ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ের অঙ্গ সংগঠনগুলো কী কী?

অথবা, জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংগঠন সম্পর্কে আলোচনা কর।
অথবা, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।
অথবা, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংগঠন সম্পর্কে বর্ণনা কর।
অথবা, জাতিসংঘের নারী বিষয়ের অঙ্গ সংস্থাগুলো কী কী?
উত্তর৷ ভূমিকা :
নারীর অগ্রসরতা সংক্রান্ত কার্যক্রম ও নীতিমালা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে জাতিসংঘ কাঠামো একাধিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় অঙ্গ-সংগঠন রয়েছে। মূলত নারীদের অধিকার সম্পর্কিত সচেতনতাই
জাতিসংঘকে এ সকল অঙ্গ-সংগঠন গড়ে তুলতে বিশেষভাবে প্রণোদিত করেছে। নিম্নে সংগঠনগুলোর বর্ণনা দেয়া হলো :
ক. নারীর মর্যাদা বিষয়ক কমিশন (Commission on the status of women) : জাতিসংঘ সনদে ঘোষিত নারী ও পুরুষের সমতা সমন্বিত করার দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত তার প্রথম সভাতে ‘নারীর মর্যাদা বিষয়ক একটি উপ-কমিশন’ গঠন করে। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের ২১ জুন পরিপূর্ণভাবে নারীর মর্যাদা বিষয়ক কমিশন CSW প্রতিষ্ঠা লাভ করে। নারীর মর্যাদা বিষয়ক কমিশনের প্রধান কাজ হচ্ছে মানবাধিকারসহ নারীদের সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত বিষয়াদির ব্যাপারে অনুসন্ধান ও সুপারিশমালা তৈরি করা।
খ. নারী প্রগতি উপবিভাগ (Division for the advancement of women – সম্পর্কিত বিচার্য বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনায় রত এবং তাদের অধিকারসমূহ সম্মুখপানে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত।
DAW) : যে বিভাগটি নারী রয়েছে, সেটিই হচ্ছে ‘নারী প্রগতি উপবিভাগ’ (Division for the Advancement of Women – DAW)। সংক্ষেপে এটি ড্য (DAW) নামে পরিচিত। নারী প্রগতি উপবিভাগ এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত নারীদের উপর চারটি বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেছে। যেগুলো মূলত নারীদের মর্যাদা নির্ধারণের লক্ষ্যে নিবেদিত।
গ. সিডও কমিটি (CEDAW Committee) : নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণের অবসানের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৭৯ সালে যে কনভেনশন বা সনদ গ্রহণ করে, সেটি হচ্ছে ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বিলোপ সনদ’ বা সিডও। আর রাষ্ট্রপক্ষসমূহ এ সনদ বা কনভেনশনের শর্তাবলি মেনে চলে কি না তা পরিবীক্ষণের জন্য ২৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে, যার নাম ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য নির্মূল কমিটি’ ।
ঘ. ইউনিফেম (UNIFEM) : নারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিকল্পে জাতিসংঘ প্রকল্পগুলো হাতে নেয়, তার অর্থায়নের লক্ষ্যে, ‘নারীর জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল’ বা ইউনিফেম নামক অঙ্গসংগঠন গড়ে তোলা হয় ১৯৭৬ সালে। ইউনিফেম এর সদস দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে । ইউনিফেম বা নারীর জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল একটি স্বেচ্ছামূলক তহবিল ।
ঙ. ইনস্ট্র (INSTRAW) : ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক জাতিসংঘ ঘোষিত দশক (১৯৭৬-৮৫) এ নারীর প্রগতির জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বা ইনস্ট্র (INSTRAW) প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর ১৯৮০ সালে এ ইনস্ট্র কাঠামো বা ব্যবস্থায় একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে চালু হয়। ইনস্ট্র জাতিসংঘের শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠান।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা বলা যায় যে, নারীর অগ্রসরতা থেকে মুক্তির জন্য জাতিসংঘ নানারকম অঙ্গ- সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব গতিধারায় নারীদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় ।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!