ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

নারী উন্নয়নে GAD-এর নীতিমালা আলোচনা কর।

অথবা, নারী উন্নয়নে GAD এর সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, নারী উন্নয়নে GAD এর নীতিমালা সম্পর্কে বিবরণ দাও।
অথবা, নারী উন্নয়নে GAD এর নীতিমালার বর্ণনা দাও।
অথবা, নারী উন্নয়নে GAD এর বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধর।
অথবা, নারী উন্নয়নে GAD এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর৷৷ ভূমিকা :
পৃথিবীতে সংঘটিত মোট শ্রমশক্তির ২/৩ ভাগ সম্পাদিত হয় নারীদের দ্বারা এবং জাতীয় আয়ে তাদের অবদান ৩০%। কিন্তু মোট সম্পদের মাত্র ১/১০০ ভাগের মালিকানা নারীদের। সমাজে নারী ও পুরুষের এ বৈষম্যমূলক অবস্থা দূরীকরণের লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেশে দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের
সমষ্টিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব বাস্তবায়িত হয়ে চলেছে। Gender and development ( GAD) : WID এবং WAD এর সীমাবদ্ধতার কারণে ৮০ এর দশকে এর বিকল্প হিসেবে জেণ্ডার এবং উন্নয়ন (GAD) তত্ত্বের উদ্ভব ঘটে। ইহা সমাজতান্ত্রিক নারীবাদীদের ধারণা দ্বারা প্রভাবিত। GAD হচ্ছে একমাত্র নারী উন্নয়ন নীতিমালা, যা নারীর জীবনের সকল দিককে ধারণ করে এবং পিতৃতান্ত্রিকতাই যে নারীর অধস্তনতার মূল কারণ তা এখানে আলোকপাত করা হয়। GAD নীতিমালা নারী শব্দটির পরিবর্তে জেন্ডার বা জেন্ডার সম্পর্ক শব্দটি ব্যবহার করে। মূলত, নারী পুরুষের মধ্যকার নানা সামাজিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই GAD নীতিমালার উদ্ভব ঘটেছে। GAD নীতিমালা নারীকে পরোক্ষ উপকারভোগী নয়, বরং সক্রিয় চালিকাশক্তি রূপে বিবেচনা করে। এ নীতিমালা সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে। সমাজের একটি নির্দিষ্ট ইস্যুকে তুলে ধরার সময় তা আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিতকে বিবেচনায় রাখে। GAD নারীর অগ্রগতি তরান্বিত করার লক্ষ্যে নারীর প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। উন্নয়ন কর্মকৌশল অবশ্যই যেন নারীর অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে ছাড়িয়ে নারীর রাজনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা পর্যন্ত প্রসারিত হয়। সেদিকে মনোযোগের দাবি করে GAD।
GAD এর বৈশিষ্ট্য : GAD এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে দেয়া হলো :
১. নিছক নারী উন্নয়ন নয়, নারী পুরুষের সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়।
২.পুরুষের সাথে সমতার ভিত্তিতে নারীকে উন্নয়নে সম্পৃক্ত করে।
৩. নারীকে সমস্যা নয়, সমস্যা সমাধানের কারক রূপে দেখে।
৪. নারী পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের দাবি জানায়।
৫. নারীর অধস্তনতাকে বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ দেখে।
৬. নারীর অধস্তনতার ভিত্তিস্বরূপ পিতৃতান্ত্রিক সমাজকাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে তার অবসান চায়।
৭. সমাজ কর্তৃক আরোপিত জেন্ডারভিত্তিক শ্রমবিভাজনের বিলুপ্তি দাবি করে।
৮. পরিবার ও পরিবারের বাইরে নারীর সকল পারিশ্রমিকবিহীন কাজের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করে।
৯. মূলত নারীকেই সম্বোধন করলেও নারীর বৃহত্তর স্বার্থের প্রয়োজনে পুরুষকেও সম্পর্কিত করে।
১০. নারী উন্নয়ন ও জেন্ডার সমতা অর্জনের লক্ষ্যে সহায়ক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।
GAD এর সীমাবদ্ধতা : GAD এর সীমাবদ্ধতাসমূহ নিম্নরূপ
১. এটি সামাজিক কাঠামো পরিবর্তনে দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করে।
২. GAD নীতিমালা বিশ্বাস করে যে, শ্রেণি স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং মহিলাদের নিজস্ব ভাবাদর্শের যে বিরোধ তা নিরসন করা জরুরি। GAD নীতিমালার চূড়ান্ত লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায় তাদের এমন স্তরে উন্নীত করা যেখান থেকে তারা নিজেদের অধিকার, পছন্দ, অগ্রাধিকারের জন্য লড়াই করতে সক্ষম। এ নীতি এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠায় কথা বলে যেখানে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলেই ক্ষমতার ভিত্তিতে বিবেচিত।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, WID, WAD এবং GAD এ তিনটি নীতিমালার প্রত্যেকের কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নারীর উন্নয়নে Approach তিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!