ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

নারীবাদের উদ্ভব ও বিকাশ আলোকপাত কর।

অথবা, বাংলাদেশে তথা অবিভক্ত ভারতবর্ষে নারীবাদের ক্রমবিকাশ আলোকপাত কর।
অথবা, নারীবাদের উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দাও।
অথবা, নারীবাদের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশে তথা অবিভক্ত ভারতবর্ষে কখন বা কোন সময় হতে নারীবাদের ক্রমবিকাশ ঘটে আলোচনা কর।
অথবা, নারীবাদের উদ্ভব ও বিকাশের বর্ণনা দাও।
উত্তর৷ ভূমিকা :
নারীবাদ অবশ্যম্ভাবীরূপে একটি যুগোপযোগী দর্শন। এটি স্পষ্ট, সামগ্রিক মানব মুক্তিই নারীবাদের প্রধান উপজীব্য। প্রচলিত সমাজকাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই নারীবাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জস্বরূপ। এ প্রতিবাদ কখনো পুরুষ শোষণের বিরুদ্ধে, আবার কখনো Prejudicial শ্রমনীতি কিংবা ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।নারীবাদের ইতিহাসে প্রথম নারীবাদীরূপে যার নাম পাওয়া যায়, তিনি হলেন সতেরো শতকের ফরাসি নারী পলেইন ডি লা ব্যারে। সে সময়ে তিনি লেখেন, “পুরুষ কর্তৃক নারী সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে তার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে পুরুষ একই সাথে অভিযুক্ত এবং বিচারের আসনে আসীন।”
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নারীবাদের উদ্ভব ও বিকাশ : নারীবাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা পঞ্চদশ শতাব্দীতে শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। যখনই নারীরা তাদের পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে যথেষ্ট বৃহৎ পরিসরে এবং যথেষ্ট কার্যকরভাবে নিজেদেরকে সংগঠিত করতে শুরু করেছে, তখন থেকেই নারীবাদের যাত্রা শুরু। তবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, দুনিয়ার সব দেশে একই রূপে, একই মাত্রায় নারীবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছে। নানা দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় নানাভাবে নারীবাদী আন্দোলন বিকশিত হয়েছে। এ আন্দোলন কোনো কোনো সময়ে জোরেসোরে আবার কখনো ধীরগতিতে সংগঠিত হয়।
সূচনা পর্ব/প্রাথমিক পর্যায় : ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে আমাদের বাংলাদেশ তথা তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষে নারীবাদী চিন্তাচেতনা শুরু হয়। নারীর শোচনীয় দুরবস্থার বিরুদ্ধে এবং নারীর অধিকারের সপক্ষে প্রথম সোচ্চার হন একজন নারীবাদী পুরুষ রাজা রামমোহন রায়। ১৮১৮ সালে তিনি কলকাতায় সহমরণ বা সতীদাহ প্রথা বিলোপের উদ্যোগ নেন, যার ফলে ১৮২৯ সালে লর্ড বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেন। অন্যদিকে, নারীকে ধর্মশাস্ত্রের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হন আরেক মহৎ পুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি প্রথমে নারী শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘মেরি ককের সাথে মিলে মোট ৪৩টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৫০-৫৫ এ সময়ে বিধবাবিবাহের সপক্ষেও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং ১৮৬৭ সাল নাগাদ নিজে ৬০টি বিধবাবিবাহের আয়োজন করেন।
২য় পর্ব : নারী সংগঠন ও নারীদের সম্পৃকতা : ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে কৃষ্ণভামিনী দাসী, কামিনী সুন্দরী, বামাসুন্দরী দেবী, মোক্ষদা দায়িনী প্রমুখ নারীরা লেখালেখির মাধ্যমে প্রথম সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করেন। সে সময়ে ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী কবি খ্যাতি লাভ করেন এবং ১৮৭৩ সালে কুমিল্লার প্রথম বালিকা বিদ্যালয় ও ১৮৯৩ সালে জেনানা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলার প্রথম নারীবাদী সংগঠন ‘সখি সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন স্বর্ণ কুমারী দেবী ১৮৮৫ সালে এবং তিনি লাঠি খেলা ও অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীর মধ্যে দেশপ্রেম সঞ্চারিত করার চেষ্টা করেন। এ সময়ে সমাজে নানা অনুশাসনের বেড়াজাল ছিন্ন করে নারীরা ক্রমবর্ধমান হারে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে থাকে। ১৮৮৯ সালে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত ভারতীয় কংগ্রেসের সম্মেলনে ৬ জন নারী যোগদান করেন। সরোজিনী নাইডু ও সরলাদেবী চৌধুরানী প্রমুখ নারী নেত্রীরা কংগ্রেসের সভাপ্রধানের পদেও উন্নীত হন। ১৮৮৯ সালে ভারতবর্ষের প্রথম সংগঠিত নারীবাদী আন্দোলনের রূপক মহারাষ্ট্রের পণ্ডিত রমাবাঈ প্রকাশ্য আন্দোলনে নামেন এবং পুনরায় নারীমুক্তি সম্বন্ধে বক্তৃতা প্রদান করেন। অন্যদিকে, বাংলার প্রথম নারীবাদীরূপে খ্যাত সরলাদেবী চৌধুরানী ১৯১০ সালে সর্বভারতীয় নারী সংগঠন ‘ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল’ প্রতিষ্ঠিত করেন। তৎকালীন ভারতবর্ষে কতিপয় শক্তিশালী নারী সংগঠন গড়ে উঠে। যেমন-
১. ব্রাহ্মিকা সমাজ (১৮৬৪),
২. সখী সংঘ (১৮৮২),
৩. আর্য মহিলা সমিতি (১৮৮২),
৪. ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল (১৯০১),
৫. গুজরাট স্ত্রী মণ্ডল (১৯০৮),
৬. মহিলা সেবা সমাজ (১৯১৩),
৭. উইমেন্স ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন (১৯১৭)
৮. ন্যাশনাল কাউন্সিল অব উইমেন ইন ইন্ডিয়া (১৯২৬),
৯. অল ইন্ডিয়া উইমেন্স কনফারেন্স (১৯২৭),
১০. বঙ্গীয় প্রাদেশিক মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি (১৯৪৬)।
চূড়ান্ত বা সশস্ত্র সংঘর্ষ পর্ব : বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ১৯৪৭ এর ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও দেশ বিভাগ অবধি নানা নারী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং অসংখ্য নারী স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের বিভিন্ন ধারায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। এছাড়াও কমিউনিস্ট আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করে ইতিহাস রচনা করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, কংগ্রেস পরিচালিত স্বদেশী আন্দোলনে সরোজিনী নাইডু, জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলী, মাতঙ্গিনী হাজরা, সরলাদেবী, উর্মিলাদেবী, আশালতা সেন, কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়, প্রভাবতি বসু, অরুণা আসফ আলী, লীলা নাগ। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, শান্তি ঘোষ, সুনীতি চৌধুরী, রীনা দাস, ননী বালা, দুকড়ি বালা দেবী, চারুশীলা দেবী। কমিউনিস্ট ও শ্রমিক আন্দোলন- সাকিনা বেগম, প্রভাবতি দাস গুপ্ত, সন্তোষ কুমারী দেবী, দুঃখুমত বিবি। কৃষক আন্দোলন- রানী গুহ, হিরন্ময়ী ঘোষ, মনোরমা বসু, কনক মুখার্জী, হেনা দাস, চারুলতা ঘোষ প্রমুখ। ১৯১৭ সালে তৎকালীন ভারতে নারীদের ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯১৯ সালে এ দাবিতে নারীদের একটি প্রতিনিধিদল ব্রিটেনে গমন করেন। অবশেষে বাংলাদেশ তথা অবিভক্ত ভারতবর্ষের মহিলারা ১৯২৩ সালে
ভোটাধিকার লাভ করে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, নারীবাদী আন্দোলন একটি যুগের চাহিদা। মূলত পঞ্চদশ শতাব্দীতে নারীবাদী আন্দোলন শুরু হলেও বাংলাদেশে তথা অবিভক্ত ভারতবর্ষে এ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ঊনবিংশ শতাব্দীতে। আর তখন থেকে বর্তমান পর্যন্ত এদেশের নারীবাদীরা নারীমুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছে। বিশ্বায়নের এ যুগে একটি সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীমুক্তির প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যেদিন সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে, শ্রেণি শোষণহীন একটি সমাজকাঠামোতে নারী ও পুরুষ একত্রে কাজ করবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!