাছাড়া সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে নারী সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে ধৈর্যসহকারে কাজ করে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের পথে সকল বাধা অপসারণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগাতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!