Answer

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ আলোচনা কর।

অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং গৃহীত
পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত কর।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ তুলে ধর।
অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পদক্ষেপসমূহ বিস্তারিত লিখ এবং পদক্ষেপসমূহের সীমাবদ্ধতাসমূহ লিখ।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বর্তমানে সামাজিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিকসহ সকল ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী নিম্নস্তরে অবস্থান করছে। অথচ পুরুষের তুলনায় নারীর অবদান সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে কোনো অংশে কম নয়। সমাজের সার্বিক উন্নয়নে পুরুষের সাথে সাথে নারীর অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু নারীদের অবদানকে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কখনো স্বীকার করা হয়নি। বরং নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে নারীদের অধস্তন করে রাখার জন্য। বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় নানামুখী নারীর উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ : স্বাধীনতার পর ‘৭২ সালের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতেও প্রতিফলিত হয়েছে নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়টি।
১. প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) : এ পরিকল্পনার আওতায় ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ছিন্নমূল নারীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও তাদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং চাকরি প্রদান করা।
২. দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৮-৮০) : দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনায় নারী কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় ।
৩. দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮০-৮৫) : এ পরিকল্পনার আওতায় ছিল :
ক. জাতীয় উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া।
খ: দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নারীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
গ. উপার্জনমূলক কাজে নারীদের অংশগ্রহণ করানো।
৪. তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮৫-৯০) : এ পরিকল্পনার আওতায় ছিল :
ক. সরকারি চাকরিতে নারীর কোঠা ১০% থেকে ১৫% এ উন্নীত করা।
খ. নারীর স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫. চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯০-৯৫) : এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল :
ক. সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী পুরুষের সমান অধিকার ।
খ. নারীর দারিদ্র্য দূরীকরণ।
গ. নারীনির্যাতন বদ্ধ করা।
৬. পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২) : এ পরিকল্পনায় নারীকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জেন্ডার বৈষম্য কমিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক উভয় ক্ষেত্রেই নারী উন্নয়ন নীতিমালার লক্ষ্যসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে।
৭. ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫) : ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাঙলাদেশ সরকার।
৮. সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) : সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
৯. পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার (১৯৯৫-২০১০) : এ পর্যন্ত ১৫ বছরের জন্য নিম্নোক্ত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে-
ক. নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
খ. নারী উন্নয়নে NGO দের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা।
গ. CEDAW এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দান।
১০. আইনি পদক্ষেপ : বাংলাদেশ সরকার নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন রোধে প্রচলিত আইনের সংশোধন ও নতুন
আইন প্রণয়ন করেছে। এসব আইনের মধ্যে রয়েছে-
ক. মুসলিম পারিবারিক আইন (১৯৬৯),
খ. যৌতুক বিরোধী আইন (১৯৮০),
গ. বাল্যবিবাহ রোধ আইন (১৯৭৪),
ঘ. পারিবারিক আদালত আদেশ (১৯৮২),
ঙ. নারী ও শিশু নির্যাতন আইন (১৯৮৩)।
১১. জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি- ২০১১ : জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি- ২০১১ এ সরকার কতিপয় বিষয়ক প্রাধান্য দিয়েছে। এগুলো হলো-
ক. নারীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
খ.কন্যা শিশুর উন্নয়ন।
গ. নারীর প্রতি সকল নির্যাতন দূরীকরণ।
ঘ. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিস্তৃত করা।
ঙ. ক্রিড়া ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা জোরালো করা।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার যেসব পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু তারপরও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তার একমাত্র কারণ শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় বাস্তবায়ন করা হয় না। তাই এসব পদক্ষেপ যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!