ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নীতিসমূহ পর্যালোচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত নারী উন্নয়ন নীতিসমূহ আলোচনা কর।
অথবা, নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর।
অথবা, নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধর।
অথবা, নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বিবরণ দাও ।
অথবা, নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নীতিমালা সম্পর্কে যা জান লিখ ।
উত্তর৷ ভূমিকা :
নারীর ক্ষমতায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং অবিভাজ্য ধারণাবিশেষ। এক্ষেত্রে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের দু’টি শর্ত পূরণ হলেই নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকশিত হবে। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নীতিসমূহ : ১৯৯৭ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা অনুমোদন নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অর্জন। এ
নীতিমালা জাতীয়, স্থানীয় ও পারিবারিক পর্যায়ে নারী ইস্যুকে মূল ধারায় নিয়ে আসার উপর গুরুত্বারোপ করেছে। নিম্নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করা হলো :
১. পারিবারিক, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নারীর গুরুত্ব : জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা শক্তিশালীকরণ করতে হবে। জাতীয় জনবল শক্তিশালীকরণ, NGO এবং বৃহত্তর সুশীল সমাজের মধ্যে আরো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গঠন করা। নারী উন্নয়নের জন্য জেন্ডার ইস্যু নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা।
জেন্ডারকে মূলধারা করতে সহায়তার জন্য প্রকল্প কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সকল স্তরে সক্ষমতা গঠন। জেন্ডার ইস্যু সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকল পর্যায়ে Advocacy ও Lobbing এবং গণতৎপরতা চালানো। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্ত রে নেটওয়ার্কিং এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি পরিচালনা করা।
২. কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন : নারী উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করা। পরিবার, সমাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান ভূমিকা পালনসহ নারীকে উন্নয়নের সমান অংশীদাররূপে প্রতিষ্ঠা করা। নীতিমালা সংস্কার ও জোরালো ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীর সমান অধিকার চর্চায় বাধাদানকারী সকল আইনগত, অর্থনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক বাধা অপসারণ করা। নারীর ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকার সম্বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি বা বৃদ্ধি এবং নারীর অবস্থা ও অবস্থানের উন্নয়ন সাধনের অঙ্গীকার সুদৃঢ়করণ।
৩. উইড ফোকাল পয়েন্ট : নারী উন্নয়নে জাতীয় মেকানিজমের অন্যতম গুরুত্ববাহী অংশ হচ্ছে WID Focal Points. মন্ত্রণালয়গুলো ইতোমধ্যে উইড ফোকাল পয়েন্ট, অ্যাসোসিয়েট ফোকাল পয়েন্ট প্রয়োগ করেছে। বেইজিং সম্মেলনের পর এ উইড ফোকাল পয়েন্টকে বিস্তৃত শক্তিশালী করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও এজেন্সিসমূহের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে নারীকে সরাসরি নিয়োগ দানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেমন- বিগত সরকারের আমলে তিনজন নারীকে কূটনীতিবিদ, তিনজনকে যুগ্মসচিব ও একজনকে হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
৪. রাজনীতিতে নারী : বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে নারী অবস্থানের যে বাস্তবতা তা পরস্পরবিরোধী। কেননা, বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামোয় প্রধানমন্ত্রী একজন নারী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীও একজন নারী। সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্তরে এ দু’নেত্রীর প্রাধান্য ব্যাপক দৃশ্যমান হলেও সার্বিকভাবে বিরাজ করছে শূন্যতা। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়, বিশেষ করে কাঠামোগত রাজনীতিতে নারীর অবস্থান তেমন ব্যাপক ও ক্ষমতা সংহতকরণে কার্যকর নয়। নিম্নের সারণিতে বিষয়টির সত্যতা তুলে ধরা হলো :
উল্লেখ্য, নারীর ক্ষমতায়নের উপর বিগত ও বর্তমান সরকার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে সক্রিয়।
৫. মন্ত্রিসভায় নারী : বর্তমানে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ তিনজন মহিলা মন্ত্রী অধিষ্ঠিত আছেন। পূর্ববর্তী সরকারে ছিলেন চারজন। বাংলাদেশের ইতিহাসে মহিলা মন্ত্রিগণ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে সচরাচর বিবেচিত নয় তবুও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তবে বিগত প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান BNP, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম লক্ষণীয়। বিগত সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য তিন জন মন্ত্রীর একজন কৃষি, খাদ্য ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, একজন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং অন্যজন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
৬. আইনসভায় নারী : প্রথম সংসদ থেকে অষ্টম সংসদ পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনে মোট ২০৩ জন মহিলা সদস্য মনোনীত হয়েছে। এদের মধ্যে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন আটজন। সংসদীয় এ সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাজনীতিতে নারীর আগমন ত্বরান্বিত করেছে এমন কথা বলা যাবে না। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত নারী সাংসদ ছিলেন মাত্র সাতজন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ছয়জন, পরবর্তীতে উপ-নির্বাচনে একজন নির্বাচিত হন। সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে নারীদের জন্য ১৫টি আসন বৃদ্ধি করে ৪৫টি করা হয়। বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০১১ এর মাধ্যমে নারীদের জন্য আরো ৫টি সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে এ আসন সংখ্যা ৫০টি।
৭. স্থানীয় সরকার কাঠামোতে নারী : গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সর্বনিম্ন প্রশাসনিক স্তর হচ্ছে স্থানীয় সরকার। ইউনিয়ন পরিষদে নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ ও সঠিক প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রবর্তিত হয় একটি নতুন আইন। এতে নারীদের তিনটি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নে এটি একটি বিরাট অর্জন। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনেই প্রথম মহিলারা প্রত্যক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ক্ষমতা কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অবস্থান ও অংশগ্রহণের চিত্র নির্ধারণের এ বৈশ্বিক ও বাংলাদেশ বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, সর্বক্ষেত্রেই নারীর ক্ষমতায়নে একটি প্রতীকী বৃদ্ধি ঘটেছে। জেন্ডার সমতার লক্ষ্য অর্জন এখনো দূর ভবিষ্যতের ব্যাপার হয়ে আছে। কারণ রাজনৈতিক জীবনে নরনারীর অংশগ্রহণের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হলেও প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমতার আইন স্বীকৃত হয় নি। বাস্তবে এর ব্যবধান ব্যাপক। ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সার্বিকভাবে সমাজকে প্রভাবিত করে। তার উপর নারীর কোনো প্রভাব নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর স্বার্থ ও দুশ্চিন্তার প্রতিনিধিত্ব নেই। তবে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!