ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

নারীর শ্রম শক্তির উপর বিশ্বায়নের প্রভাব আলোচনা কর।

অথবা, বিশ্বায়ন কিভাবে নারীর শ্রমশক্তিকে প্রভাবিত করে? আলোচনা কর।
অথবা, নারীর শ্রম শক্তির উপর বিশ্বায়নের প্রভাব তুলে ধর।
অথবা, নারীর শ্রমশক্তির উপর বিশ্বায়নের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
অথবা, নারীর শ্রমশক্তির উপর বিশ্বায়নের প্রভাব বর্ণনা কর।
অথবা, নারীর শ্রমশক্তির উপর বিশ্বায়নের প্রভাব সম্পর্কে বিবরণ দাও।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বিশ্বায়ন পুঁজিতন্ত্রায়নেরই একটি নতুন রূপ। এটা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রক্রিয়াও বটে। বিশ্বায়ন শ্রম বাজারে নারীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিশ্চিত হলেও নিশ্চিত হয় নি তার অর্থনৈতিক অধিকার। নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও বহুমুখী বৈষম্যের শিকার হয়ে যাচ্ছে। নারীশ্রমের কোণঠাসাকরণ বিশ্বায়ন প্রসূত শ্রমবাজারে তাদের শ্রমজীবনকে উন্নত করতে ব্যর্থ হয়েছে। নারীশ্রম সস্তা হওয়ার কারণে শ্রমের নারীমুখীকরণ ঘটলেও নিম্ন পর্যায়ে তা যতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, উচ্চ পর্যায়ে সে হারে বাড়ে নি। আবার লিঙ্গ বৈষম্য অধিকতর হওয়ার কারণে নারীর নাজুকতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের বর্তমান আলোচনার মূল বিষয় হলো, বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং তার উপর বিশ্বায়নের প্রভাব।
নারীর শ্রমশক্তির উপর বিশ্বায়নের প্রভাব : বিশ্বায়ন নারীকে শ্রমশক্তিতে স্থান করে দিয়েছে, পাশাপাশি বৃদ্ধি করে দিয়েছে তার কর্মসংস্থানের পরিধিকে। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে আমাদের মাথায় যে ভাবনাটি আসে তা হলো, এর দ্বারা নারীরা উপকৃত হয়েছে। কিন্তু আসলে কি তাই? বিষয়টিকে সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ভাবলে যে চিত্র আমরা দেখতে পাই তা বড়ই নাজুক। নিচে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তব অবস্থা তুলে ধরা হলো :
১. সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা : বাংলাদেশের নারীশ্রম সহজলভ্য, সস্তা এবং নারী শ্রমিকরা বাধ্যগত শ্রমিক হিসেবে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় নারীরা একই সাথে গৃহস্থালির ও শিল্প কলকারখানার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো শহরে হওয়াতে গ্রামের প্রচুর নারীরা শহরে গিয়ে বসবাস করছে। এসব নারী শ্রমিকদের মজুরি কম হওয়াতে এবং তারা দরিদ্র হওয়ার কারণে তাদের বাসস্থানও নিম্নমানের হয়ে থাকে। তারা বস্তিতে বা শহরের জনবহুল এলাকায় বসবাস করে। আর এসব এলাকায় তাদেরকে প্রতিনিয়তই স্থানীয় মাস্ত নি ও টাউট শ্রেণির লোকদের আতঙ্কে থাকতে হয়। তারা প্রায়শই চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ইত্যাদির শিকার হয়ে থাকে। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বায়ন নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
২. কর্মপরিবেশ : নিম্ন আয়ের বেশিরভাগ নারী শ্রমিকই কলকারখানার কাজে নিয়োজিত। কিন্তু আমাদের দেশে এসব কলকারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোবাতাস, পানি সরবরাহ, বিশ্রামাগার, পৃথক টয়লেটের সুব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা, খাবার ঘরের সুব্যবস্থা নেই, যা থাকা একান্ত আবশ্যক। যার ফলে নারী শ্রমিকেরা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। পোশাক শিল্পে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেশাগত নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানা বিধি (১৯৭৯) এর বাস্তবায়ন ঘটে না বলে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে তাদেরকে নিয়োজিত করা হয় এবং সে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। পোশাক শিল্পে যে কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, বিশেষত কাপড় ও বিভিন্ন ধরনের সুতায় থাকে তন্ত্র ও ধূলিকণা এবং কাপড়ের রং যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অধিকাংশ কারখানায় অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা যথেষ্ট না থাকার কারণে অহরহই অগ্নি দুর্ঘটনা হচ্ছে।কাজেই, এখানে নারী শ্রমিকদের সর্বদাই সমস্যা জর্জরিত ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
৩. শ্রমশক্তির নারীমুখীকরণ : বিশেষ বিশেষ কাজে নারীর দক্ষতা ও পারদর্শীতা থাকার কারণে এবং আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীশ্রম সহজলভ্য হওয়ার কারণে তা অধিক মাত্রায় মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে। যার ফলে শ্রমশক্তির নারীমুখীকরণে আগ্রহ প্রকাশ করেন উন্নয়নের নীতিনির্ধারকগণ। শুধু তাই নয়, শ্রম বাজারে নারীরা খুব একটা দক্ষ ও অভিজ্ঞ না হওয়ার কারণে পুরুষের তুলনায় নারীর শ্রমশক্তি অনেক নিরাপদ। নারীরা ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে সহজে জড়িয়ে না পড়ার কারণে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি অনেক কম থাকে। এভাবেই নারীদের কষ্টের শ্রম দ্বারা লাভবান হচ্ছে একটি বিশেষ শ্রেণি । ফলে এ প্রক্রিয়ার দ্বারা নারীর কর্মসংস্থান বাড়লেও, তাদের অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে এ কথা বলা যায় না ।
৪. নারী শ্রমিকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা ও স্বল্প মজুরি : এ দেশের নারীরা সাধারণত পোশাকশিল্প, হস্তশিল্প, ইলেক্ট্রনিক্স ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মত স্বল্প মজুরির কাজে নিয়োজিত। সকল ক্ষেত্রেই নারী শ্রমিকরা একই কাজে পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম মজুরি পেয়ে থাকে এবং তাদের চাকরি হারাবার ঝুঁকি বেশি থাকে। অবস্থাদৃষ্টে এটাই
প্রতিয়মান হয় যে, Globalization নারীকে শহরাঞ্চলে রাতভর কাজ করা স্বল্প মজুরি আয়কারী শ্রমিকে পরিণত করেছে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, বিশ্বায়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যা বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষকে দারিদ্র্যের মধ্যে রাখে অন্যদিকে, কিছুসংখ্যক ব্যক্তির জন্য অপরিমিত ভোগের দুয়ার খুলে দেয়। বিশ্বায়নের ফলে সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য হয়েছে প্রকটতর। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে নারীর জীবনে। ফলে নারীর অবস্থা এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যা হতাশাব্যঞ্জক। শ্রমক্ষেত্রে নারী পুরুষ অসমতা দূর করার জন্য এবং নারীদের স্বার্থরক্ষার জন্য অবশ্যই বিশ্বায়নের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সম্পর্কে সকলকে সচেতন হতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!