ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

নারী উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, গণমাধ্যম কীভাবে নারী উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে?
অথবা, “নারী উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অন্যান্য” ব্যাখ্যা কর।
অথবা, নারী উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে গণমাধ্যম কী ভূমিকা পালন করে? উল্লেখ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
গণমাধ্যম বিশ্ব ইতিহাসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গণমাধ্যমের শক্তি অসীম। এক কথায় বলা যায়, Media moulds the mind of mankind, shapes their destiny either to develop or even to destroy them. আর শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনে রয়েছে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব। গণমাধ্যমের সঠিক ব্যবহারে যেমন চিত্তের বিনোদন, জ্ঞানের উৎকর্ষসাধন, পারস্পরিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা,
সহনশীলতা, মানবিক বোধের উন্নতি ঘটে তেমনি এর অসতর্ক প্রয়োগে বা অপপ্রয়োগে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যম এমনই এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সংগঠন বা মাধ্যম, যার সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন ব্যবহারে বিরাজ করে সমাজে অবিচ্ছিন্ন শান্তি, একাত্মতা ও সমতা, তেমনি সমাজে আনতে পারে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। তাই গণমাধ্যম নারী উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
নারী উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা : যোগাযোগ গবেষকরা বিকাশশীল সমাজের উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ে নানা ধরনের তত্ত্ব দিয়ে থাকেন। এসব তত্ত্বে বলা হয়েছে, সুসংগঠিত যোগাযোগের সঙ্গে যে কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। জাতীয় উন্নয়নের জন্য গণমাধ্যমের বিকাশ অতীব জরুরি। ড. উইলার শ্রাম ‘Mass Media and National Development’ গ্রন্থে বলেছেন, “জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম বাহন হচ্ছে গণমাধ্যম।” “In the service of national development, the mass media are the agents of social change.” জাতীয় উন্নয়নের জন্য নারীসমাজেরও উন্নয়নের প্রয়োজন। কারণ জনসংখ্যার অর্ধেক এ নারীসমাজের উন্নয়ন না হলে জাতীয় উন্নয়ন টেকসই হবে না। একথা উপলব্ধি করেই বর্তমানে গণমাধ্যমগুলো নারী উন্নয়নের জন্য নাটক, ফিচার, ম্যাগাজিন ইত্যাদি প্রকাশ করে জনগণকে নারী উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন করে অর্থাৎ নারী উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। গণমাধ্যমগুলো যেভাবে নারী উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :
১. নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা : বর্তমানে বিভিন্ন গণমাধ্যম যেমন—টিভিতে নারীদের অধিকার বিষয়ক হচ্ছে। এছাড়া নারী অধিকার নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ, মাগ্যাজিন প্রকাশ বিভিন্ন সংবাদপত্রে নারী বিষয়ক বিশেষ পাতা এবং খণ্ড নাটক, নাটিকা, বিভিন্ন ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠান ইত্যাদি হচ্ছে। ফলে নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ফিচার প্রকাশ হচ্ছে। নারীরা এসব দেখে, পড়ে তাদের অধিকার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন হচ্ছে, যা তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম করে তুলছে এবং আগের চেয়ে তাদের অবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে।
২. নারীদের শিক্ষা সম্পর্কে সচেতন করা : শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন হতে পারে না। আর জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এমনকি নারীদের নিজেদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন গণমাধ্যম নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় প্রচার/প্রকাশ করছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, নারীদের মধ্যে শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে এবং নারীরা আগের চেয়ে বেশি শিক্ষিত হচ্ছে, যা তাদের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নে সাহায্য করছে। প্রচলিত মতাদর্শগুলো পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত। পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে সমাজে নারীদের অবস্থান
৩. পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা : আমাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। তাই সমাজে অধস্তন। নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পুরুষের চেয়ে পিছনে। নারীর উন্নয়ন না হলে সমাজের উন্নয়ন হবে না, আর পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ দূর না হলে নারী উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো বর্তমানে নারী সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় যেমন— নারী পুরুষ উভয়েই মানুষ, নারীদেরও পুরুষের সমান অধিকার আছে ইত্যাদি বিষয় প্রচার করে নারী পুরুষ সকলকে নারী বিষয়ে সচেতন করে তুলছে। গণমাধ্যমগুলো পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ দূর করার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে, যা দেখে নারী পুরুষ সবাই সচেতন হচ্ছে।
৪. নারীনির্যাতন দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন : পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীনির্যাতন একটি সাধারণ বিষয়। মনে করা হয়, নারী হয়ে জন্মেছে নির্যাতন তো সহ্য করতেই হবে। কিন্তু যে সমাজে নারীনির্যাতন বিদ্যমান, সে সমাজ তত অনগ্রসর। গণমাধ্যমগুলো বর্তমানে নারীনির্যাতন সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় আমাদের দেশের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা থেকে। যেমন- “ভালো মানুষ কখনো এসিড ছোড়ে না” এ ধরনের স্লোগান নিয়মিত প্রকাশ হয় ‘প্রথম আলোতে’ । এছাড়া ‘প্রথম আলো’ এসিডদগ্ধ নারীদের পুনর্বাসনের জন্য সহায়ক তহবিল গঠন করেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন এসিডদগ্ধ নারীদের অর্থ সাহায্য দিয়ে তাদের পুনর্বাসনে সাহায্য করছে। এছাড়া বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনা প্রতিনিয়ত পত্রিকার পাতায় প্রকাশ করছে এবং এসব অপরাধের শাস্তি সম্পর্কেও লেখালেখি করছে। এর ফলে নারীনির্যাতন সম্পর্কে সমগ্র সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে বা নারীনির্যাতন হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। প্রথম আলো ছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, চলচ্চিত্রে
নারীনির্যাতন বিরোধী বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে নারীনির্যাতন আগের চেয়ে কমেছে।
৫. নারীদের মধ্যে প্রণোদনা (Motivation) সৃষ্টি করা : বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত নারী ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরা হয়। তাঁদের সাফল্য, উদ্যম ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য দেয়া হয়। বিভিন্ন নারীরা এসব বিষয় দেখে বা পড়ে নিজেদের মধ্যে এক ধরনের আলোড়ন অনুভব করে, যা তাদেরকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং জীবনে সাফল্য লাভ করার
প্রণোদনা সৃষ্টি করে। নারীরা অন্য বিখ্যাত নারীদের দেখে ভাবে, ওরা যদি পারে তাহলে আমরা কেন পারব না। এ ধরনের প্রণোদনা নারীদের সামনে এগিয়ে যেতে এবং তাদের অবস্থার পরিবর্তনে সাহায্য করে।
৬. জনমত গঠন : যে কোনো বিষয়ে জনমত গঠনে, গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নারী অধিকার, নারীনির্যাতন, পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ ইত্যাদি সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে গণমাধ্যমগুলো এসব বিষয়ে জনমত গঠনে সাহায্য করে । যে কোনো বিষয়ে ইতিবাচক জনমত গঠিত হলে তা ঐ বিষয়ের নেতিবাচক দিক দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
. নারী বিষয়ক বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নে সহায়তা : টিভি, সংবাদপত্র, চলচ্চিত্র, ম্যাগাজিন ইত্যাদি গণমাধ্যমগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণে নারী বিষয়ক বিভিন্ন নীতি গ্রহণে সরকারকে প্রভাবিত করে থাকে। তারা বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার, পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে লেখালেখি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রভাবিত করে থাকে। একইভাবে নারী
বিষয়ক আইন প্রণয়নেও তারা সরকারকে প্রভাবিত করে থাকে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আমাদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শ হলো নারীর চেয়ে পুরুষ শ্রেষ্ঠ শারীরিক এবং মানসিক দিক দিয়ে তাই নারী পুরুষের অধস্তন। আর পিতৃতন্ত্রের এজেন্ট হিসেবে গণমাধ্যমগুলো নারীর অধস্তন অবস্থাকেই তুলে ধরে। কিন্তু গণমাধ্যম এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা সহজেই মানুষের মনের উপর প্রভাব ফেলে তার মতাদর্শ পরিবর্তন করতে পারে। তাই গণমাধ্যমগুলোই পারে সমাজের পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শগুলোকে
পরিবর্তন করে জেন্ডার সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে। আর জেন্ডার সচেতন সমাজ গড়ে উঠলে নারী উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এ বিষয়ে
কোনো সন্দেহ নেই । তাই আমাদের গণমাধ্যমগুলোকে নারী উন্নয়নে ব্যবহার করার জন্য আমাদেরই সচেতন হতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!