ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের উপায় আলোচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের বাধাসমূহ দূরীকরণের উপায় বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের সমস্যা সমাধান করার উপায় বর্ণনা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
রাজনীতি শব্দটি ব্যাপক। এর পরিধি পরিবার থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। জাতীয় জীবনে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। নারী ও পুরুষ
উভয়েই এ কৌশলের সমান অংশীদার। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদন ও সমতা বিধানে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নারীর গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭৫ সালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনের জেনারেল সেক্রেটারি হেলভি মিনিলা মেক্সিকোতে বলেছিলেন, “যদি আমরা সর্বক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার পেতে চাই, তাহলে সর্বাপেক্ষা প্রয়োজন অধিক সংখ্যক নারীর রাজনীতিতে যোগদান। কারণ আইনসভা বা সংসদই হচ্ছে আইন প্রণয়নের অধিকারী। আর সব অধিকার আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত না লাভ করব, ততক্ষণ অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের উপায় :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক এবং
মতাদর্শগত দিকগুলো বরাবরই এদেশের নারীদের বিপক্ষে কাজ করে চলেছে। ১৮ শতকের সমাজতাত্ত্বিক অগাস্ট ভেবেল
তথ্য প্রমাণাদি দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, “নারীরা দাসপ্রথার পূর্বেও দাসত্বের শৃঙ্খল পড়েছিল।” বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের উপায়সমূহ নিম্নরূপ :
১. রাজনৈতিক কাঠামোয় নারীর অংশগ্রহণ: সরকার ও বিরোধী উভয় দলের নেতৃত্বেই নারী প্রধান হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। নারী ক্ষমতায়নের জন্য স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়পর্যন্ত সকল স্তরেই নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।
২. নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টিকারী আইন পরিবর্তন : যেসব আইন নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে, সেসব আইন পরিবর্তন করতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ CEDAW এর তিনটি ধারা রক্ষিত
৩. সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তন : বাংলাদেশের নারীদেরকে রাজনৈতিক স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে উৎপাদন ও উৎপাদন সম্পর্ক ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সামাজিক ক্ষেত্রের এ পরিবর্তন ছাড়া নারীর রাজনীতিতে অবাধ অংশগ্রহ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
৪. ধর্মীয় সংস্কার : নারীকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণে অনিবার্যভাবে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, কূপমণ্ডুকতা ও অপব্যাখ্যার আমূল সংস্কার সাধন করতে হবে। উপরিকাঠামো হিসেবে ধর্মের অপব্যাখ্য রোধ করা গেলে কিছুটা হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা দূর করা যাবে।
৫. ফতোয়াবাজদের উৎখাত : ধর্মীয় অপব্যাখ্যাকারী ফতোয়াবাজদের নির্মূলকরণ ছাড়া বাংলাদেশে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা অসম্ভব। তারা ‘ইসলামে নারী নেতৃত্ব স্বীকৃত নয়’ এ কথা বলে ফতোয়া জারি করে। এগুলো দূর করতে হবে।
৬. পেশিশক্তির অবসান : রাজনীতিকে পেশিশক্তি মুক্ত করতে হলে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়াও রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য সকলকে পেশিশক্তির অবসানের লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে। তাহলে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ সুগম হবে।
৭. শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি : শিক্ষা ও প্রচার মাধ্যম মারফত পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক পরিবর্তন ঘটিয়ে নারীকে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা ও কার্যক্রমের দিকে প্রণোদিত করতে হবে এবং সমাজে উপযুক্ত ও ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। নারীর শিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও প্রবেশের
পথ সুগম করতে হবে।
৮. রাজনৈতিক হবে। এ লক্ষ্যে ব্যাপক অধিকার সম্পর্কে নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি : রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি পর্যায়ে বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করত প্রচারাভিযান চালাতে হবে। বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও মিছিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনৈতি সচেতন করে তুলতে হবে। তাহলে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসবে।
৯. পারিবারিক চিন্তাধারার পরিবর্তন : ইস্পাত কঠিন প্রাচীর ভেঙে সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী পারিবারিক কাঠামো নির্মাণ আজ একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এ প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করতে আজকের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজতর হবে।
১০. প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি : নারীসমাজের রাজনৈতিক দক্ষতা, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার নৈপুণ্য বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে রাজনীতিতে তারা পারদর্শী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সফল রাজনীতিবিদ হয়ে গড়ে উঠবে। এর দরুন অন্যান্য নারীরাও উৎসাহী হয়ে রাজনীতিতে অংশগ্রহণে এগিয়ে আসবে।
১১. গণমাধ্যমের ভূমিকা : গণমাধ্যমগুলো দ্বারা নারীর সঠিক মর্যাদা ও অবদান তুলে ধরতে হবে এবং রাজনীতিতে নারীদের উদ্বুদ্ধকরণে ব্যাপক ভিত্তিতে প্রচারাভিযান চালাতে হবে।
১২. সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা : সমাজে মূল্যবোধের যে অবক্ষয় পরিদৃষ্ট হচ্ছে, তাতে নারীর বাইরের জগতের সাথে একাত্মতা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। তাই লেখক, বুদ্ধিজীবী সকলকে সমাজের এ মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকানোর লক্ষ্যে হস্ত প্রসারিত করতে হবে। আর তাহলেই একটি সুষ্ঠু পারিপার্শ্বিক ধারার মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ সহজ হবে।
উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, আজ পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার সাথে একাত্মতা ঘোষণার প্রয়োজনে এবং দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে নারীমুক্তির লক্ষ্যে ব্যাপকভিত্তিতে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়ট অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত বলেছিলেন, “আমরা সমাজের অর্ধ অঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিল সমাজ উঠিবে কি রূপে? কোনো ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়া রাখিলে সে খোঁড়াইয়া খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? আমরা অকর্মণ্য পুতুল জীবন বহন করিবার জন্য সৃষ্টি হই নাই।” আজ তাঁর সেই গভীর আত্মোপলব্ধি আমাদের হৃদয়কেও স্পর্শ করেছে এবং সময়ের প্রয়োজনে পুরুষের পাশাপাশি ও সমগতিতে পথ চলার তাগিদটি অতি স্পষ্ট।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!