ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

পরিসংখ্যান কাকে বলে? পরিসংখ্যানের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী আলোচনা কর?

অথবা, পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা দাও? পরিসংখ্যানে কী কী বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়
আলোচনা কর।
অথবা, পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা দাও? পরিসংখ্যানের বিশেষ বিশেষ দিকগুলো আলোচনা কর।
অথবা, পরিসংখ্যান বলতে কী বুঝ? পরিসংখ্যানের প্রকৃতিসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখাও।
অথবা, পরিসংখ্যান কী? পরিসংখ্যানের প্রকৃতিগুলো কী কী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
সভ্যতা সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে বিভিন্ন গাণিতিক প্রয়োজনে মানুষ পরিসংখ্যান ব্যবহার করেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় পরিসংখ্যান মানব সভ্যতার প্রাচীন যুগতো বটেই, মধ্যে ও আধুনিক যুগের কর্মকাণ্ডেও ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক যুগে এসে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের ব্যবহার দিন দিন ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে।
পরিসংখ্যান : ইংরেজি ‘Statistics’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে পরিসংখ্যান। ‘Statistics’ শব্দটি ইটালীয় শব্দ ‘Statista’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘রাজনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্র’। ‘Statistics’ শব্দটি সর্বপ্রথম Gottfried Achen Wall ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যবহার করেন। এ বিষয়কে তিনি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন । তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন দেশের সাথে পার্থক্য খুঁজতে গিয়ে এ বিষয়টি আবিষ্কার করেন ।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন পরিসংখ্যানবিদ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পরিসংখ্যানের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন । নিয়ে সেগুলো আলোচনা করা হলো :
A. L. Bowley পরিসংখ্যানকে ‘গড়ের বিজ্ঞান (Science of average) নামেও অভিহিত করেছেন । যদিও গড় তথ্যাবলি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল, তথাপি ইহা বহুসংখ্যক পরিসংখ্যান প্রণালির মধ্যে একটি প্রণালি মাত্র । কাজেই এটা সমগ্র পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না ।
ডব্লিউ. আই. কিং (W. I. King) এর মতে, “Statistics is the science of decision making in the field of uncertainty.” অর্থাৎ, অনিশ্চিত বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিজ্ঞানই হলো পরিসংখ্যান। এ সংজ্ঞাতে কোন বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যামূলক সিদ্ধান্ত নেয়ার উপর জোর দেয়া হয়েছে। Selingman এর পরিসংখ্যানের সংজ্ঞানুসারে, “কোন অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহ, শ্রেণিবদ্ধকরণ, উপস্থাপন, তুলনাকরণ এবং ব্যাখ্যাকরণই হলো পরিসংখ্যান।”
ওয়েস্টার (Webstar) এর মতে, “পরিসংখ্যান হলো কোন রাষ্ট্রে জনসাধারণের অবস্থা সম্পর্কিত শ্রেণিবন্ধ তথ্যাবলি বিশেষভাবে সেসব তথ্যগুলো সংখ্যা বা সংখ্যার সারণি অথবা যে কোন রূপ সারণি আকারে বা শ্রেণি বিন্যাসের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়।” পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্যে শ্রেণিবদ্ধভাবে প্রভাবিত তথ্যাবলির সমষ্টিকে বুঝে থাকি। অধ্যাপক সেক্রিস্ট প্রদত্ত এ সংজ্ঞাকে সবচেয়ে সুন্দও ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন অধ্যাপক এইচ. সেক্রিস্ট। তাঁর মতে, পরিসংখ্যান দ্বারা আমরা কোন পরিশেষে আমরা বলতে পারি, পরিসংখ্যানের উপযুক্ত সংজ্ঞাসমূহ কোনভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। পরিসংখ্যানের পরিসংখ্যানের আদর্শ সংজ্ঞা বলা হয়ে থাকে।
পরিসংখ্যানের বৈশিষ্ট্য : পরিসংখ্যানের সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে পরিসংখ্যানের বা উপাত্তসমূহের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠে। কোন একটি একক সংখ্যা বা সম্পর্কহীন কোন তথ্যমালাকে পরিসংখ্যান বলা যাবে না। আমরা এখন পরিসংখ্যানে এই মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করবো। মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ :
১. পরিসংখ্যান হলো তথ্যের সমষ্টি : একক ও সম্পর্কহীন সংখ্যা পরিসংখ্যান হবে না। একাধিক সম্পর্কযুক্ত সংখ্যা সমষ্টিগতভাবে পরিসংখ্যান হবে। পরিসংখ্যান কতকগুলো সম্পর্কযুক্ত এককের সমষ্টি।
২. পরিসংখ্যান অবশ্যই সংখ্যা দ্বারা প্রকাশিত হবে কোন অনুসন্ধানের বর্ণনামূলক তথ্য পরিসংখ্যান নয়। পরিসংখ্যান হতে হলে তথ্যসমূহের সংখ্যাত্মক প্রকাশ আবশ্যক। গুণবাচক তথ্য, যেমন- ভালো-মন্দ, ধনী-গরিব, সুন্দর- কালো এবং ভালো পণ্য ইত্যাদি সরাসরি পরিসংখ্যানের আওতায় না পড়লেও এদের কতজন ভালো এবং কতজন মদম অথবা কতজন ধনী ও কতজন গরিব এরূপে সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তারা পরিসংখ্যান হবে। তথ্যের সংখ্যাত্মক প্রকাশ তথ্যের গুণবাচক বক্তব্যের চেয়ে ঢের বেশি যথার্থ ও নির্ভুল হতে পারে ।
৩. পরিসংখ্যান অবশ্যই পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত : পূর্বনির্ধারিত কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের সাথে অনুসন্ধানের ফলাফল বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গৃহীত হলে উক্ত সংখ্যাত্মক তথ্যাদি পরিসংখ্যান হবে। অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য দ্ব্যর্থহীন এবং সুস্পষ্ট হতে হবে অর্থাৎ অনুসন্ধানের ক্ষেত্র একক এবং তথ্যের নির্ভুলতা কমাতে হবে। উদ্দেশ্যহীনভাবে গৃহীত সম্পর্কহীন সংখ্যাসমূহ পরিসংখ্যান হবে না। কারণ এরা সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যর্থ হবে। উদাহরণস্বরূপ ময়মনসিংহ এলাকার মৎস্য চাষীদের বার্ষিক মুনাফা সম্পর্কে জানার জন্য ফরিদপুর এলাকার মৎস্য চাষিদের মুনাফার পরিমাণের তথ্য সংগ্রহ করলে এলাকার ভিন্নতার কারণে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে না।
৪. পরিসংখ্যান বহুবিধ কারণ দ্বারা প্রভাবিত : পরিসংখ্যান নানাবিধ কারণ দ্বারা প্রভাবিত অনুসন্ধানের সংখাত্মক বর্ণনা হতে পারে। পরিসংখ্যান তথ্য বহুবিধ প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হবে। কেননা পরিসংখ্যান শুধু একটিমাত্র কারণের ফল নয়। পরিসংখ্যান তথ্যাদি বহুসংখ্যক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এসব কারণের কোনটিকে পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা দুরূহ ব্যাপার। যেমন- কোন একটি লোকের সঞ্চয় তাঁর আয়ের পরিমাণ, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং খরচের প্রকৃতি ইত্যাদির দ্বারা প্রভাবিত হয়। তেমনি কোন একটি খুচরা দোকানের বিক্রয়ের পরিমাণ দোকানের আয়তন, অবস্থান, বিক্রয় প্রচেষ্টা এবং মূল্যনীতি ইত্যাদির দ্বারা প্রভাবিত হয়। উপর্যুক্ত ক্ষেত্রেই সঞ্চয় এবং বিক্রয়ের পর্যালোচনা করতে হলে যে বিভিন্ন উপাদান এ চলকগুলোকে প্রভাবিত করে সেগুলো বিবেচনায় আনতে হবে। তবেই পরিসংখ্যান পদ্ধতি প্রয়োগের ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।
৫. পরিসংখ্যান উপাত্ত তুলনাযোগ্য এবং সমজাতীয় পরিসংখ্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো দুই বা ততোধিক ঘটনার মধ্যে তুলনার সুযোগ সৃষ্টি করা। তথ্য সংগ্রহের কাজ এমনভাবে করা উচিত যাতে সেগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তুলনা সম্ভবপর হয়। তুলনা যোগ্যতার একটি অত্যাবশ্যক পূর্বশর্ত হলো তথ্যের সমপ্রকৃতি ও সমতুল্যতা।

৬. তথ্যাবলির গ্রহণযোগ্যতা: কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংগৃহীত তথ্যাবলির গ্রহণযোগ্যতা অবশ্যই থাকতে হবে। অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে তা যেন তথ্যগুলোর মধ্যে প্রতিফলিত হয়। যেমন- দুটিm শহরের মোবাইল সেট বিক্রির সেন্টারগুলোর মাসিক মুনাফার মধ্যে তুলনা করার সময় সতর্ক থাকতে হবে সেন্টারগুলোতে সেট বিক্রির পাশাপাশি মোবাইল কোম্পানিগুলোর সিমকার্ড বিক্রি করা হয়। এক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিম বিক্রির মুনাফা ব্যতীত শুধু সেট বিক্রির মুনাফার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তা না হলে প্রাপ্ত ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হবে।
৭. তথ্যসমূহ ন্যূনতম পরিমিত মান অনুসারে সংগৃহীত হবে : পরিসংখ্যান পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে যথার্থ ফলাফল প্রাপ্তি সংগৃহীত তথ্যগুলোর ন্যূনতম পরিমিত মানের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ সংগৃহীত উপাত্তগুলো যেন পরিমিত মানকে অনুসরণ করে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৮. তথ্যগুলো একইভাবে চয়ন করতে হবে : কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ডাটাগুলো অবশ্যই দৈবভাবে (Randomly) সংগ্রহ করতে হবে । কারণ নিরপেক্ষতা পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করার পূর্বশর্ত।
৯. পরিসংখ্যান প্রাক্কলনে যুক্তিসংগত পরিমাণে সঠিকতা বজায় রাখতে হবে : পরিসংখ্যান তথ্যাবলির উপযোগিতা এদের সঠিকতার উপর নির্ভর করে। পরিসংখ্যান তথ্যাবলি নিরংকুশভাবে সঠিক হওয়া সম্ভব নয়, তবে এদের গণনায় বা প্রাক্কলনে ভুলের পরিমাণ যথাসম্ভব কমানো বং যথেষ্ট পরিমাণে সঠিকতা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। অবশ্য সঠিকতার মাত্রা অনেকাংশে কি জাতীয় তথ্য সংগৃহীত হবে এবং কি উদ্দেশ্যে তা সংগৃহীত হবে তার উপর নির্ভরশীল ।
১০. পরিসংখ্যান তথ্যসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে সংগৃহীত হতে হবে : তথ্য সংগ্রহ সুশৃঙ্খল হওয়া উচিত এবং এ ব্যাপারে ন্যূনতম লক্ষ্যহীনতা বা অনিয়মের স্থান নেই। কারণ অবিন্যস্ত তথ্য বা লক্ষ্যহীনভাবে সংগৃহীত তথ্য ভুল সিদ্ধান্তে নিয়ে যেতে পারে ।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান একটি অপরিহার্য পদ্ধতি । আর এ দৃষ্টিকোণ থেকে পরিসংখ্যান তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। এ বৈশিষ্ট্যগুলো পরিসংখ্যানকে তার কার্যাবলি, দায়িত্ব, পদ্ধতি, প্রকৃতি ইত্যাদি নির্ধারণ করে দেয়। তবে পরিসংখ্যানের বৈশিষ্ট্যগুলো একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত ও সম্পর্কযুক্ত হতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!