ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

এলিচ রোসী (Alice Rossi) প্রদত্ত নারীমুক্তির মডেলটি আলোচনা কর।

অথবা, এলিচ রোসী (Alice Rossi) কর্তৃক নারী মুক্তির মডেলটি বর্ণনা কর।
অথবা, এলিচ রোসী কর্তৃক নারী মুক্তির মডেলটি ব্যাখ্যা কর।
অথবা, Alice Rossi প্রদত্ত নারী মুক্তির মডেলটি বিশ্লেষণ কর।
অথবা, এলিস রোসী প্রদত্ত নারী মুক্তির মডেলটির বিবরণ দাও।
অথবা, এলিস রোসী প্রদত্ত নারীমুক্তির মডেলটি আলোকপাত কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বিশ্বের যে কোনো দেশের নারীসমাজ সকল বাধাবিপত্তি কাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন সাধন করার সামর্থ্য অর্জন করবে, নিজ চাহিদা পূরণ এবং নিজ ইচ্ছা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে। নারী হবে ক্ষমতাবান। নারী ও পুরুষে ক্ষমতার বৈষম্য থাকবে না। নারীর উপর পুরুষের প্রাধান্য রহিত হবে, নারীর অধীনতা পাশ ছিন্ন হবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে ব্যবহারিক জেন্ডার চাহিদাগুলোকে প্রাধান্য ও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু
নারীমুক্তির জন্য ব্যবহারিক জেন্ডার চাহিদা পূরণ যথেষ্ট নয়। কৌশলগত জেন্ডার চাহিদা পূরণ না হলে নারী তার বৈষম্যমূলক অধস্তন অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে কখনও সক্ষম হবে না। যদি নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে কৌশলগত, জেন্ডার চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়, তবে নারীমুক্তি সম্ভব।
এলিচ রোসী প্রদত্ত নারীমুক্তির মডেল : অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীর মত এলিচ রোসী নারীর মুক্তির জন্য মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি নারীমুক্তির মডেলকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন । যথা :
ক. বহুত্ববাদী মডেল (Pluralist Model),
খ. আত্তীকরণ মডেল (Assimilation Model) ও
গ. সংকর মডেল (Hybrid Model)।
ক. বহুত্ববাদী মডেল : বহুত্ববাদ মতানুসারে রাষ্ট্রের ক্ষমতা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বণ্টন হয়ে থাকে। কারণ আধুনিক শিল্পসমাজ সমসত্ত্ব নয়, নানাগোষ্ঠী ও শ্রেণিগত স্বার্থে বিভক্ত। যথা : শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, বৃত্তিমূলক সংগঠন
১. সাংগঠনিক দিক : প্রত্যেক সংগঠনের নিজস্ব স্বার্থ ও চাহিদা আছে। পরস্পরের স্বার্থ ও চাহিদার মধ্যে বৈপরীতা রয়েছে, এমনকি সংঘাত ও দ্বন্দ্ব আছে। কিন্তু সংগঠনগুলো কেউ কারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল গোষ্ঠী বা সংগঠন সরকার গঠনে ও সরকার পরিচালনায় সমান অংশগ্রহণ করতে পারে। এটি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান প্রভাব ফেলে । এর মাধ্যমে নারীরা নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষা ও চাহিদা পূরণ করার সুযোগ পায় ।
২. নারী একটি গোষ্ঠীস্বরূপ : রাষ্ট্রের অন্যান্য গোষ্ঠীর মত নারী একটি গোষ্ঠী। নারীর নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যধর্মী স্বার্থ ও চাহিদা আছে। অন্যান্য গোষ্ঠীর মত নারীকে সরকার পরিচালনায় সমান অংশগ্রহণ ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হবে। তাছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান প্রভাবের মাধ্যমে নিজ স্বার্থ রক্ষা ও চাহিদা পূরণের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
৩. সুযোগ সুবিধার অসাম্য : বহুত্ববাদী মডেল মনে করে যে, নারী-পুরুষের সাম্য প্রতিষ্ঠায় নারী-পুরুষের সৃষ্ট বৈষম্য প্রতিবন্ধক নয়, প্রতিবন্ধক হলো সুযোগ সুবিধার অসাম্য, বৈষম্য ও অসাদৃশ্য। তাই সমান সুযোগ সুবিধা পেলে নারী তার পৃথক বৈশিষ্ট্য ও পৃথক সত্তা বজায় রেখে পুরুষের সাথে সাম্যের অবস্থান হাসিল করতে পারবে।
৪. বর্ণ ও জেন্ডার বৈষম্য : বর্ণ বৈষম্য কখনও নারীদের মুক্তি এনে দিতে পারে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গরা অশ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের উপর পৃথক সমান উন্নয়ন মন্ত্র চাপিয়ে দিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় অশ্বেতাঙ্গ শাসন প্রতিষ্ঠা করে ঐ মন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে Rossi যথার্থই বলেছেন, নারী নিপীড়ন ও শোষণের মূলভিত্তি নারী-পুরুষের মধ্যে সমাজ সৃষ্ট জেন্ডার বৈষম্য ও কর্ম বিভাজন। এ ব্যবস্থার সমাধান আশু দরকার।
খ. আত্তীকরণ মডেল : গৃহে আবদ্ধ ও ঘরের বাইরে সকল অর্থকরী কর্মকাণ্ড থেকে নির্বাসন নারীকে সর্বত্র পুরুষের উপর নির্ভরশীল করে রেখেছে। নারী হয়ে পড়েছে পুরুষের অধীন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আত্তীকরণ মডেল নারীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ভূমিকা রাখে।
১. অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ : আত্তীকরণ মডেল নারীকে অর্থকরী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে পুরুষের সমান অধিকার ও সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। এ মডেল নারীকে পুরুষের বিশেষ গুণাবলি আত্তীকরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। এ বৈশিষ্ট্যের জন্য পুরুষ অর্থকরী কর্মকাণ্ডের উপযুক্তরূপে বিবেচিত হয়। নারীকে এসব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করতে হবে। যথা : পেশা গ্রহণ করে পুরুষের ন্যায় কর্মময় জীবন ও জীবিকা আত্তীকরণ করতে পারলেই নারীকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।
২. আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত : অর্থনৈতিক কর্মজীবন লাভে নারীকে সমাজের মূল আর্থ-সামাজিক স্রোতধারার সাথে যুক্ত হবে। আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল ধারার সাথে সংযুক্ত হলে নারীমুক্তি সংঘটিত হবে। তবে মডেলটির দুর্বলতা এই যে, নারী ঘরের বাইরে, অফিসে, কারখানায় কাজ নিলে সমস্যা দেখা দিবে। কেননা, ঘরের কাজের
কি হবে এ বিষয়ে কোনো সমাধান এ তত্ত্বটি দেয় না।
৩. একাগ্রতা : কর্মস্থলে একাগ্রতা আবশ্যক। একাগ্রতা ছাড়া কর্মে নৈপুণ্য জন্মে না। পুরুষ কেবল কর্মস্থলে কাজ করে। ফলে তার একাগ্রতা ও কর্মকুশলতার অবকাশ অধিক। উভয় অঙ্গনে যুগপৎ কাজ করার ফলে নারীর মধ্যে একাগ্রতা ও কর্মকুশলতায় পুরুষের তুলনায় অনেক কম দেখা যায়। এমন পরিবেশে, কর্মপ্রাপ্তি ও কর্মে উন্নতি উভয় ব্যাপারে নারী- পুরুষের পিছনে পড়ে যেতে বাধ্য। বেতন ও পদমর্যাদায় কর্মজীবী মহিলা পুরুষের পাশাপাশি দাঁড়াতে পারবে না।
গ. সংকর মডেল : পরবর্তীতে Rossi উপরের দু’টি মডেল অগ্রাহ্য করে সংকর মডেল উপস্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, নারীমুক্তি ও নারীর অধস্তন অবস্থার বিলোপ সাধন করতে হলে নারী ও পুরুষকে হতে হবে Androgynous. নারী ও পুরুষ উভয়েই সমান এবং বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ। সংকর মডেল নারীর মুক্তি দিতে যেসব পন্থা অবলম্বন করে, সেগুলো নিম্নরূপ :
১. বৈষম্যের বিলোপ : জেন্ডার বৈষম্য নারীর পরাধীনতা ও হীনতার কারণ পুরুষের মধ্যে পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য এবং নারীর মধ্যে নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য আরোপ করে। সমাজ নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। বৈষম্য ঘুচাতে হলে নারীত্ব ও পৌরুষের সমাজ বিনির্মিত ধারণার মূলোৎপাটন করতে হবে। নারীকে শুধু নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য অর্জন করলে হবে না আবার পুরুষও শুধু পুরুষসুলভ বৈশিষ্ট্য অর্জন ও পরিশীলন করবে না। প্রত্যেক নারীর মধ্যে পুরুষ ও নারীসুলভ গুণাবলির সমন্বয় থাকবে। অন্যদিকে, প্রত্যেক পুরুষের মধ্যে নারী ও পুরুষের গুণাবলি সমভাবে বিকাশ ঘটাতে হবে।
২. ঘরে বাইরে সমদায়িত্ব ও কর্তব্য পালন : পুরুষের কর্মক্ষেত্র শুধুমাত্র জনজীবনে সীমিত থাকবে না। পুরুষকে গৃহকর্মেও অংশগ্রহণ করতে হবে। নারীকে যেমন ঘরে ও বাইরে কাজ করতে হয়, পুরুষও তদ্রূপ ঘরে ও বাইরে কাজ করবে। কারও কাজ নির্দিষ্ট থাকবে না। সন্তান পালন ও গার্হস্থ্য কর্ম পুরুষ ও নারী দু’জনে মিলেমিশে নির্বাহ করবে। ঘরে ও বাইরে নারী-পুরুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সমভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, নারীর কর্মক্ষেত্র কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির ভিতর থাকবে না। সে বহিরাঙ্গনে, জনজীবনে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুরুষের সমতালে অংশগ্রহণ করবে। সকল ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমঅধিকার লাভ করবে। নারী আয় উপার্জন করবে। পেশা বৃত্তি তথা সকল অর্থনৈতিক কর্মের দ্বারা নারী-পুরুষের জন্য সমান থাকবে। তবে একথা সত্য যে, উভয় অঙ্গনে অমানুষিক পরিশ্রমের শিকার কর্মজীবী নারী মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতি নারীমুক্তির পরিবর্তে নারীর অধিকতর অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত করবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!