ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের আগমনের ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।

অথবা, উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বর্ণনা কর।
অথবা, উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের আগমনের ক্রমবিকাশ কিভাবে আসল? তা ব্যাখ্যা কর।
অথবা, ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা
সম্পর্কে যা জান উল্লেখ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
গণতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় মাত্র কয়েক দশক পূর্বে নারীরা রাজনীতিতে প্রবেশ করে। নারী যতই অবহেলা আর বঞ্চনায় থাকুক না কেন, ধীরে ধীরে সে তার অবস্থানকে তৈরি করে নিয়েছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে। অবাক করার মত বিষয় হলো বাংলার এ নারী জাগরণের অগ্রদূত হচ্ছেন কয়েকজন পুরুষ। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দেবেন্দ্রনাথ প্রমুখ বুদ্ধিজীবীর সমাজসংস্কারের মধ্যদিয়েই নারী জাগরণের সূত্রপাত ঘটে। প্রথম দিকে পর্দাপ্রথার কারণে নারীরা তাদের আন্দোলনের জন্য প্রকাশ্যে সভাসমিতি গড়ে তুলতে বাঁধার সম্মুখীন হন। তখন অধ্যাপক রামতনু লাহিড়ীর নেতৃত্বে নারী স্বার্থ নিয়ে এগিয়ে আসেন প্রগতিকামী একদল পুরুষ।
উপমহাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের আগমনের ক্রমবিকাশ : উপমহাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের আগমনের ক্রমবিকাশ পর্যায়ক্রমে নিম্নে উপস্থাপন করা হলো :
উনবিংশ শতক : সূচনা পর্ব :
১. ১৮৬৩ সাল : সামাজিক নিপীড়ন থেকে নারীদের মুক্তির লক্ষ্যে একদল প্রগতিশীল পুরুষ কর্তৃক ভাগলপুর মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. ১৮৬৬ সাল : পুরুষের সহযোগিতায় সমিতি প্রতিষ্ঠা হলেও অল্প কয়েক বছরেই নারীর মেধা, পরিশ্রম ও স্বীয় উদ্যোগে নারী সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অবস্থা তৈরি হয় এবং নারীরা প্রথম প্রকাশ্য সভায় যোগদান করেন।
৩. ১৮৮০ সাল : বাংলার নারী আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আবির্ভূত হন। ফলে নারী অধিকারের আওয়াজ হিন্দু অন্দরমহলের পাশাপাশি মুসলিম অন্তঃপুরেও আঘাত হানে।
৪. ১৮৭৯ সাল : রাধারাণী লাহিড়ী, কাদম্বিনী বসু, কৈলাস কামিনী দত্ত, কামিনী সেন প্রমুখ এ বছরের ৮ আগস্ট বঙ্গীয় মহিলা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
৫. ১৮৮৯ সাল : (১৮৮০) বোম্বে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের পঞ্চম অধিবেশনে ৬ জন বাঙালি নারী যোগ দেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে এ্যানি বেসান্ত নির্বাচিত হন (১৯১৭) এবং তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস সম্মেলনে নারীসমাজকে উদ্দীপ্ত করে।
বিংশ শতক : রাজনৈতিক নেতৃত্বে অংশগ্রহণ পর্ব :
৬. ১৯০১ সাল : ২০০ জন নারী প্রতিনিধি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে যোগ দেন। কাদম্বিনী গাঙ্গুলী ও সরলাদেবী চৌধুরীর নাম এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ।
৭. ১৯০২ সাল : ৫০ জন নারী ন্যাশনাল সোশ্যাল কনফারেন্স প্রতিষ্ঠানের সম্মেলনে যোগ দেন।
৮. ১৯০৫ সাল : বঙ্গভঙ্গ ও এর বিরুদ্ধে গড়ে উঠা স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাবে নারীসমাজের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ৬০০ জন মহিলা এ বছর কংগ্রেসের বেনারস অধিবেশনে নারীদের আলাদা সভায় যোগ দেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বাঙালি ।
৯. ১৯০৫ সাল : একই বছর ময়মনসিংহ সুহৃদ সমিতির প্রতাপাদিত্য ব্রত এর দ্বিতীয় অধিবেশনে সরলা দেবী চৌধুরানী সভাপতিত্ব করেন এবং জাতীয় শ্লোগান হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ ঐ অধিবেশনেই প্রথম উচ্চারিত হয়।
১০. ১৯০৬ সাল : সরোজিনী নাইডু, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী প্রমুখ নেত্রী দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন এবং নারীসমাজকে যুক্ত হতে আহ্বান জানান ।
১১. ১৯০৮ সাল : মহাত্মাগান্ধীর অহিংস আন্দোলনের সমর্থনে গঠিত হয় নারী কমিটি। ক্ষুদিরামের ফাঁসি এবং ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ গানটির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গৃহকর্মের গণ্ডি থেকে নারীসমাজ তীব্র আন্দোলনের জোয়ারে বেরিয়ে আসেন।
১২. ১৯০৯ সাল : স্বদেশী আন্দোলন বরিশালের অশ্বিনী কুমার দত্তের নেতৃত্বে তীব্রতা লাভ করে। এ আন্দোলনে গৃহবধুরাও রাস্তায় মিছিলে সমবেত হয়।
১৩. ১৯১৪-১৮ সাল : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চাপের ফলে নারীসমাজের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠে। অবস্থার চাপে তারা ঘোমটার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেন এবং অন্ধকার থেকে আলোতে এসে তারা নব জীবন লাভ করেন।
১৪. ১৯১৭ সাল : সরোজিনী নাইডুর নেতৃত্বে ১৯১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর মন্টেগু চেমসফোর্ড মিশনের কাছে ভারতের বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের প্রতিনিধিরা ভোটাধিকারের জন্য স্মারকলিপি পেশ করেন। এক্ষেত্রে বেগম হযরত সোবানী মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের দাবি ছিল নারীসমাজের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মাতৃমঙ্গলের উন্নত ব্যবস্থা করতে হবে। পুরুষের সমান ভোটাধিকার নারীদেরকে দিতে হবে। ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ৬০ লক্ষ ভারতীয় নারীর ভোটাধিকার দেন।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে নারীদের আগমন ঘটে থাকে। অংশগ্রহণের কিছু সময়ের মধ্যেই নারীরা তাদের মেধা, শ্রম ও স্বীয় উদ্যোগে নারী সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অবস্থা তৈরি করে। আর এক্ষেত্রে নারীদের সাহায্য সহযোগীতা করে থাকেন কয়েকজন পুরুষ। অর্থাৎ পুরুষের সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি নারীরা উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিজেদের আসীন করে থাকে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!