ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

কোন বড় স্রষ্টাই তার সৃষ্টির মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েনি।”— ব্যাখ্যা কর।

উৎস : উদ্ধৃত অংশটুকু বাংলা সাহিত্যের মননশীল প্রাবন্ধিক কাজী আবদুল ওদুদের ‘বাংলার জাগরণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে।
প্রসঙ্গ : সৃষ্টির মধ্য দিয়েই আমরা স্রষ্টার মহত্ত্বের বিচার করে থাকি। কিন্তু কোনো স্রষ্টাই তার সৃষ্টির মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েনি বলে লেখক তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষণ : বাংলার জাগরণের অগ্রপথিক রাজা রামমোহন রায়। তিনি সনাতন হিন্দু ধর্মের পৌত্তলিকা ও অবতারবাদের স্থলে প্রতিষ্ঠিত করেন একেশ্বর বাদের ধারণায় ব্রাহ্মধর্ম। পরম ব্রহ্মের সান্নিধ্য লাভের পাশাপাশি জগতের কল্যাণ সাধনের জন্য তিনি ব্রাহ্মসমাজে জ্ঞানবিজ্ঞানচর্চার উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। রামমোহনের পর ব্রাহ্মধর্মের প্রচারে ও প্রসারে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। কারো কারো বিশ্বাস দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মসমাজের যে রূপ দিয়েছিলেন তা রামমোহনের উদ্দেশ্য আদর্শ থেকে পৃথক বস্তু। কিন্তু প্রাবন্ধিকের মতে তা সত্য নয় এজন্য যে, যে দ্বৈতবাদের উপর দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মসমাজের ভিত্তি পত্তন করেছিলেন রামমোহনের জীবনে তারই প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। তবে একথা সত্য যে দেবেন্দ্রনাথ অধিকমাত্রায় ইশ্বরভক্ত ছিলেন। তিনি অধ্যাত্মবাদের উপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। দেবেন্দ্রনাথের থেকে রামমোহনের চিত্তের প্রসার ছিল অনেক বেশি। তাই ভক্ত দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্মের যে-রূপ দিয়েছিলেন কর্মী জ্ঞানী ও অন্তঃপ্রবাহী ভক্তিরস সমন্বিত রামমোহনের বিরাট ইচ্ছাধারা তাতে অবলীলাক্রমে প্রবাহিত হতে পারবে তা আশা করা সঙ্গত নয়। কেননা কোনো বড় স্রষ্টাই তার সৃষ্টির মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েননি।
মন্তব্য : সৃষ্টি স্রষ্টার ছায়া মাত্র। কোন সৃষ্টিকর্তাই তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হন না।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!