ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলতে কী বুঝায়? পর্যবেক্ষণের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর ।

অথবা, পর্যবেক্ষণ কী? পর্যবেক্ষণের প্রকারভেদ আলোচনা কর।
অথবা, সামাজিক গবেষণার পর্যবেক্ষণ কাকে বলে? পর্যবেক্ষণের শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা কর।
অথবা, পর্যবেক্ষণের সংজ্ঞা দাও। পর্যবেক্ষণ কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর৷ ভূমিকা :
বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে পর্যবেক্ষণ করার অনেক কিছু বর্তমান । বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রাথমিক হাতিয়ার হিসেবে পর্যবেক্ষণ ব্যবহৃত হয়। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ছাড়াও সামাজিক বিজ্ঞানে পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব অপরিহার্য। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত দায়িত্বের পরিচয় দেয় এবং তথ্যের উন্মেষ ঘটাতে সাহায্য করে, যা গবেষণার জন্য অতি জরুরি।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা : নিম্নে কতিপয় উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলো :
বিশিষ্ট সমাজ গবেষক পি. ভি. ইয়ং (P. V. Young) এর মতে, “Observation may be defined as systematic viewing, coupled with consideration of the seen phenomena.” অর্থাৎ, দৃশ্যমান প্রপঞ্চকে সুশৃঙ্খলভাবে দেখাকেই পর্যবেক্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে ।
মোজার এবং কালটন (Moser and Kalton) পর্যবেক্ষণের সংজ্ঞা দিতে যেয়ে ‘The Concise Oxford Dictionary’ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, “It is an accurate watching and noting of phenomena as they occur in nature with regard to cause and effect or mutual relations.” অর্থাৎ, পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যকরণ সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রকৃতিতে সংঘটিত ঘটনাবলি সঠিকভাবে দর্শন এবং লিপিবদ্ধ করাই হচ্ছে পর্যবেক্ষণ ।
বার্নার্ড এস. ফিলিপ্‌স (Bernard S. Phillips) এর মতে, “Observational methods of data collection are techniques for gathering information without direct questioning on the part of the investigator.” অর্থাৎ, উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি হচ্ছে এমন একটি কৌশল, যাতে অনুসন্ধানকারীকে সরাসরি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা না করে কেবল চাক্ষুষ দেখে তথ্য (Information) সংগ্রহ করা হয় ।
কেনেথ ডি. বেইলি (Kenneth d. Bailey) বলেছেন, “The observational method is the primary technique for collecting data on non-verbal behaviour.” অর্থাৎ, অমৌখিক আচরণের প্রাথমিক উপাত্ত সংগ্রহের কৌশলকে পর্যবেক্ষণ বলা হয় ।
পর্যবেক্ষণের শ্রেণিবিভাগ : বিভিন্ন সমাজ গবেষক বিভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণকে ভাগ করেছেন। নিম্নে এগুলো আলোচনা করা হলো :
i. নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ : সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে পরিমাপযোগ্য উপাত্ত (Measurable Data) সংগ্রহ করার জন্য নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল। এক্ষেত্রে একজন গবেষক তার পূর্ব প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা অনুযায়ী তার কর্মতৎপরতা চালিয়ে যান । তাই বলা যায়, উদ্দেশ্যমূলকভাবে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণীয় (Observed) ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থার স্বাভাবিক পরিবেশের আচরণে বিঘ্ন ঘটিয়ে কিংবা নতুন কোন চলক (Variable) যুক্ত করে কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করাই হলো নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ ।
ii. অনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ : বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রাথমিক স্তর হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ। এ কৌশলের ক্ষেত্রে কোন কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি না করে, বরং প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক পরিবেশে গবেষণাধীন বিষয় বা ঘটনার পর্যবেক্ষণ করা হয় । এজন্য অনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণকে প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ (Naturalistic Observation) বলেও অভিহিত করা হয়। অনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ কৌশলের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অর্থাৎ সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে (Participant) অথবা অংশগ্রহণ ব্যতীত (Non-participant) উভয়ভাবে পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারেন; তবে তিনি গবেষণাধীন বিষয় বা ঘটনাকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করেন না। তাই বলা যায়, পর্যবেক্ষণীয় ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিষয় বা ঘটনার পরিবেশের উপর কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করে অথবা কোনো চলকের (Variable) পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেবল সেগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া ও আচরণ পর্যবেক্ষণপূর্বক উপাত্ত সংগ্রহ বা লিপিবদ্ধ করাই হলো অনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ ।
iii. কাঠামোগত পর্যবেক্ষণ : সাধারণত কার্যকারণ সম্পর্কযুক্ত পূর্বানুমান (Causal Hypathesis) যাচাই কিংবা ঘটনার সুশৃঙ্খল (Systematic) বর্ণনা প্রদানের উদ্দেশ্যে কাঠামোগত পর্যবেক্ষণ অধিকাংশ গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। Wilkinson and Bhandarker 4, “Structured observation consists in a careful definition of categories under which the information is to be recorded, standardization of conditions of observation, and is used mostly in studies designed to provide systematic description or to test causal hypothesis.” অর্থাৎ, কাঠামোগত পর্যবেক্ষণ পর্যবেক্ষণীয় ঘটনার সাথে সম্পর্কিত উপাত্ত নির্বাচনে,
পর্যবেক্ষণীয় বিভিন্ন অবস্থা পরিমিতকরণে এবং ধারণযোগ্য উপাত্ত শ্রেণিকরণে সতর্ক পরিকল্পনার আওতায় পরিচালনা করে এবং কার্যকরণ সম্পর্কযুক্ত পূর্বানুমান যাচাই কিংবা ঘটনার সুশৃঙ্খল বর্ণনা প্রদানের উদ্দেশ্যে কাঠামোগত পর্যবেক্ষণ অধিকাংশ গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
iv. অকাঠামোগত পর্যবেক্ষণ : সাধারণত সামাজিক গবেষণায় উপাত্ত উদঘাটনমূলক (Exploratory) কৌশল হিসেবে অকাঠামোগত পর্যবেক্ষণ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অকাঠামোগত পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় গবেষণার কোন পর্যায়ের জন্য পূর্ব পরিকল্পনা অথবা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে অকাঠামোগত পর্যবেক্ষণে কি পর্যবেক্ষণ করা যুক্তিসঙ্গত এবং প্রাসঙ্গিক হবে তা পর্যবেক্ষণের পূর্বে বুঝে উঠা যায় না। এজন্য এ ধরনের পর্যবেক্ষণে গবেষককে পর্যবেক্ষণের বিষয়, প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ ও উপাত্ত লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেয়া হয়। ফলশ্রুতিতে গবেষক অনেক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, অবস্থা ও আচরণকে মোকাবিলা করার জন্য তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন সাধন করতে পারেন। এক্ষেত্রে সময় ও পরিস্থিতি বিশেষে গবেষক নমনীয় পর্যবেক্ষণ কৌশলের আশ্রয় নিয়ে প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করে থাকেন । নৃতাত্ত্বিক
গবেষণায় অকাঠামোগত পর্যবেক্ষণ উপাত্ত সংগ্রহের একটি প্রধান কৌশল হিসেবে স্বীকৃত ।
v. অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ : পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ । প্রফেসর এডওয়ার্ড লিন্ডম্যান (Prof. Edward Lindeman) সামাজিক বিজ্ঞানসমূহের গবেষণায় অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ ধারণার সূত্রপাত করেন । তিনি প্রশ্নমালা বা অনুসূচির (Schedule) মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহকে অর্থহীন অধ্যয়ন বলে মনে করেন । কারণ উভয়ক্ষেত্রে পক্ষপাত (Bias) এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তাই তিনি মতামত ব্যক্ত করেন যে, যদি কাউকে সত্যিই জানতে হয় তবে তাকে প্রশ্ন করে নয়, বরং প্রত্যক্ষ করতে হবে। (Should watch him not to ask him) তাই বলা যায়, যে পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক বা গবেষক স্বয়ং পর্যবেক্ষণীয় দল বা সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হয়ে তথা বসবাস করে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহ করে তাকে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ বলা হয় ।
vi. অংশগ্রহণহীন পর্যবেক্ষণ : যে পর্যবেক্ষণে গবেষক নিজে পর্যবেক্ষণীয় গোষ্ঠী বা সংস্থার আচরণ ও কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন না কিন্তু সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী বা সংস্থার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন, তাকে অংশগ্রহণহীন পর্যবেক্ষণ বলে । অর্থাৎ অংশগ্রহণহীন পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষক অন্যের আচরণ, কর্মকাণ্ড ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশে, কিন্তু পর্যবেক্ষক নিজে পর্যবেক্ষণকৃত আচরণের অংশীদার হয়ে উঠেন না।
অংশগ্রহণহীন পর্যবেক্ষণের সংজ্ঞায় Wilkinson and Bhandarkar বলেন, “পর্যবেক্ষণীয় কার্যাবলিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোনো প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই পর্যবেক্ষকের পক্ষ থেকে যখন কোনো বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষক এবং ধারণকারীর ভূমিকা গৃহীত হয় তখন তাকে অংশগ্রহণহীন পর্যবেক্ষণ বলে।”
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায় । প্রাপ্ত ধারণা থেকে একথা বলা যায় যে, কোনো সামাজিক গঠনার গভীরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম । সমাজ গবেষকগণ পর্যবেক্ষণের স্থান, পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন মানদন্ডের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণের উল্লিখিত শ্রেণিবিভাগ করছেন । আর উপর্যুক্ত প্রতিটি পদ্ধতিই কার্যকরী অবদান রাখে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!