ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা আলোচনা কর।

অথবা, গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের প্রভাব আলোচনা কর।
অথবা, গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা উল্লেখ কর।
অথবা, গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
অথবা, গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম বর্ণনা কর।
অথবা, গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের কার্যাবলি আলোচনা কর।
উত্তর৷। ভূমিকা :
প্রায় ৮৫ হাজারের বেশি গ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের এ বাংলাদেশ। এখানে আজও প্রায় ৭৮% মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং যাদের ৮০% মানুষই কৃষিজীবী । তাই একথা সর্বজনবিদিত যে, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন করতে হলে আগে গ্রাম এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের উন্নয়ন দরকার। গ্রামের সত্যিকারের উন্নয়ন করতে হলে প্রয়োজন গ্রামীণ মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণ। আর স্থানীয় সরকার যেহেতু স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে উঠা সরকার তাই গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা : গ্রামীণ উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার প্রত্যয় দুটি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সহায়তা ব্যতীত গ্রামীণ উন্নয়ন বা Rural development এর কোনো কর্মসূচিই সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। নিম্নে গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা আলোকপাত করা হলো :
১. স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ : কার্যকর গ্রামীণ উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। কেননা যাদের উন্নয়নে কাজ করা হবে তারাই কেবল ভালো জানে যে কিসে তাদের সমস্যা এবং কি করলে তাদের উন্নয়ন হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা জনগণকে ভালো মন্দ বুঝিয়ে উদ্বুদ্ধ করে।
২. অবকাঠামো নির্মাণ : গ্রামীণ উন্নয়ন করতে হলে গ্রামের অবকাঠামো যেমন- রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ এবং বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। স্থানীয় সরকার প্রথমে গ্রামের এসব সমস্যা চিহ্নিত করে, অতঃপর তারা অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি : গ্রামীণ জনগণ অধিকাংশ অশিক্ষিত হওয়ায় তারা নিজেদের জীবন ও উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন থাকে না। আর এ অসচেতনতা গ্রামীণ উন্নয়নে অন্যতম বড় সমস্যা। নির্বাচনী প্রচারণা, প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বদান, সভাসমাবেশ, শালিস ইত্যাদির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ও তাদের প্রতিনিধিরা জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
৪. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ : গ্রামীণ অধিকাংশ মানুষ চাষাবাদ করে। আর চাষাবাদে অনেক জনবল হলে সুবিধা হয়। এ ধরনের অসচেতন যুক্তির উপর ভিত্তি করে গ্রামীণ মানুষ অধিক সন্তান নেয়, যা আমাদের দেশের জনসংখ্যাবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা একদিকে এ বিপুল জনগণকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে জনসম্পদে পরিণত করতে সচেষ্ট থাকে, অন্যদিকে যাতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেজন্য পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের দোরগোড়ায় পৌছিয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৫. নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষাবিস্তার : শিক্ষা যে কোনো জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সচেতন, দায়িত্ববান, আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করতে পারে। আর এ শিক্ষার অভাব প্রকটভাবে দেখা যায় আমাদের গ্রামগুলোতে, যা তাদের উন্নয়নের বড় প্রতিবন্ধক। এ অশিক্ষিত মানুষকে অক্ষরজ্ঞান প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকারের উপর। কারণ স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণই ভালো জানেন যে কি ধরনের কর্মসূচি মানুষ গ্রহণ করবে। তাই শিক্ষার উন্নয়নে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৬. স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি : “Health is the greatest wealth.” স্বাস্থ্যহীন ব্যক্তি জীবনে উন্নতি করতে পারে না। আর আমাদের দেশের বিশেষ করে গ্রামীণ অধিকাংশ মানুষ ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী। এর কারণে কর্মে অদক্ষ এবং পরিশ্রমীও তেমন নয়, যা উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দেশের অধিকাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। তাই এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা স্থানীয় হাসপাতাল, টিকাদান কর্মসূচি ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে।
৭. কর্মসংস্থান : গ্রামীণ উন্নয়নের একটি বড় উপাদান হলো স্থানীয় যুবকদের স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টি। স্থানীয় সরকারের কিছু আর্থিক ক্ষমতা রয়েছে, যা ব্যবহার করে গ্রামের যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে।
৮. গ্রামীণ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ : গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ খুবই প্রয়োজন এবং তার সুষ্ঠু ও উপযুক্ত ব্যবহার করা দরকার। স্থানীয় সরকার গ্রামীণ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এবং এর যথাযথ ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
৯. কৃষি আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার : গ্রামীণ মানুষ আজও সে পুরানো চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায়। তারা অশিক্ষিত হওয়ায় তারা প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞ। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা মানুষকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞানদান করে।
১০. কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি : গ্রামীণ উন্নয়নের একটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি । এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার কৃষকদের উন্নত বীজ, সার, কৃষি প্রশিক্ষণ, ঋণদান ইত্যাদি নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
১১. অর্থনৈতিক উন্নয়ন : গ্রামীণ উন্নয়ন বলতে প্রকৃতপক্ষে যা বুঝায় তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি এ ব্যপারে নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারে।
১২. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠা : স্থানীয় সরকার শিল্পোন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় সরকারের বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, গ্রামীণ উন্নয়ন একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর এ কাজে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক স্থানীয় সরকারকে যথেষ্ট ও কার্যকর বাজেট প্রদান করতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!