ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পরিকল্পনার পর্যায়সমূহ আলোচনা কর ৷৷

অথবা, বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনার ধাপসমূহ বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনার স্তরগুলো বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনার তরবিন্যাস বা ধাপগুলো আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পরিকল্পনার পর্যায়গুলো বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার পরিকল্পনার ভরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা কর।
উত্তরঃ ভূমিকা :
স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা বলতে এমন একটি পরিকল্পনাকে বুঝি যার সাহায্যে স্থানীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব। স্থানীয় জনগণের সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারকেই বেশি নজর রাখতে হয়। তাই স্থানীয় জনগণের উন্নয়নে স্থানীয় সরকারই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণে সক্ষম।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পরিকল্পনার ধাপসমূহ : স্থানীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থসামাজিক নৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়। স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিত হলে কেন্দ্রীয় উন্নয়নও গতিশীল হয়। স্থানীয় সরকার রুনা বাস্তবায়নের জন্য কতকগুলো ধাপ বা পর্যায় অতিক্রম করতে হয়। নিম্নে স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনার ধাপসমূহ
১. গ্রাম পর্যায়ে পরিকল্পনা : বর্তমান সময়ে স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো নাম পর্যাস্তের পরিকল্পনা গ্রহণ। এ পরিকল্পনায় সাধারণত সরকারি ও বেসরকারি এজেন্সি এবং স্থানীয় পর্যায়ের জনগণ বা টার্গেট হল কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রাম পর্যায়ে যে সকল পরিকল্পনা গৃহীত হয় তা নিম্নরূপ :
ক. সনগ্র গ্রাম উন্নয়ন,
খ. কাঠামোগত সংস্থানের জন্য নব কর্মসূচি প্রণয়ন,
গ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার,
ঘ. সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন,
ঙ. গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন,
চ. প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি,
ছ. সুবিধাভোগী টার্গেট গ্রুপের অবস্থার উন্নয়ন।
২. ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিকল্পনা : বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের সর্বনিম্নস্তর হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। সাধারণত ১০/১৫টি গ্রাম নিয়ে ইউনিয়ন গঠিত হয়। উপজেলা সরকারি এজেন্সিগুলো দ্বারা গৃহীত প্রকল্পসমূহের পরিকল্পনা গ্রহণ ও স্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ এবং সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিকল্পনা হচ্ছে জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের অংশ্লাহণমূলক স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা। ইউনিয়ন পর্যায়ে যে সকল কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেগুলো হচ্ছে-
ক. রাস্তা নির্মাণ,
খ. খাল খনন,
গ. কালভার্ট তৈরি,
ঘ. সেচ প্রকল্প,
ঙ. ক্ষুদ্র সেতু নির্মাণ প্রভৃতিম।
৩. উপজেলা পর্যায়ের পরিকল্পনা : ইউনিয়ন পরিষদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা পর্যায়ের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। উপজেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো হলো:
ক. কৃষির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ,
খ. স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার,
গ. কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি,
ঘ. প্রাথমিক শিক্ষাবিস্তার,
ঙ. স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা,
চ. নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রভৃতি।
৪. জেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনা : উপজেলা পর্যায়ের পরিকল্পনার প্রাপ্ত উপাত্তের উপর ভিত্তি করে জেলা পর্যায়ের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। জেলা পরিষদ জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিম্নলিখিত উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো গ্রহণ করে থাকে। যেমন-
ক. পূর্ত কর্মসূচি,
খ. রাস্তা, সেতু, কালভার্ট প্রভৃতির পরিকল্পনা গ্রহণ,
গ. রাস্তাঘাট মেরামত ।
৫. বিভাগীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা : বিভাগীয় পরিকল্পনার ভিত্তি হলো জেলা পর্যায়ের পরিকল্পনার প্রাপ্ত তথ্য। বিভাগ হলো কেন্দ্র হতে হস্তান্তরিত ক্ষমতা, যা সিদ্ধান্তের পরবর্তী স্তর । বিভাগীয় কর্মকাণ্ড জেলা অপেক্ষা বৃহত্তর।
৬. জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা : জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এটি নির্ভর করে মূলত দলীয় কর্মসূচির উপর। এছাড়া এ পর্যায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। কেন্দ্রীয় বা জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা, সততা এবং জনগণের কার্যকরী অংশগ্রহণ আবশ্যক।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, স্থানীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আলোচিত ধাপ বা পর্যায়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!