Answer

পরিসংখ্যানের কার্যাবলি আলোচনা কর ।

অথবী, সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের কাজ আলোচনা কর।
অথবা, সামাজিক গবেষণায় পরিসংখ্যানের কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।
অথবা, পরিসংখ্যানের কাজসমূহ আলোচনা কর।
উত্তরয় ভূমিকা :
পরিসংখ্যান হলো তথ্যবিশ্বের কোন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত সংখ্যাত্মক তথ্যের সংগ্রহণ,
শ্রেণিবদ্ধকরণ, উপস্থাপন, বিশ্লেষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলের মাধ্যমে তথ্যবিশ্ব বা তথ্যবিশ্বের উক্ত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট মাত্রার ভ্রান্তি (Error) সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সম্বলিত একটি বিজ্ঞান ।
পরিসংখ্যানের কার্যাবলি : কোন পূর্বনির্ধারিত তথ্য বিশ্ব বা সমগ্রকের কোন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংখ্যাত্মক তথ্যাবলি সংগ্রহ এবং উপযুক্ত পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে উক্ত তথ্যবিশ্ব সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই পরিসংখ্যানের মুখ্য উদ্দেশ্য। বিভিন্ন পরিসংখ্যানবিদদের দেয়া সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, কোন অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মূলত অনুসন্ধান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ (Collection), তথ্য উপস্থাপন ( Presentation of data), তথ্য বিশ্লেষণ (Analysis of data) এবং বিশ্লেষণের ফলাফলকে ব্যাখ্যাকরণই (Interpretation) পরিসংখ্যানের উদ্দেশ্য এবং কার্যাবলি। নিম্নে পরিসংখ্যানের কার্যাবলি ব্যাখ্যা করা হলো :
১. তথ্য সংগ্রহ অনুসন্ধান সম্পর্কিত তথ্যবিশ্বকে সংজ্ঞায়িত করার পর সংজ্ঞায়িত তথ্যবিশ্ব হতে উপাত্ত সংগ্রহ করতে হয়। যে কোন পরিসংখ্যানিক অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহ করাই প্রথম কাজ। পরিসংখ্যানিক উপায়ে কোন বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংগৃহীত তথ্য কাঁচামাল হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং সংগৃহীত তথ্য পরিমিত মান অনুসরণ না করলে বা সংগৃহীত তথ্যে ভুল-ত্রুটি থাকলে উক্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে যথার্থ মাত্রার মন্তব্যকরণও ত্রুটিপূর্ণ হয়। দুটি উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। যথা:
ক. প্রাথমিক তথ্য (Primary data) যা অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হতে শুমারি জরিপ ও নমুনা জরিপের মাধ্যমে।
খ. মাধ্যমিক তথ্য (Secondary data) যা প্রকাশিত, অপ্রকাশিত, সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে সংগৃহীত উপাত্ত হতে সংগ্রহ করা হয়।
তবে যে উৎসই ব্যবহার করা হোক না কেন, তথ্য অবশ্যই সতর্কতার সাথে সংগ্রহ করতে হবে।
২. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ: তথ্য সংগ্রহ করার পর প্রক্রিয়াকরণই হলো পরিসংখ্যানের দ্বিতীয় কাজ। তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বলতে
ক. প্রাথমিক উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্যের মাঝে কোন ভুলত্রুটি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা। যদি ভুলত্রুটি থাকে তার প্রয়োজনীয় সংশোধন করা অর্থাৎ তথ্যে কোন অসামঞ্জস্য থাকলে তা দূর করা।
খ. মাধ্যমিক উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্যের সময়ের পরিবর্তনের সাথে এককের পরিবর্তন হয় কি না এবং মাধ্যমিক তথ্য সংরক্ষণে কোন ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলে তা যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা। অর্থাৎ সংগৃহীত তথ্যগুলোকে পরবর্তীতে ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনের সাথে সুশৃঙ্খলভাবে রক্ষণ করাকে তথ্যের প্রক্রিয়া বলা হয়।
৩. তথ্যের উপস্থাপন অশ্রেণিকৃত তথ্য হতে অনুসন্ধান সম্পর্কিত কোন ধারণা পাওয়া যায় না। তথ্যের প্রক্রিয়াকরণের পরের কাজটি হচ্ছে তথ্যের উপস্থাপন। তিনটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তথ্যগুলোকে উপস্থাপন করা যায়।
ক. শ্রেণিকরণ (Classification),
খ. সারণিকরণ (Tabulation),
গ. লেখভিত্তিক উপস্থাপন (Graphical Representation)।
ক. শ্রেণিকরণ : অশ্রেণিকৃত তথ্য হতে অনুসন্ধান সম্পর্কিত কোন ধারণা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ কারণে তথ্যের শ্রেণিকরণ আবশ্যক। অনুসন্ধান সম্পর্কিত বিষয়ের এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের তথ্য সংগৃহীত হয়। প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে শ্রেণিকরণ করলে পরবর্তীতে তা বুঝতে এবং যে কোন পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করতে সহজ হয়।
খ. সারণিকরণ : তথ্য উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শ্রেণিকৃত তথ্যসমূহকে সারণির মাধ্যমে প্রকাশ করা। অর্থাৎ টেবিল আকারে তথ্যগুলোকে সাজিয়ে উপস্থাপন করা। সারণিকরণ, একমুখী, দ্বিমুখী, ত্রিমুখী এবং জটিল সারণিকরণের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন করা। সারণিকরণের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সংগৃহীত তথ্যসমূহকে সংক্ষিপ্ত রূপে প্রকাশ করা। যার ফলে তথ্যসমূহের সম্পর্কে বর্ণনামূলক পরিসংখ্যানের ধারণা অর্জন করা সম্ভব হয়।
গ. লেখভিত্তিক উপস্থাপন : তথ্যবিশ্ব হতে সংগৃহীত তথ্যসমূহকে চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করাকে লেখভিত্তিক উপস্থাপন বলা হয় । তথ্যকে চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করলে খুব সহজে তা বোধগম্য হয় এবং তথ্যের গতি প্রকৃতি বান প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন- কোন ব্যবসায়ী তাঁর মুনাফা সম্পর্কিত তথ্য লেখচিত্রের মাধ্যমে অল্প পরিসরে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার বছরভিত্তিক প্রবণতা বুঝাতে ব্যবহার করলে শেয়ার হোল্ডারগণ তা প্রত্যক্ষ করে মুনাফার পরিমাণ ঊর্ধ্বগতি না নিম্নগতি তা সহজে অনুধাবন করতে পারত। আধুনিক পরিসংখ্যানে লেখভিত্তিক তথ্য উপস্থাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটা বর্ণনামূলক পরিসংখ্যানের একটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি ।
৪. তথ্য বিশ্লেষণ : কোন অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংগৃহীত উপাত্ত কোন বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সংগ্রহ করা হয়। উপাত্তে পরিসংখ্যানের তত্ত্বসমূহের প্রয়োগ করাকে তথ্যের বিশ্লেষণ বলা হয়। বর্ণনামূলক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে গৃহীত ধারণাকে সম্ভাবনা তত্ত্বের সাহায্যে পরিসংখ্যানিক ধারণাকে রূপান্তরিত করাই তথ্য বিশ্লেষণের মুখ্য উদ্দেশ্য। তথ্য বিশ্লেষণে সাধারণত যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তা হলো গড়, পরিমিত ব্যবধান, সংশ্লেষণ, নির্ভরণ বিশ্লেষণ, কালীন সারি বিশ্লেষণ, সূচক সংখ্যা বিশ্লেষণ, নমুনায়ন ও গ্রাক্কলন, অন্তঃপ্রক্ষেপণ ও বহিঃপ্রক্ষেপণ ইত্যাদি। মূলত্ব তৃথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য গ্রহণের পথকে সুগম করে তুলে।
৫. ব্যাখ্যাকরণ : সংগৃহীত তথ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করে যেসব প্রাক্কলন করা হয় ত সম্পর্কে যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করাই পরিসংখ্যানের মুখ্য কাজগুলোর মধ্যে একটি কাজ। ব্যাখ্যাকরণ সঠিক না হলে ভুল সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এ কারণে অভিজ্ঞ পরিসংখ্যানবিদদের সাহায্য নিয়ে এ কাজটি করা হয়। অর্থাৎ ব্যাখ্যাকরণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করতে হয়।
উপসংহার : উপযুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, পরিসংখ্যান গবেষণার ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী বিষয়। এর বহুবিধ কার্যাবলি রয়েছে যা সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!