ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্থায় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব আলোচনা কর ।

অথবা, বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্থায় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
বাংলাদেশ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে। বৃহদায়তন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জটিল সমস্যাগুলো স্থানীয়ভাবে সমাধান করে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে জনগণ সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। জে, এস,মিল বলেন, “স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং এ বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করে তোলে।”স্থানীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ প্রশিক্ষণ, অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন এবং জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও মতামত প্রদানে উৎসাহী হয়ে উঠে।
স্থানীয় সহাস্থায় রাজনৈতিক অনগ্রহণের গুরুত্ব : অংশগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরকার ও শাসন সম্পর্কে উদাসীন, অজ্ঞ ও নির্বিকার জনগোষ্ঠী সচেতন হয়ে উঠে এবং তারা ভাবতে শিখে যে, “সরকার তাদেরই এবং তারা প্রত্যেকে সরকারের এক একটি অংশ।” স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহন ব্যতীত দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর সরকার সম্পর্কে এ ধরনের অনুভূতি জাগ্রত করার সুযোগ নেই। নিচে স্থানীয় সংস্থাগুলো জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো :
১. ব্যয়সংকোচন : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো শাসন ব্যবস্থায় ব্যয়সংকোচ ঘটায়। কেননা, স্থানীয় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে অল্প সময়, অল্প অর্থ ও অল্প পরিশ্রমের ফলে বৃহৎ সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়।তাছাড়া স্থানীয় জনগন নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করে এবং এজন্য যে ব্যয় হয় তাও অনেকটা স্থানীয় এলাকা থেকেই সংগৃহীত হয়।
২. সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ সাধন : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন্দ্রীয় সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগসাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্রিয় সরকারের এজেন্ট হিসাবে স্থানীয় প্রশাসণকগণ কেন্দ্রিয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন। অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ স্থানীয় প্রশাসকদের মাধ্যমে জনগণের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যাবলী সরকারের কাছে তুলে ধরে। ফলে সরকার স্থানীয় জনগণের সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৩. দেশপ্রেম সৃষ্টি : জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতির বিকাশ না ঘটলে রাষ্ট্রের স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, জনমনে দেশপ্রেম সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্যাকসন (Jacksan)- এর মেত, “স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারই উৎকৃষ্ট ক্ষেত্র, যার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের ভাবধারা মূর্ত হয়।
৪. সুনাগরিকতা গুণাবলীর বিকাশ : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন জনসাধারণের মতে সুনাগরিকতার বিকাশ ঘটায়, যারা স্থানীয়
সংস্থায় অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্যে সহিষ্ণুতা, স্বার্থত্যাগ, পরমসহিষ্ণুতা, সহযোগিতা প্রভৃতি গুণাবলির বিকাশ হয়।
৫. পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন : একটি গতিশীল শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়ন। জাতীয় সরকারকে বৃহত্তর পরিকল্পনা গ্রহণে মূল তথ্য ও উপাত্ত স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার সরবারহ করে থাকে। প্রশাসনের সর্বশেষ ধাপ থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভাব নয়। তাই স্থানীয় পর্যায় থেকেই জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। আবার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা তখনই সম্ভব হবে, যখন জনগণ অংশগ্রহন করবে।
৬. সেচ্ছাশ্রম সৃষ্টি : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বেচ্ছাশ্রমের মানসিকতা তৈরী করতে সক্ষম।বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে জনগণ সেচ্ছাশ্রম বা সেচ্ছাদানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ না হলে জাতীয় উন্নতি অর্জন সম্ভব নয়। হিকস্ (Hicks) এর মতে, “সুদক্ষ স্থানীয় সরকার উন্নয়নের মাধ্যম।” আর এজন্য দরকার জনঅংশগ্রহণ।
৭. সামাজিক সমস্যা নিরসন : সামাজিক সমস্যা নিরসনে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ যৌতুক, জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধনীকরণ, মাদকাশক্তি প্রভৃতি দুরূহ সামাজিক সমস্যা নিরসণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিগণ জনগণকে সচেতন ও সংঘবদ্ধ করতে পারেন। এক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
৮. সুশাসন প্রতিষ্ঠা : রাষ্ট্রের কাছ থেকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা একটি সুষ্ঠু কল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা। আর একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। স্থানীয় জনগণের সংগঠিত প্রচেষ্টা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার সর্বস্তরে আইনের শাসন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। আর জনগণই পারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্টা করতে।
৯. সেবা প্রদান : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠাণগুলো (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা) স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে। যেমন : শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিরাপদ পানি, সুষ্ঠু পরিবেশ ইত্যাদি। জনগণের উচিত হবে সুষ্ঠুভাবে এগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষনাবেক্ষণ করা।
উপসংহার : পরিশেষে বলতে পারি যে, বর্তমানে বহু ও বিভিন্ন স্বেচ্ছা সম্পাদিত ক্রিয়াকলাপ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ হিসাবে পরিগণিত হয়। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উপর এই সমস্ত ক্রিয়াকলাপের প্রভাব প্রতিক্রিয়া অনস্বীকার্য।শাসকবর্গকে বাছাই করা এবং সরকারী নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সংগে এই সমস্ত ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কিত।সাম্প্রতিককালের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনীতিক বিষয়াদিতে গণঅংশগ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!